
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন আমলকে ‘ফ্যাসিবাদী’ আখ্যায়িত করে সে সরকারের সময় শিক্ষা ব্যবস্থাকে অকার্যকর ও বিপর্যস্ত করে তোলার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। যখন আমরা দেখি আমাদের সামনে এত বিশাল ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, তখন আমাদের মনোবল আরো বৃদ্ধি পায়।’ গতকাল রোববার দুপুরে ঢাকায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।
জুলাই অভুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ‘কর্তৃত্ববাদী’ শাসনের অভিযোগ রয়েছে বিরোধীদের। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ঘটনাবহুল দেড় বছর পেরিয়ে সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরে। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বিএনপি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আমরা ইনশাআল্লাহ অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াব এবার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ অর্জন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে যেসব সাহসী মানুষ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদানকে সম্মান জানাতে চাইলে আমাদের একটি জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সমাজ গড়ে তুলতে হবে নিশ্চয়ই।
‘শিক্ষা-দীক্ষায়, জ্ঞান-বিজ্ঞানে, প্রযুক্তিতে নিজেদেরকে প্রস্তুত রাখতে না পারলে আমি মনে করি, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়বে।’ দেশে ‘কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা’ গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘শিক্ষক, শিক্ষিকা, শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, জাতীয় উন্নয়ন কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটি একটি সম্মিলিত যাত্রা। এই যাত্রায় বর্তমান সরকার বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, নাগরিক সমাজ এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টর সকলের সহযোগিতা আশা করে।
‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি, তাহলে আমাদের যে অগ্রযাত্রা আমরা প্রত্যাশা করি সেই অগ্রযাত্রাকে কেউ ইনশাআল্লাহ রুদ্ধ করতে পারবে না।’ তিনি এমন একটি কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেন, যেখানে শুধু সনদ দেবে না, দেশে দক্ষ মানবসম্পদও সৃষ্টি করবে, জনসংখ্যাকে জন সম্পদে রূপান্তর করবে। শুধু চাকরিজীবী নয় নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করবে, এমন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয় সামাজিক রূপান্তরেরও ভিত্তি নির্মাণ করবে। শুধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নয় জাতীয় সমৃদ্ধিও ত্বরান্বিত করবে।’ জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকার নীতির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, তার সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সমাজ গড়তে চায়, যেখানে শিক্ষা, গবেষণা, মেধা, যোগ্যতা এবং সৃজনশীলতা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।
তরুণরাই হবে সমৃদ্ধ দেশের নির্মাতা : প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের তারুণ্য এবং ছাত্র যুবশক্তিকে যদি প্রযুক্তিতে-জ্ঞানে-বিজ্ঞানে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা যায় তাহলে আমি ব্যক্তিগতভাবে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সেদিন হয়ত বেশি দূরে নয় যেদিন সমৃদ্ধ স্বনির্ভর বাংলাদেশ হয়ে উঠতে পারে বিশ্বের রোল মডেল।’
‘দেশের তরুণ সম্প্রদায়ের প্রতি আমার আহবান, নিজেদের যথাযোগ্যভাবে গড়ে তুলতে পারলে তোমরাই হবে আগামী দিনের সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশের নির্মাতা।’
ভাষা শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বাংলা এবং ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় আরেকটি ভাষা শিখতে পারলে দেশে বিদেশে কোথাও আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের সমস্যা হওয়ার কথা নয় ইনশাআল্লাহ।’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে : বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কারিকুলামে দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা অন্তুর্ভুক্তিকরণ বিষয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে সন্মাননা স্মারক ও গাছের চারা উপহার দেওয়া হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে ১২ হাজার শিক্ষককে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এই কর্মসূচির প্রতিপাদ্য- ‘কর্মমুখী শিক্ষা নেব, বিশ্বজুড়ে কাজ করব’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা বিস্তারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
সারাদেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দুই হাজারের বেশি কলেজ থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এইসব প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৪০ লাখের মতো শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। এরইমধ্যে এক কোটির বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন পর্যায়ক্রমিকভাবে।
উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনার সমস্যা নিরসন এবং শহর-গ্রামের আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৯২ সালে তৎকালীণ প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান।
এআই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত হতে হবে : চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে সরকারপ্রধান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এর অবাধ প্রসার ও ব্যবহার বর্তমানে মানুষের জন্য নানামুখী চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘অটোমেশন এবং এআই-চালিত প্রযুক্তির কারণে হয়তো অনেক পুরোনো পেশায় কর্মসংস্থান যেমন ঝুঁকির মুখে পড়েছে কিংবা অবলুপ্ত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রচুর পরিমাণ নতুন নতুন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগও হয়ত সৃষ্টি হয়েছে।’ ‘প্রযুক্তিগত বিপ্লব মোকাবেলায় সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তে বর্তমানে দক্ষতাভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং বাস্তব ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।’
শিক্ষার সংস্কার : প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমন বাস্তবতায় বর্তমান সরকার অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলামকে বাস্তবভিত্তিক, কর্মমুখী এবং প্রযুক্তিনির্ভর করার কাজ ইতোমধ্যেই শুরু করেছে।’
গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার এই সময়ে পাঠ্যক্রম পরিমার্জন এবং সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, এ কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘এটি আশার কথা, বাস্তবতা উপলব্ধি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষও এরইমধ্যেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমকে সময়োপযোগী, আধুনিক এবং বাস্তবমুখী করার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাবিষয়ক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আজকের এই অনুষ্ঠান তারই বাস্তব প্রতিফলন বলে মনে করি আমি।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষা শুধু ব্যক্তির পরিবর্তনের জন্যই নয়, বরং বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা তৈরিরও প্রধান নিয়ামক। ফলে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তি নির্ভর এবং কর্মমুখী করতে শিল্পখাত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি একাডেমিয়া লিংকেজ বাধ্যতামূলক করা সম্ভবত এখন সময়ের দাবি।’
নৈতিক শিক্ষার প্রসঙ্গে : মানবিক মানুষ হয়ে ওঠার জন্য নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তি নির্ভরতা, দক্ষতা এবং আধুনিকায়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণ, এসব বিষয়ের প্রতি আরো অধিক গুরুত্ব দেবেন, যত্নশীল থাকবেন।’
বেকার সমস্যার কারণ কি : প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে লাখ লাখ শিক্ষার্থী পাস করে বের হলেও অনেকের বেকার থাকার প্রসঙ্গও টানেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘এর কারণ হিসেবে অনেকেই মনে করেন, সর্বোচ্চ একাডেমিক সার্টিফিকেট অর্জন করলেও ব্যবহারিক, প্রায়োগিক কিংবা প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ। ‘পরিস্থিতি বিবেচনা করে, উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করার লক্ষে বর্তমান সরকার এপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ড্রাষ্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে চায়।’ প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এর ফলে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থী অবস্থাতেই কর্মদক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হবেন। ফলে শিক্ষাজীবন শেষে তাকে আর বেকার থাকতে হবে না।’
এছাড়াও সরকার ক্যাম্পাস থেকেই ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা তৈরির বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, এরই অংশ হিসেবে সরকার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া’ বাণিজ্যিকীকরণ করতে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় তহবিল বা অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে অনেক আগ্রহী তরুণ উদ্যোক্তা নতুন এবং সৃজনশীল ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়ন করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সক্ষম হবেন, সরকারের এমন আশার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমাণ। অনুষ্ঠানে সভাপত্বি করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এএসএম আমানুল্লাহ। সেখানে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান।
আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদ : শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের আসামি শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার প্রশংসা করেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোববার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘একটি নৃশংস ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত পরিচালনা, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে।’ প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে এবং দোষী ব্যক্তিরা প্রচলিত আইন অনুযায়ী উপযুক্ত শাস্তি পাবে। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একই ধরনের পেশাদারি ও নিষ্ঠা বজায় রাখার আহ্বান জানান। সভায় উপস্থিত সদস্যরা এ ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও অপরাধ দমনে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।