
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের অনুরোধে শান্তি আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরও অনিশ্চয়তা কাটেনি। এ নিয়ে ইরানের আনুষ্ঠানিক কেনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্টো হরমুজ প্রণালি থেকে দুটি জাহাজ জব্দ ও তিন জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা ট্রাম্পের, অবরোধও চলবে : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পাকিস্তানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবে এবং একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত থাকবে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়ায় ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। চলতি সপ্তাহেই বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা পরিস্থিতি এখনো পরিষ্কার নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গত মঙ্গলবার ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা থাকলেও ওয়াশিংটন ছাড়েননি এবং হোয়াইট হাউজ এখন বলছে যে তার পাকিস্তান সফর বাতিল করা হয়েছে। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার জন্য প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পাঠানোর বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি ইরান। গত ৮ই এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, যার সময়সীমা গতকাল বুধবার শেষ হচ্ছে। এর মধ্যেই কোনো চুক্তি না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপ করা শুরু করে।
ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা অর্থহীন - ইরান : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই ঘোষণাকে ‘অর্থহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় মোহাম্মদী বলেন, পরাজিত পক্ষ কোনো শর্ত আরোপ করতে পারে না। তার মতে, অবরোধ অব্যাহত রাখা বোমাবর্ষণের মতোই এবং এর জবাব অবশ্যই সামরিকভাবে দেওয়া উচিত। তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা মূলত একটি আকস্মিক হামলার জন্য সময় নেওয়ার কৌশল। এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের নেতারা কোনো প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত মার্কিন সেনারা হামলা চালাবে না। তবে একইসঙ্গে তিনি জানান, ইরানের বন্দরের ওপর নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে। ট্রাম্প দাবি করেন, পাকিস্তানের অনুরোধের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মার্কিন সেনাবাহিনীকে অবরোধ বজায় রাখতে এবং সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রস্তাব জমা দেওয়া ও আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ কার্যত বাড়ানো হবে। নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ না করায় এই যুদ্ধবিরতিকে অনির্দিষ্টকালীন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে এক দিনে পণ্যবাহী তিন জাহাজে ইরানের হামলা : কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে গতকাল বুধবার অন্তত তিনটি কন্টেইনার জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র এবং যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সম্প্রতি ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রতিবাদে দেশটি এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে। ইউকেএমটিও জানায়, ওমানের উত্তর-পূর্বে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি কটেইনার জাহাজে গুলি ও রকেট-চালিত গ্রেনেড দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজটির ওপরের অংশ বা ‘ব্রিজ’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জাহাজের ক্যাপ্টেন জানান, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একটি গানবোট তাদের জাহাজের কাছাকাছি আসে এবং পরে গুলি চালায়। গানবোটে তিনজন আরোহী ছিলেন।
গ্রিস-চালিত এই জাহাজের ক্যাপ্টেন দাবি করেন, হামলার আগে রেডিওর মাধ্যমে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি, যদিও শুরুতে তাদের প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আইআরজিসি বলেছে, জাহাজটিকে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তা উপেক্ষা করে সেটি। পরে ইউকেএমটিও জানায়, ইরান থেকে প্রায় আট নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে দ্বিতীয় আরেকটি কন্টেইনার জাহাজে গুলি চালানো হয়েছে। পানামার পতাকাবাহী এ জাহাজে অবশ্য কোনো ক্ষতি হয়নি এবং এর নাবিকেরা নিরাপদ আছেন।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় তৃতীয় আরেকটি কন্টেইনার জাহাজও গুলিবর্ষণের শিকার হয়েছে। লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এ জাহাজটির কোনো ক্ষতি না হলেও সেটি মাঝসমুদ্রে থেমে গেছে। এর নাবিকেরাও নিরাপদ রয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। এখন প্রণালিটি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ব তেল বাণিজ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নিলে আবার ইসলামাবাদে বসতে রাজি ইরান : ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নিলে আবার আলোচনায় বসতে রাজি আছে তেহরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি এ কথা জানিয়েছেন। ইরানি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত ইরাভানি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পরবর্তী দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।’ তবে নতুন কোনো আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বন্ধ করতে হবে বলে শর্ত দিয়েছেন তিনি। ইরাভানি বলেন, ‘নতুন কোনো আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বন্ধ করতে হবে।’ ইরান যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র) যদি রাজনৈতিক সমাধান চায়, তবে আমরা প্রস্তুত। আর যদি তারা যুদ্ধ চায়, ইরান সেটির জন্যও তৈরি।’
ট্রাম্পের ভুয়া প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত হয়েছে ইরান - রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী : রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, ইরানকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে (য্ক্তুরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে) বিভ্রান্ত করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইরানকে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তব কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি। ল্যাভরভের মতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়েছে ইরান। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নানা বক্তব্য ও অঙ্গীকার দেখা গেলেও সেগুলোর বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই। তিনি আরও বলেন, ইরানের অবস্থান যৌক্তিক, কারণ এর আগেও তারা এমন আশ্বাসের সম্মুখীন হয়েছে। তিনি জানান, পাকিস্তানে হতে যাওয়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আলোচনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে রাশিয়া। তার মতে, পরিস্থিতি ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বহুবার পরিবর্তিত হতে পারে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যদি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালের চুক্তির মতো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, তবে তা একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ?বির?তির মেয়াদ বাড়ানোকে স্বাগত জানালেন জাতিসংঘ মহাসচিব: যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত যুদ্ধ?বির?তির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একে উত্তেজনা প্রশমনে এক ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। ?জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এক বিবৃতিতে জানান, গুতেরেস এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এটি উত্তেজনা প্রশমন এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনীতি ও আস্থা তৈরির পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। ?মুখপাত্র আরও বলেন, ‘আমরা সব পক্ষকে এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানাই। একইসঙ্গে এমন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকতে বলছি যা অস্ত্রবিরতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। একটি টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে সবাইকে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নিতে উৎসাহিত করছি।’ ?কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার বিষয়ে দুজারিক জানান, পরবর্তী আলোচনা সফল করতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে গুতেরেস পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ দ্বন্দ্ব নিরসনে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমাধানের পথ তৈরি করবে।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোয় ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানালেন শাহবাজ শরিফ : ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে শাহবাজ লিখেছেন, ‘আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে এবং ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের পক্ষ থেকে, চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর আমাদের অনুরোধ সদয়ভাবে গ্রহণ করার জন্য আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’ শাহবাজ শরিফ আরও লিখেছেন, পাকিস্তান একটি আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। তিনি আরও যোগ করেন : ‘আমি আন্তরিকভাবে আশা করি যে উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি পালন অব্যাহত রাখবে এবং সংঘাতের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার আলোচনায় একটি ব্যাপক ‘শান্তি চুক্তি’ সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে।’
যুদ্ধবিরতির সুযোগে নতুন করে অস্ত্রসজ্জিত হচ্ছে মার্কিন বাহিনী, সাজাচ্ছে রণকৌশল : ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চললেও হাত গুটিয়ে বসে নেই মার্কিন সামরিক বাহিনী। এ সময়ে নিজেদের নতুন করে অস্ত্রসজ্জিত ও প্রস্তুত করছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ তথ্য জানিয়েছে। সেন্টকম জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির এ সুযোগে মার্কিন সেনারা নিজেদের ‘রি-আর্মিং’ (অস্ত্রসজ্জিত হওয়া) এবং ‘রি-টুলিং’ (সরঞ্জাম মেরামত ও আধুনিকায়ন) করছে। সেন্টকম আরও জানায়, তাদের সেনারা সব সময় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এক সংবাদ সম্মেলনে সেন্টকমের কমান্ডার ব্র্যাড কুপার বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী বর্তমানে তাদের রণকৌশল ও কর্মপদ্ধতি নতুন করে সাজাচ্ছে। ব্র্যাড কুপার দাবি করেন, ‘বিশ্বের অন্য কোনো সামরিক বাহিনী আমাদের মতো দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারে না। যুদ্ধবিরতির এ সময়ে আমরা ঠিক সে কাজটুকুই করছি।’
ইরান যুদ্ধে প্যাট্রিয়ট, থাড ও প্রিসিশন ক্ষেপণাস্ত্রের অর্ধেকই ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ফুরিয়ে আসছে মজুত : ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে নিজেদের শক্তিশালী ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রায় অর্ধেক ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবহার করে ফেলেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস)-এর এক নতুন বিশ্লেষণকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিল এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচিত এই সামরিক অভিযানের ব্যাপকতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাস্ত্রের ভাণ্ডারে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সিএসআইএসের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের অতি উঁচুমানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘থাড’-এরও অর্ধেক ইন্টারসেপ্টরই ইতিমধ্যে ব্যবহার করে ফেলেছে।
প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’-এর মজুতেও টান পড়েছে বলে জানা গেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্রের মোট মজুতের ৪৫ শতাংশের বেশি ইতিমধ্যে যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যুদ্ধের এমন ব্যাপকতা মার্কিন বাহিনীর যুদ্ধাস্ত্রের সংরক্ষিত ভাণ্ডারে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করছে।