ঢাকা রোববার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক নির্ভর করবে ফারাক্কা চুক্তি সম্পাদনের ওপর

বললেন মির্জা ফখরুল
ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক নির্ভর করবে ফারাক্কা চুক্তি সম্পাদনের ওপর

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এ বছরের ডিসেম্বরে। জনগণের সঙ্গে আলাপ করে তাঁদের চাওয়া অনুযায়ী অবিলম্বে এ চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে যে সুসম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার সুযোগ এসেছে, সেটা নির্ভর করবে ভারতের এই গঙ্গা চুক্তি বা ফারাক্কা চুক্তি সম্পাদনের ওপর দিয়ে। এ কথা আমি বিশ্বাস করি এবং সেই আহ্বান আমরা তাদের কাছে জানাতে চাই বাংলাদেশের স্বার্থ বিনষ্ট করে আমরা কখনই কোনো চুক্তি কাউকে করতে দেব না। এ ব্যাপারে আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন।’

ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি এ সভার আয়োজন করে।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, তারেক রহমানের সরকার বৈধ উপায়ে নির্বাচিত। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। আজ সরকারের বিরুদ্ধে কিছু শক্তি অপপ্রচার চালাচ্ছে। শুধু তা–ই নয়, তারা দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার একটা পাঁয়তারা চালাচ্ছে। অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, যাঁরা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তাঁদের অনেক বেশি সজাগ হতে হবে। শুধু সজাগ নয়, সংগঠিতও হতে হবে, যাতে কোনো রকম চক্রান্ত সরকারের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে না পারে। দেশের জনগণ কখনোই কোনো চক্রান্ত, ষড়যন্ত্রকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেবেন না।

ফখরুল বলেন, ফারাক্কা দিবস এখন প্রতিরোধের একটা প্রতীক। মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর এ আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের মানুষকে রক্ষা করা। প্রতিবেশী দেশ যে অন্যায় করেছে, সেটার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। বিশাল একটা জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তিনি এ আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।

ফারাক্কা বাঁধ নির্মিত হলে দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা বিনষ্ট হবে, জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হয়ে যাবে, তখনই ভাসানী সেসব কথা তুলে ধরেছেন, বলেন ফখরুল। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেই আন্দোলন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেছিলেন, বলেন তিনি। এ জন্য তিনি যে চুক্তি করেছিলেন, সেটা অনেকাংশে বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে গিয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক বলে মন্তব্য করেন ফখরুল। অন্যান্য যেসব শক্তি বা দেশ আছে, তাদের ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অতিথি ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী প্রমুখ। আলোচক ছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক আতাউর রহমান এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য নূরুল ইসলাম।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত