ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ডের জন্য টাকা ছাপব না : প্রধানমন্ত্রী

* ঢাকাকে ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রীন সিটি’ করতে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার * জলাবদ্ধতায় কষ্ট, চট্টগ্রামবাসীর কাছে প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ * হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ৩ মাস সহায়তা দেবে সরকার * তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি সমীক্ষা সমাপ্ত হয়েছে
ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ডের জন্য টাকা ছাপব না : প্রধানমন্ত্রী

ফ্যামিলি কার্ডধারী চার কোটি পরিবার এবং কৃষি কার্ডধারী পৌনে তিন কোটি কৃষককে অর্থ সহায়তা হিসাব-নিকাশ করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এটা বাজেটে কিংবা মূল্যস্ফীতিতে কোনো চাপ ফেলবে না বলে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা টাকা ছাপিয়ে দেব না।’ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে এ কথা বলেন সরকারপ্রধান তারেক রহমান। এদিন বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। এক সম্পূরক প্রশ্নে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনতে হলে বছরে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। এর প্রক্রিয়াগত ব্যয়সহ খরচ হবে ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা। আবার ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ?‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে। সেখানে সাত হাজার কোটি টাকা খরচ হবে।

এটি দেশের অর্থনীতিকে কতটুকু স্বনির্ভর করবে? এ অর্থ কি বর্তমানে চলা সামাজিক সুরক্ষা খাত থেকে কেটে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, নাকি নতুন করে এ খাতে টাকা দেওয়া হচ্ছে? সে ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি ঘটার সম্ভাবনা আছে কি না, সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে কি না, জানতে চান এনসিপির মুখ্য সংগঠক।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে ফ্যামিলি কার্ডের কথা জনগণকে বলেছিলাম নির্বাচনের আগে, সেই ফ্যামিলি কার্ডটি মানুষ গ্রহণ করেছে এবং আপনি (হাসনাত আবদুল্লাহ) নিজেও সাক্ষী। আপনার নির্বাচনি এলাকায় আপনাকেও নারীরা ঘিরে ধরেছিল ফ্যামিলি কার্ড চাওয়ার জন্য। আপনি উত্তরে বলেছেন, যে মুহূর্তে ফ্যামিলি কার্ড সরকার দেবে, আপনি চেষ্টা করবেন তাদের ডিস্ট্রিবিউট করার।’ পর্যায়ক্রমে চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর কোনো সরকারের একবারে এটা করা সম্ভব নয়। সবার তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। প্রথম পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে দেওয়া হবে। ধীরে ধীরে বাজেট তৈরি করে কার্ড দেওয়া বাড়ানো হবে। ‘সে কারণে আমাদের হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী, বাজেটের ওপর চাপ পড়ার তেমন কারণ নেই,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারপ্রধান জানান, বর্তমানে সরকারের যতসংখ্যক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প চালু আছে, তার সব কটির অর্থ সহযোগিতা যোগ করা হলে ফ্যামিলি কার্ডের পরিমাণ হবে না।

‘আমরা গবেষণা করে দেখেছি, অনেক ব্যক্তি আছেন, কয়েকটি সুবিধা একজন ব্যক্তি পাচ্ছেন। সেগুলোকে আমরা কাটডাউন করব, সব কটিকে কাটডাউন করব না। এভাবে করে ধীরে ধীরে নিয়ে যাব,’ পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। ফ্যামিলি কার্ডে বিতরণ করা অর্থ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে কীভাবে ভূমিকা রাখবে, তা-ও তুলে ধরেন তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া ব্যক্তিদের কেউ বলছেন জামা-কাপড় কিনবে, কেউ বলছে বাচ্চাদের জন্য বই কিনবে। যে মানুষগুলো পাচ্ছে, তারা ব্র্যান্ডের জিনিস ব্যবহার করে না। তারা প্রয়োজনীয় জিনিস ব্যবহার করে। তাদের ব্যবহার করা জিনিসপত্র দেশীয় কারখানায় তৈরি। ফ্যামিলি কার্ডের টাকা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ছড়াবে। এটা স্থানীয় শিল্পায়নে ভূমিকা রাখবে, কর্মসংস্থান বাড়াবে।

তারেক রহমান বলেন, ‘এটা (ফ্যামিলি কার্ড) রাষ্ট্রের একটা বিনিয়োগ, যার মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্থানীয় শিল্প গড়ে উঠবে, কর্মসংস্থান গড়ে উঠবে। তাই আমাদের হিসাব হচ্ছে মূল্যস্ফীতি বাড়বে না, বরং কমবে।’

ঢাকাকে ‘ক্লিন এবং গ্রীন সিটি’ করতে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাজধানী ঢাকাকে ‘ক্লিন এবং গ্রীন সিটি’ করতে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। গতকাল বুধবার সকালে সংসদে প্রশ্নোত্তরপর্বে ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজধানী ঢাকাকে ‘ক্লিন এবং গ্রীন’ সিটি রূপে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নানাবিধ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নাগরিক সচেতনতা ও সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের পাশাপাশি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলো (বর্জ্য ফেলার স্থান) আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ল্যান্ডস্কেপিং, সবুজায়ন সচেতনতামূলক গ্রাফিতি কাজ অন্তর্ভুক্ত করে পরিবেশসম্মতভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক কোরিয়াভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমিভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করার মাধ্যমে সকল বর্জ্যকে জিরো বর্জ্যতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করি, এ সকল কার্যক্রম ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা শহর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’ সকাল ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরপর্বের জন্যে ৪০ মিনিট নির্ধারিত ছিল। প্রধানমন্ত্রীর জন্য গতকাল বুধবার ৮টি প্রশ্ন ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদদের ২টি প্রশ্ন ও সম্পুরক প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

এ লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সেগুলো হচ্ছে : ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সমন্বিতভাবে আধুনিক বাস সার্ভিস ও ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে। বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় ঢাকার বায়ুদূষণের উল্লেখযোগ্য উৎসগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন, কনস্ট্রাকশন কার্যক্রম ও নির্মাণসামগ্রী দ্বারা বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ রোধে ঢাকার চারদিকে অবস্থিত অবৈধ দূষণকারী ইটভাটাগুলো বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগরীর বায়ুদূষণ হ্রাস করার লক্ষ্যে ঢাকার সাভার উপজেলাকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করা হয়েছে এবং উক্ত এলাকায় ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা, খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো ইত্যাদি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ঢাকা ও আশপাশের নদী, খাল ও জলাশয় দূষণরোধে তরল বর্জ্য নির্গমনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহে ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অদ্যাবধি ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানসমূহের তরল বর্জ্য পরিশোধনের জন্য স্থাপিত ইটিপির রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণের জন্য ক্যামেরা স্থাপন চলমান রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক এরইমধ্যে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু, তুরাগ নদীর দূষণের উৎস এবং প্রকৃতি নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগরে প্রবাহিত ১৯টি প্রধান খালের দূষণের উৎস এবং প্রকৃতি নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা শহরকে সবুজে আচ্ছাদিত করা, পরিবেশ দূষণ কমানো এবং নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বন অধিদপ্তর কর্তৃক ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ বিভাগ এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে যৌথভাবে রাস্তার মিডিয়ান, ইউলুপ, পন্ডিং এরিয়া এবং খালের পাড়সমূহে বৃক্ষরোপণ এবং জিরো সয়েল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রজাতির ৪১ হাজার ৫ শত ৬৫টি ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়েছে।

ঢাকা শহরের দূষণ কমানোর জন্য বিভিন্ন প্রজাতির লতা, গুল্ম ও ঘাস দ্বারা মাটি আবৃত করা হয়েছে। আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকাকে ক্লিন এবং গ্রীন সিটি রূপে গড়ে তুলতে বনায়নযোগ্য খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

জলাবদ্ধতায় কষ্ট, চট্টগ্রামবাসীর কাছে প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ : জলাবদ্ধতা কারণে কষ্টের শিকার হওয়ার চট্টগ্রাম মহানগরের বাসিন্দাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব, এই সমস্যা থেকে মানুষকে বের করে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে সরকার। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন। তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। এর আগে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘অনেক বড় ওয়াটার লগ হয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবে একটু সময় লাগবে। এই কষ্টের জন্য আমি আমার অবস্থান থেকে চট্টগ্রাম শহরে বসবাসকারী সব নাগরিকের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা চেষ্টা করছি, যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যা থেকে মানুষকে যেন বের করে নিয়ে আসা যায়।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সংবাদমাধ্যমে দেখেছেন চট্টগ্রাম শহরের একটি বড় অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে এবং মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। এই সমস্যা শুধু চট্টগ্রামে নয়, বলা যায় সারা দেশে ছড়িয়ে আছে। ঢাকা শহরেও অনেক জায়গায় বৃষ্টিতে পানি জমে যাচ্ছে। এটি অনেক দিনের সমস্যা।

সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সমগ্র বাংলাদেশে খাল খননের মাধ্যমে রিজার্ভার তৈরি করেছিলেন, একই সঙ্গে বন্যা বা জলাবদ্ধতাও দূর করেছিলেন। একই কাজে আবার ফিরে যেতে হবে। বর্তমান সরকার সে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কাজও শুরু হয়েছে।

হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ৩ মাস সহায়তা দেবে সরকার- সংসদে প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, হাওরাঞ্চলে ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চিহ্নিত করে আগামী ৩ মাস সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা দেওয়া হবে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে হাওরাঞ্চলের এক সংসদ সদস্যের কৃষকদের দুর্ভোগ তুলে ধরার পর এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ের নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে একটি সম্পূরক প্রশ্নে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছিলেন, প্রবল বর্ষণে সব হাওর তলিয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা ধান কাটতে মাঠে লড়াই করছেন। পরে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের বিষয়টি উদ্বেগের। তিন দিন আগে আবহাওয়া প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তিনি তিনটি জেলার স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, যেন পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টিপাত হলে ব্যবস্থা নেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ সকালে অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে আমি দুর্যোগব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এসেছি এবং নির্দেশনা দিয়েছি, এ তিন জেলাসহ ময়মনসিংহের কিছু এলাকা প্রবল বর্ষণে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। এসব এলাকার যেসব কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যাদের ফসল নষ্ট হয়েছে, তাদের লোকেট (চিহ্নিত) করে আগামী ৩ মাস সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করব।’

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি সমীক্ষা সমাপ্ত হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এরইমধ্যে একটি সমীক্ষা সমাপ্ত করেছে। গতকাল জাতীয় সংসদে গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন। সুন্দরগঞ্জের তিস্তা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নদী খননের পরিকল্পনা আছে কি না এবং থাকলে কবে নাগাদ শুরু হবে মাজেদুর রহমানের এ প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তা নদী দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভূ-প্রকৃতিগতভাবে তিস্তা একটি খরস্রোতা নদী। বর্ষা মৌসুমের অতিবৃষ্টিতে এ অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও নদীভাঙনের ঘটনা ঘটে। পক্ষান্তরে, শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে গিয়ে অনেক স্থানে প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির সঙ্গে ব্যাপক মাত্রায় পলি প্রবাহের কারণে তিস্তা নদী ভরাট হয় এবং একাধিক চ্যানেলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, এ প্রেক্ষিতে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এরইমধ্যে একটি সমীক্ষা সমাপ্ত করেছে। ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনে তিস্তা মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং কাজ বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। যার মধ্যে গাইবান্ধা-১ নির্বাচনি এলাকার তিস্তা নদীর অংশও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দাখিলকৃত সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কারিগরি ও আর্থিক বিষয়গুলো বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাধীন রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষার কার্যক্রম সমাপ্ত এবং কারিগরি দিক থেকে বিষয়টি ইতিবাচক হলে কাজটি বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত