
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ঘোড়দোড় বাজার সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে অজ্ঞাত একজনের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ। লাশটি গাজীপুরে তিন সন্তান, স্ত্রী ও শ্যালকসহ পাঁচ খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ফোরকানের বলে নিশ্চিত করেছে গাজীপুর জেলা পুলিশ। নারায়ণগঞ্জ মুন্সীগঞ্জ নৌপুলিশের এসপি আলমগীর হোসেন জানান, গতকাল শনিবার দুপুর ২টার দিকে লৌহজং উপজেলার ঘোড়দৌড় পদ্মা নদীতে ভাসমান অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে। গাজীপুর পুলিশ ফোরকানের লাশ হিসেবে শনাক্ত করে। লাশ গাজীপুর নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইলিয়াস জানান, শনিবার দুপুরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় খবর পাঠানো হলে মামলার বাদী, নিহতের পরিবারের সদস্য ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লাশটি ফোরকানের বলে ধারণা করেন। নৌপুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, তবে পুরোপুরি পরিচয় নিশ্চিতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট অথবা লাশ অর্ধগলিত থাকায় সেটি না করা গেলে ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত করা হবে।
উল্লেখ্য গত শনিবার (৯ মে) সকালে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে একটি বহুতল বাড়ি থেকে ওই পাঁচ জনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তারা হলেন- গোপালগঞ্জ সদরের পাইককান্দি গ্রামের শাহাদাত হোসেন মোল্লার মেয়ে শারমিন খানম (৩০), নাতনি মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (দেড় বছর) ও ছেলে রসুল মোল্লা (২৩)। এর মধ্যে শারমিন ফোরকান মোল্লার স্ত্রী। মীম, হাবিবা ও ফারিয়া তাদের সন্তান। রসুল মোল্লা নিহত শারমিনের ছোট ভাই।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার গাজীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীন জানান, গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ পাঁচ জনকে হত্যার ঘটনায় পলাতক স্বামী ফোরকান মোল্লার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। গত সোমবার (১১ মে) মেহেরপুর সদর থানা এলাকা থেকে আসামি ফোরকানের ব্যবহৃত মোবাইলটি উদ্ধার করা হয়। এ দিন সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে ট্রাক চালকের একজন সহকারী পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি স্থানে রেলিংয়ের পাশে মোবাইলটি পড়ে থাকতে দেখে তুলে নেন। তারপর সেটি নিয়ে তিনি মেহেরপুরে চলে যান। পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তার সেটি উদ্ধার করে। তবে তার লাশ পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সুপার বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ওই হেলপার জানায়, পদ্মা সেতুতে মোবাইল পেয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের টিম পদ্মা সেতুতে যায় এবং সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ দেখে জানতে পারে প্রাইভেটকার থেকে কোনো এক ব্যক্তি পদ্মা সেতুতে নামছে। নামার পর তার হাত থেকে মোবাইল এবং ব্যাগটি রাখছে। নামার পর সে দেড় থেকে দুই মিনিট অপেক্ষা করে। ঘটনার দিন সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের ওপরে উঠে নদীতে ঝাঁপ দেয়। তবে ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তি ফোরকান কি না সেটা আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি। আমরা ভিডিও ফুটেজে এ পর্যন্ত পেয়েছি। মোবাইলটি যখন সেতুতে রাখে তখন আমরা সিসিটিভি ফুটেজে প্রাইভেটকার শনাক্ত করেছি এবং চালকের সঙ্গে কথাও বলেছি। ধারণা করা হয়, আসামি ফোরকান পূর্বপরিকল্পিতভাবে পাঁচ জনকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যার উদ্দেশে পদ্মা সেতু থেকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে।