ঢাকা রোববার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

হজের বিমান ভাড়া ১ লাখ টাকায় নামানো সম্ভব

হজের বিমান ভাড়া ১ লাখ টাকায় নামানো সম্ভব

এয়ারলাইন্সগুলোর অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করা গেলে হজের মোট ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার।

গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে ২০২৬ সালের হজ কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

হাব সভাপতি বলেন, “হজ ডেডিকেটেড ফ্লাইটের নামে বিমান সংস্থাগুলো হজযাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ৫৪ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। এই একচেটিয়া ব্যবসার কারণে সাধারণ যাত্রীরা বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন।”

তিনি দাবি করেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা গেলে আগামী বছরের হজ ফ্লাইটের টিকিট মূল্য ১ লাখ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। এতে হজের সার্বিক খরচও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে। এক প্রশ্নের জবাবে গোলাম সরওয়ার বলেন, “বিমান ভাড়া কম হলে হজযাত্রীর কোটাও পূরণ হতো। আমরা যদি টিকিটের দাম ১ লাখ টাকার মধ্যে আনতে পারতাম, তাহলে ১ লাখ ২৯ হাজার হাজি হজে যেতে পারতেন।” তিনি আরও বলেন, “টিকিটের মূল্য ও মোয়াল্লেম খরচ বেড়ে যাওয়ায় হজযাত্রীর সংখ্যা কমেছে। এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, ২০২৭ সালের মধ্যে বিমান ভাড়া আরও কমানো সম্ভব হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার চলতি বছরের হজ কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “খুব অল্প সময়ের মধ্যে মোয়াল্লেম চুক্তি, বাড়ি ভাড়া, পরিবহন ব্যবস্থা ও তাঁবু নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে হয়েছে। নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও ধর্ম মন্ত্রণালয়, হজ অফিস ও হাবের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এবারের হজ ব্যবস্থাপনা সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।” বিমানভাড়া প্রসঙ্গে ফরিদ আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশ থেকে প্রকৃত অর্থে কোনো ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইট পরিচালিত হয় না। অথচ শিডিউল ফ্লাইটকেই ডেডিকেটেড ঘোষণা করে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। বিমানভাড়া আরও যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করা উচিত।” তার মতে, হজ ফ্লাইটের সর্বোচ্চ ভাড়া ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে হওয়া উচিত। সংবাদ সম্মেলনে হাব নেতারা সৌদি সরকারের নতুন নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বিদ্যমান হজ ও ওমরাহ আইন দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। এসময় তারা জানান, ভিসা ও ফ্লাইটসংক্রান্ত জটিলতা অনেকটাই কেটে গেছে। ফলে কোটা অনুযায়ী সব হজযাত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিরাপদে সৌদি আরব পৌঁছাতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এবারের হজে বড় ধরনের ফ্লাইট শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কাও নেই বলে জানান তারা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত