
খুলনায় রফিকুল ইসলাম (৩৫) নামের এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের লবণচরা থানার মাথাভাঙা এলাকার কাজীপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রফিকুল ইসলামের বাড়ি বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নে। তিনি বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া তিনি ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ‘ঢাকাইয়া রফিক’ নামেও পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা ও সংসদ সদস্যের সঙ্গে তাঁর ছবি রয়েছে। বটিয়াঘাটার জলমা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আসাবুর রহমান হাওলাদার বলেন, রফিকুল ইসলাম বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন। তাঁর ফেসবুক আইডিতেও একই পরিচয় দেওয়া আছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লবণচরা থানার কাজীপাড়া বাজারে রফিকুল ইসলাম বসে ছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে এসে হেলমেট পরা এক দুর্বৃত্ত তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাঁর লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ বিভাগ) রেজাউর রহমান বলেন, ‘আজ দুপুর সাড়ে ১২টার পর লবণচরা থানার প্রত্যন্ত এলাকার একটি বাজারে রফিকুল ইসলাম বসে ছিলেন। একটি মোটরসাইকেলে এসে হেলমেট পরা এক দুর্বৃত্ত তাঁর তলপেটে গুলি করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’
রেজাউর রহমান আরও বলেন, ‘নিহত রফিকুল ইসলাম বেশির ভাগ সময় ঢাকায় থাকতেন। মাঝেমধ্যে এলাকায় আসতেন। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে তিনি পাথরের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। দুর্বৃত্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে।’
খুলনা মহানগরে বর্তমানে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদককারবার দমনে বিশেষ যৌথ অভিযান চলমান। এর মধ্যেই প্রকাশ্যে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে খুলনা নগরে ১৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর সংঘটিত ৩৪টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।