ঢাকা শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুর মৃত্যু বাড়ছে

হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুর মৃত্যু বাড়ছে

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হামের উপসর্গে রামেক হাসপাতালে মোট ৫০ জনের মৃত্যু হলো। বর্তমানে হাসপাতালে ১৩২ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত বুধবার সকাল ৮টা থেকে থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ওই চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ২৭ জন ভর্তি হয়েছে। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ২৪ শিশু। হাসপাতালটিতে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৪৭৯ জন। আর চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫০ শিশু।

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু : ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাম উপসর্গে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার সকালে নেত্রকোনা সদরের ৩ মাসের শিশুকন্যার মৃত্যু হয়। শিশুটি গত ১৭ মার্চ হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। এছাড়াও একই দিনে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ৮ মাসের এক ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই শিশুটি ১৮ মার্চ হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। তাদের হাম উপসর্গ ছাড়াও নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট ছিল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামের লক্ষণ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৬ নতুন শিশু ভর্তি হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছে ২৬ শিশু। বর্তমানে ৭৬ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত ১৭ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৩২৪ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ২৩৯ শিশু। এ পর্যন্ত ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে দুই-একজন হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি হলেও মার্চের মাঝামাঝি থেকে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালের ৬৪ শয্যাবিশিষ্ট পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে, সেখানে তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে চিকিৎসা চলছে।

খুলনা হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুর মৃত্যু : খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে শামীম নামে নয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালটির পরিচালক আইনুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার হামের উপসর্গ নিয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে শিশু শামীমকে নিয়ে তার বাবা-মা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে বৃহস্পতিবার সকালে শিশুটি কিছুটা সুস্থ হয়েছে ভেবে তার পরিবার তাকে নিয়ে পুনরায় ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তবে পথিমধ্যে শিশুটির তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাকে আবারও হাসপাতালে এনে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল পরিচালক আইনুল ইসলাম বলেন, হামের কারণেই শামীমের মৃত্যু হয়েছে এমনটা নিশ্চিত নয়। তার টনসিল ও ব্রংকাইটিস রোগের উপসর্গ ছিল। বাসায় ফেরার পথে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তার বাবা-মা তাকে পুনরায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু : সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপতালের পিআইসিইউতে (পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। শিশুটির নাম আরিশা (৫ মাস)। সে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইব্রাহিম মিয়ার মেয়ে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো হাম ও রুবেলা রোগীর প্রতিবেদনে হামের উপসর্গ নিয়ে ওই শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে সোমবার দুপুরে একই হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর (৪ মাস) মৃত্যু হয়েছিল।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক মাহবুবুল আলম জানান, বুধবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া শিশুটির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার ফলাফল এখনো আসেনি।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে নতুন করে দুজনের হাম শনাক্ত করা হয়েছে।

এ নিয়ে বিভাগে হাম শনাক্ত রোগী ৩৯ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ১০ জন, মৌলভীবাজারের ১২ জন, সুনামগঞ্জের ১১ জন ও হবিগঞ্জের ৬ জন (২ জন রুবেলা)। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৩৬ জন।

এ ছাড়া সিলেট বিভাগে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি রোগী ১০১ জন। এর মধ্যে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫৬ জন ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮ জন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত