ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনে ভোট আজ

শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনে ভোট আজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা থেকে দুই উপজেলার নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়েছে। যথাযথ ব্রিফিং শেষে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে এসব উপকরণ হস্তান্তর করা হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় সব উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। দুপুর ১২টা থেকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পোলিং কর্মকর্তা, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সরঞ্জাম গ্রহণ শুরু করেন। জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুরো জেলায় ৩২টি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৫ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৬ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।

শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও শেরপুর-৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী সময় পর্যন্ত মাঠে থাকবে। সব মিলিয়ে তিন স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখা হয়েছে পুরো এলাকা। দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ আসনে মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে, ৭৫১টি ভোটকক্ষে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাচন কমিশনের ১৮ জন পর্যবেক্ষক, ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনি অনুসন্ধান (ইনকোয়ারি) কমিটির ৩ জন যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর ৮টি মোবাইল টিম, ১৬ প্লাটুন বিজিবি, র‍্যাবের ১৪টি টিম এবং পুলিশের প্রায় ১ হাজার ১৫০ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। উল্লেখ্য, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুজনিত কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

বগুড়ায় উপনির্বাচনে ৫৩টি ভোট কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ : বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে ১৫০টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৫৩টিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এরমধ্যে ৫টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামানো হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) সূত্রে জানা গেছে, মোট কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৪৮টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৯৭টি সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে।

অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো হলো- বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের পুরাতন (উচ্চ মাধ্যমিক) ভবনের পুরুষ ও মহিলা কেন্দ্র, ভান্ডারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং বগুড়া করোনেশন ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পুরুষ ও মহিলা কেন্দ্র। এসব অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে প্রতি কেন্দ্রে ৬ জন করে পুলিশ সদস্য এবং ১৫ থেকে ১৬ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ৫ জন করে পুলিশ এবং ১২ থেকে ১৫ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে থাকবেন। দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরাও। এদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আট প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। গত ২ এপ্রিল থেকে তারা দায়িত্ব পালন শুরু করেছে এবং আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করবে। বগুড়া সদর উপজেলার তিনটি বেইজ ক্যাম্পে অবস্থান নিয়ে বিজিবি সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। শুক্রবার থেকে তারা সক্রিয়ভাবে টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করেছেন। এছাড়াও ৮ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টা থেকে ৯ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ট্রাক, মাইক্রো, ব্যক্তিগত গাড়ি, ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর পাশাপাশি ৭ এপ্রিল রাত ১২টা থেকে ১০ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, নির্বাচনকালীন সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তারা ২ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবেন। তিনি আরও বলেন, ভোটগ্রহণের আগে, ভোটের দিন এবং পরবর্তী সময় এই তিন পর্যায়েই বিজিবি সদস্যরা টহলসহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগসহ অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। উপনির্বাচনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপির রেজাউল করিম বাদশা (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর আবিদুর রহমান সোহেল (দাঁড়িপাল্লা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির আল আমিন তালুকদার (ফুলকপি)। জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৭৯৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ২৩৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১০ জন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত