
যুদ্ধ বন্ধে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের মধ্যে হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি বহুমুখী হুমকির মুখে পড়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল লেবাননজুড়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইরানও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিশোধমূলক হামলা পরিচালনা করেছে। এদিকে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল এখনও স্থবির হয়ে আছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে ইরান আলোচনা থেকে সরে আসতে পারে। তিনি চুক্তির বেশ কিছু সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের বিশদ বিবরণ দেন, যার মধ্যে রয়েছে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, ইরানের ভেতরে একটি ড্রোন আটক এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার অস্বীকার করা। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টাও পার হয়নি, এর মধ্যেই চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অথচ, আগামী শুক্রবার পাকিস্তানে উভয় পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এখন যুদ্ধবিরতি ও আলোচনা অযৌক্তিক- ইরানের স্পিকার : এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি বা আলোচনাকে ‘অযৌক্তিক’ বলে জানিয়েছেন ইরানের স্পিকার। বুধবার সামাজিকমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন। বুধবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দেওয়া ১০-দফা প্রস্তাবকে যুদ্ধবিরতির ভিত্তি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছিল। এই প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল লেবাননসহ সব ফ্রন্টে হামলা বন্ধ করা। কিন্তু গালিবাফ অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনটি প্রধান ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে। প্রথমত, লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলায় শত শত বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। দ্বিতীয়ত, ইরানি আকাশসীমায় ড্রোন অনুপ্রবেশের মাধ্যমে সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। তৃতীয়ত, ১০ দফার ষষ্ঠ ধারায় উল্লিখিত ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণের অধিকার প্রত্যাখ্যান করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কালিবাফ বলেন, ‘যে প্রস্তাবকে ট্রাম্প আলোচনার ‘কার্যকর ভিত্তি’ হিসেবে মেনে নিয়েছেন, সেটিই আলোচনা শুরুর আগে স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা যুক্তিবিরোধী।’ তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস ওয়াশিংটনের ‘বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ’ করার অভ্যাসের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে। এবারও সেই একই প্যাটার্নের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন। ইরানি কর্মকর্তারা পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যুদ্ধবিরতির প্রতি তেহরানের প্রতিশ্রুতি ততক্ষণই বজায় থাকবে যতক্ষণ দেশটির ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে তারা প্রতিপক্ষকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে নিয়ে যেন পুনরায় কোনো ভুল হিসাব-নিকাশ করা না হয়।
সর্বাত্মক যুদ্ধে নামার হুঁশিয়ারি ইরানের : যুদ্ধবিরতি চুক্তির তোয়াক্কা না করে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার মুখে যেকোনো মুহূর্তে ‘পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা’ বা সর্বাত্মক যুদ্ধে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বুধবার দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা এই কড়া সতর্কবার্তা দেন। প্রেস টিভিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা বলেন, বুধবার সকালে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী তা লঙ্ঘন করে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলছে- যা এখন পুরো বিশ্বের সামনে স্পষ্ট। ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তার মতে, ইসরায়েল একদিকে লেবাননে আগ্রাসন চালাচ্ছে, অন্যদিকে ইরানে হামলা করছে। তিনি মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সময় এসেছে এই আগ্রাসী শক্তিকে তার উচিত শিক্ষা দেওয়ার।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি এই যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে, তবে তার জন্য একমাত্র ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীই দায়ী থাকবে এবং ইরান নিশ্চিতভাবেই আগ্রাসনকারীকে কঠোর শাস্তি দেবে। ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তা মনে করিয়ে দেন, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত পরিসরে পুনরায় শুরু করা হয়েছিল।
চুক্তির আলোচনায় রাখা হয়নি ইসরায়েলকে : এই যুদ্ধবিরতিতে অপমানিত ও হতাশ হয়েছেন ইসরাইলিরা। কারণ, এই যুদ্ধ তারা শুরু করলেও শেষ করার ক্ষেত্রে তাদের জিজ্ঞেসও করা হয়নি, এমনকি আলোচনার টেবিলেও তেল আবিবকে রাখা হয়নি। এতে নেতানিয়াহুকে আর নায়ক নয়, বরং ভিলেন ভাবতে শুরু করেছে জনগণ। ব্যর্থতার এই হতাশা থেকে লেবাননে উন্মাদের মতো হামলা চালান নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে ইসরায়েলের সাবেক এক এমপির ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। নেসেটের সাবেক সদস্য ও আপার গ্যালিলি ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির সিইও আইনবার বেজিক চ্যানেল থার্টিন-কে বলেন, ৪০ দিনের যুদ্ধের পরও ইসরায়েল তার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো নেতানিয়াহু আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের অধীনস্থ করে তুলেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে পাঁচ সপ্তাহের যুদ্ধ আসলে কিছুই অর্জন করেনি। এ নিয়ে ইসরায়েলে ক্রমেই বাড়ছে অসন্তোষ। আইনবার বেজিক প্রশ্ন করেন, ‘আমরা কী অর্জন করেছি? নিজ ভূমির ভেতরে মৃত্যু, নিহত সৈন্য এবং হাজার হাজার বাসিন্দা যারা তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে- অথচ যুদ্ধের কোনো লক্ষ্যই পূরণ হয়নি। পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা যায়নি, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি এখনও রয়ে গেছে এবং শাসনব্যবস্থা আগের মতোই রয়েছে- হিজবুল্লাহ, হুথি ও হামাস সবাই আগের মতোই আছে।’ নেসেটের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটির সাবেক প্রধান রাম বেন-বারাক এই সংঘাতকে ‘নেতানিয়াহুর ব্যর্থতা’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির নিয়ন্ত্রণ এখন ট্রাম্পের হাতে। নেতানিয়াহু আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের অধীনস্থ করে তুলেছেন। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয় ও জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ইয়োসি শেইনও একই মত প্রকাশ করেন। তিনি চ্যানেল টোয়েলভকে বলেন, ‘ইসরায়েল এই যুদ্ধ শেষ করেনি; এটি এখানে একটি গৌণ খেলোয়াড় মাত্র। তেল আবিব মূলত এটি বাঘের পিঠে চড়ে আছে। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, বাঘের স্বার্থ আর আরোহীর স্বার্থ এক নয়। বর্তমানে ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে আসতে পারিনি।’
ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট নিক্ষেপ : ইসরায়েলি তাণ্ডবের জবাবে লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত একটি অবৈধ বসতি লক্ষ্য করে রকেট নিক্ষেপ করেছে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানায়, তারা ‘মানারা’ বসতি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘লেবানন ও তার জনগণকে রক্ষায় এবং শত্রুপক্ষ কর্তৃক যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। প্রতিরোধ যোদ্ধারা যুদ্ধবিরতি মেনে চললেও শত্রুপক্ষ তা মানেনি।’ সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘আমাদের দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই জবাব দেওয়া অব্যাহত থাকবে।’ এর আগে, ইসরায়েলি বাহিনী রাজধানী বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায়।
দাঁতভাঙা জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানি প্রেসিডেন্টের : যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে ইরান দাঁতভাঙা জবাব দেবে। বুধবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে এক ফোনালাপে পেজেশকিয়ান ইরানের লাভান ও সিরি দ্বীপে চালানো হামলার নিন্দা জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরান অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে সাড়া দেবে।’ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা জোরদার হওয়া প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য ইরানের দেওয়া ১০ দফার প্রস্তাবে লেবাননেও যুদ্ধবিরতি কার্যকরের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আলাপকালে পেজেশকিয়ান যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের ‘গঠনমূলক’ প্রচেষ্টার প্রশংসা করে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করার পরও ইরানের এই যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়া তেহরানের দায়িত্বশীল অবস্থানেরই প্রমাণ।
যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে ইরানকে ধ্বংস করার হুমকি দিচ্ছিলেন এবং অন্যদিকে দাবি করছিলেন, তেহরান নিজেই বাঁচার জন্য শান্তিচুক্তি ভিক্ষা চাচ্ছে। কিন্তু পর্দার আড়ালের হোয়াইট হাউসই একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরেই ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের ওপর চাপ দিচ্ছিল, যাতে তারা ইরানকে বুঝিয়ে যুদ্ধ থামানোর ব্যবস্থা করে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়। পাকিস্তান একটি মুসলিম দেশ এবং প্রতিবেশী হওয়ার কারণে ওয়াশিংটন মনে করেছিল, তাদের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠালে ইরান সেটা সহজে মেনে নেবে। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এই গোপন তৎপরতা চালান।
ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব : ইরানে পুনরায় হামলা চালানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ বা যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাব পাসের উদ্যোগ নিয়েছেন হাউজ ডেমোক্র্যাটরা। হাউজ মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফরিস বুধবার এক চিঠিতে এই পরিকল্পনার কথা জানান। জেফরিস জানান, প্রতিনিধি পরিষদের পরবর্তী ‘প্রো ফর্মা’ অধিবেশনে র্যাঙ্কিং মেম্বার গ্রেগ মিকসের উত্থাপিত এই প্রস্তাবটি পাসের দাবি তুলবেন তারা। তিনি বলেন, ‘যদি রিপাবলিকান নেতৃত্ব চলতি সপ্তাহে কংগ্রেসের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন ডাকতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে ডেমোক্র্যাটরা ‘সর্বসম্মত সম্মতির’ মাধ্যমে এই প্রস্তাব পাসের চেষ্টা করবে।’ ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ‘অত্যন্ত অপর্যাপ্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন নিউইয়র্কের এই ডেমোক্র্যাট নেতা। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রচেষ্টা সফল হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কারণ, মাত্র একজন রিপাবলিকান সদস্য আপত্তি জানালেই এই প্রক্রিয়া ভেস্তে যাবে।
ইসরায়েলে অস্ত্র দেওয়া বন্ধের ডাক অ্যামনেস্টির : ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে বিশ্ব যখন সতর্কভাবে স্বাগত জানাচ্ছে, তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ‘বেসামরিক নাগরিকদের দুঃস্বপ্ন আরও ভয়াবহ’ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এই পরিস্থিতিতে দেশটিতে অবিলম্বে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক হেবা মোরায়েফ বলেন, ‘লেবাননের বেসামরিক নাগরিকেরা এরইমধ্যে অসহনীয় মূল্য দিচ্ছেন।
উত্তেজনার মধ্যে সৌদি-ইরান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ : ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে উত্তেজনা কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা স্পেনের : স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস বৃহস্পতিবার বলেছেন, বুধবার লেবাননে বিমান হামলা চালিয়ে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইনের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে সদ্য হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। ইরান ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের কড়া সমালোচক হিসেবে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে স্পেন। মাদ্রিদ এই হামলাকে ‘বেপরোয়া ও অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে এতে জড়িত যেকোনো উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। আলবারেস তার দেশের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে আইনপ্রণেতাদের বলেন, ‘গতকাল আমরা দেখেছি, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কীভাবে লেবাননে শত শত বোমা ফেলেছে।’ এর আগে গতকালই আলবারেস ঘোষণা দেন, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় স্পেন তেহরানে নিজেদের দূতাবাস আবার চালু করবে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার আগে ইসলামাবাদে ছুটি : যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে আসন্ন আলোচনার আগে বৃহস্পতিবার থেকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দিনের স্থানীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছে। ইসলামাবাদ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বুধবার রাতে প্রকাশিত এক নোটিশে এই ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে নোটিশে ছুটির কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সাধারণত উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক কর্মসূচির আগে নিরাপত্তাজনিত কারণে ইসলামাবাদে প্রায়ই এ ধরনের ছুটি বা বিধিনিষেধ জারি করা হয়।