
জাতীয় সংসদের বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী নতুন অর্থবছরের বাজেটকে চানাচুরের সঙ্গে তুলনা করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘জনগণের জন্য যেই বাজেটে সব ব্যবস্থা রেখেছি, সেই বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে, তারা কি কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে? তারা কখনও জনগণের বন্ধু হতে পারে না।’ গতকাল বুধবার দুপুরে শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কার্যক্রম শুরু করা হয়। গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকে বলেছে সেই বাজেট বলে তারা মানে না। দেখেছেন না পত্রিকায়? সংবাদে? ‘আবার অনেকে বলেছে, এই বাজেট নাকি চানাচুরের মতন! শুনেছেন এই কথা? কিছু কিছু লোক বলেছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘যেই বাজেট জনগণের বাজেট, যেই বাজেটের মাধ্যমে আমরা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই, সেই বাজেটকে তারা চানাচুরের সঙ্গে তুলনা করে, সেই বাজেটকে তারা বলে গণবিরোধী বাজেট!’
সংসদের বাইরে ও ভেতরে ওইসব সমালোচকদের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই সব লোকেরা, এই সকল দলগুলো দেশে যদি অশান্তি করার সুযোগ পায়, তাহলে আমরা ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করতে পারব না। আজকে প্রতিবন্ধী মানুষগুলোকে যে আমরা সহযোগিতা করলাম, এই যে গরিব ছাত্র স্টুডেন্টগুলোকে যে আমরা সহযোগিতা করলাম, এই যে আমরা নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উপর থেকে যে ৬০টি দ্রব্যের উপর থেকে যে আমরা ট্যাক্স তুলে নিতে পারলাম- এটি আমরা তাহলে কন্টিনিউ করতে পারব না।
‘কাজেই যারা এসব কাজে বাধা দেবে, কী ব্যবস্থা করা উচিত তাদের বিরুদ্ধে? সতর্ক থাকতে হবে তাদের বিরুদ্ধে এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ শ্রীমঙ্গলের এই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী।
বিগত আওয়ামী লীগ আমলের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘জনগণের অর্থ জনগণকে না দিয়ে একটি দল বিদেশে পাচার করে দিয়েছিল। প্রিয় ভাই-বোনেরা, যারা বলে কোত্থেকে আসবে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা, কোত্থেকে আসবে কৃষক কার্ডের টাকা, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- এই জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না আমরা!
‘জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করা হবে, জনগণের অর্থ দিয়ে দেশের জন্য কাজ করা হবে, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে, জনগণের জন্য কাজ করা হবে। কাজেই ইনশাআল্লাহ টাকার কোনো অভাব হবে না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, যারা এই দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে, যারা এই দেশ থেকে টাকা বাইরে পাঠাতে চায়, জনগণের অর্থ টাকা বিদেশে পাঠাতে চায়, আমরা আজ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব।’
‘আমরা যদি সকলে চোখ কান খোলা রাখি, তাহলে এই দেশের মানুষের অর্থ-সম্পদ কেউ বিদেশে পাচার করতে পারবে না এবং সেই টাকা দিয়ে আমরা সকল মিলে পরিশ্রম করব এবং সেই অর্থ দিয়ে আমরা দেশ এবং দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করব।’ গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে সিলেট অঞ্চলে ভোটের প্রচারে এসে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সে কথা মনে করে বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, ‘আমি আমার কথা আজকে রাখতে পেরেছি। চা-বাগানের যারা নারী শ্রমিক আছেন, তাদের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়েছি আজকে।’
‘হ্যাঁ, আমরা হয়তো আজকে সবাইকে দিতে পারিনি, কিন্তু ইনশাআল্লাহ আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা প্রায় সকল নারী শ্রমিকের কাছে, চা-বাগানের সকলের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব ইনশাআল্লাহ।’
বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এ অনুষ্ঠান। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রথমে জাতীয় সঙ্গীত এবং পরে বিএনপির দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে ১০ জন পরিবারের প্রধান নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কম্পিউটারের বোতাম চেপে ফ্যামিলি কার্ড তৃতীয় পর্যায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। সেই সঙ্গে চা শ্রমিক আবাসন সমস্যা সমাধানে শ্রমিকদের দুই লক্ষ টাকার করে অনুদান, চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বৃত্তি প্রদান, প্রতিবন্ধীদের জন্য আর্থিক অনুদানের চেক দেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, তার সরকার মনে করে, পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য সাহায্য করা না গেলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
‘আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট- বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা এবং সে কারণেই আজকে শুধু ফ্যামিলি কার্ডই নয়, এই যে চা-বাগানের শ্রমিক নারী শ্রমিক যারা, তাদের ৫০ জন শ্রমিককে ঘর বানানোর জন্য ২ লাখ টাকা আমরা দিয়েছি।
‘চা-শ্রমিকরা অত্যন্ত কষ্টে থাকে আমরা জানি, ধীরে ধীরে তাদেরকে একটু ভালো অবস্থায় যাতে আনা যায়, সেই জন্য আমরা ২ লাখ টাকা করে দিয়েছি।’ এর বাইরেও চা-শ্রমিকদের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য বিশেষ বৃত্তি দেওয়ার কথাও সরকারপ্রধান বলেন। অনুষ্ঠানে কয়েকজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়া দেওয়া হয়। পাশাপাশি দেশের কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে বাজেট অর্থ বরাদ্দ রাখার কথা, আগামী ১ বছরে দেশের ৪০ লাখ কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও প্রধানমন্ত্রী বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে আমাদের প্রথম ঠিকানা, বাংলাদেশই হচ্ছে আমাদের শেষ ঠিকানা। আমাদের একটাই কাজ, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন।
‘আসুন এদেশ আমাদেরই গড়তে হবে। এ দেশ আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে। তাহলেই আমরা এই বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারব।’
সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফরজানা শারমিন, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম নয়ন, মৌলভীবাজার ৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রাণালয়ের অতিরিক্তি সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস এবং ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের মধ্যে শিউলী রানী দাস ও ওয়াজেদা বেগম অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
হামে শিশুমৃত্যুর দায় কার? ‘পর্যালোচনার’ কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী : দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সাড়ে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দায় কার, সেই প্রশ্নে ‘পর্যালোচনা’ করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বুধবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গেল ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সাড়ে ছয় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার বেশির ভাগই শিশু। সংসদে এ তথ্য তুলে ধরে জামালপুর-৩ আসনের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল জানতে চান, এই মৃত্যুর দায় কার এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টিকা সংগ্রহ পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তনের ফলে টিকাদান কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।’
‘পর্যালোচনায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে টিকা সরবরাহ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা, মজুদ ব্যবস্থাপনা, রোগ নজরদারি, দ্রুত প্রাদুর্ভাব শনাক্তকরণ ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, দেশে হামের টিকাদানের আওতা বাড়াতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষার আওতায় আনতে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনপ্রিয় স্লোগান ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’-এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের মূল লক্ষ্যে হলো- একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু, প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃষককেন্দ্রিক আধুনিক কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলা। যেখানে উৎপাদন ও বিপণন হবে সম্পূর্ণ তথ্যচালিত, আমাদের প্রান্তিক কৃষক হবেন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা এবং কৃষি খাত হবে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি। গতকাল বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। এদিন প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজা প্রশ্ন রেখে বলেন, আমাদের কৃষিনির্ভর এই বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও মেহনতি কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের জনগণ কর্তৃক সাদরে গৃহীত আপনার বহুল জনপ্রিয় স্লোগান ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ কর্মসূচির আওতায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে? এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে কৃষিতে অভূতপূর্ব বিপ্লব সাধনে আমরা আশান্বিত হতে পারি কি না?
জবাবে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের মূল লক্ষ্যে হলো- একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু, প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃষককেন্দ্রিক আধুনিক কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলা। যেখানে উৎপাদন ও বিপণন হবে সম্পূর্ণ তথ্যচালিত, আমাদের প্রান্তিক কৃষক হবেন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা এবং কৃষি খাত হবে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি।
কৃষিক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকদের ইউনিক পরিচয় নিশ্চিত করতে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্প মূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রদানের লক্ষ্যে চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল থেকে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ৮ বিভাগের ১০ জেলার ১১ উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এ কার্যক্রম সম্পাদন করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ৮৩২টি কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। সরকার এরই মধ্যে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্যখাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করেছে। এ লক্ষ্যে সরকার চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বাজেট বরাদ্দ করেছে। ফলে সারা দেশের প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ জন কৃষক উপকৃত হবেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে, জলাবদ্ধতা নিরসন হবে, সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা সুরক্ষিত হবে। ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি এবং এমওপি সার অত্যন্ত সুলভমূল্যে সরাসরি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিএডিসির মাধ্যমে উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল বীজের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
উচ্চ ফলনশীল ও প্রতিকূলতা সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি স্মার্ট কৃষি ও প্রিসিশন এগ্রিকালচারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ও গম সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং দেশব্যাপী ‘কৃষকবাজার’ স্থাপন করা হচ্ছে।
কৃষি খাতে সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস এবং ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়াল প্রশ্ন রেখে বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিশ্বের ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের মধ্যে অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা এবং বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কি না?
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, ঘনবসতি, বিস্তৃত নদ-নদী ব্যবস্থা এবং উপকূলীয় বৈশিষ্ট্যের বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, আকস্মিক বন্যা, নদীভাঙন, খরা, অতিবৃষ্টি, বজ্রপাত, তাপ ও লবণাক্ততার মতো দুর্যোগের প্রকোপ ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মানুষের জীবন- জীবিকা, কৃষি, অবকাঠামো, পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা পানিসম্পদ খাতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নদীভাঙন রোধ, বন্যায় সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিজমিতে লবণাক্ততা হ্রাসকরণ অন্যতম।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তারেক রহমান। এর মধ্যে রয়েছে- আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট কর্তৃক জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রশিক্ষণ এবং সম্পসারণ কার্যক্রম অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যেমন- উপকূলীয় জেলাগুলোতে গ্রামীণ প্রাকৃতিক জলাধার গড়ে তোলা হবে, যাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে পানীয়জলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
তিস্তায় আরেকটি ব্যারাজ নির্মাণে পরীক্ষা- নিরীক্ষা চলছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তিস্তা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে আরও একটি ব্যারাজ নির্মাণের কারিগরি ও আর্থিক বিষয়গুলো বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে লিখিতভাবে এ তথ্য জানান তিনি। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি সমীক্ষা এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনে তিস্তা মহাপরিকল্পনার আওতায় ১১০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বাঁধের ওপর সড়ক নির্মাণ, ৬৭টি গ্রোয়েন/স্পার নির্মাণ ও মেরামত এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।
জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) বাস্তবায়ন করে আসছে। হামের প্রাদুর্ভাবের কারণ, বিস্তার এবং টিকাদান কার্যক্রমের ওপর বিভিন্ন নীতিগত ও পরিচালনাগত বিষয়ের প্রভাব নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা হয়। তিনি বলেন, ইপিআই কর্মসূচির আওতায় টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং প্রচলিত সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে সম্পাদিত হয়ে থাকে। টিকা সংগ্রহ পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তনের ফলে টিকাদান কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। পর্যালোচনায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সরকার এরই মধ্যে টিকা সরবরাহ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ, টিকা মজুত ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ, রোগ নজরদারি কার্যক্রম সম্প্রসারণ, দ্রুত প্রাদুর্ভাব শনাক্তকরণ ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় আরও সুদৃঢ় করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এছাড়া, দেশে হামের টিকাদানের আওতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষার আওতায় আনতে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুলুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লিখিত ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। সরকার বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা দিতে বদ্ধ পরিকর। তিনি বলেন, পাবনা মানসিক হাসপাতালকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তর করে একটি পূর্ণাঙ্গ মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কর জিডিপি ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পর্যাক্রক্রমে জাতীয় মহাসড়কগুলোতে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড এবং সড়কের উপর চাপ কমানোর জন্য মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা; সব শ্রেণির মহাসড়কে ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং স্মার্ট মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা; সব ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; ঢাকার ওপর চাপ কমাতে রিং রোড এবং রেডিয়াল নেটওয়ার্ক তৈরি এবং যানজটপূর্ণ ইন্টারসেকশনগুলোতে প্রয়োজনীয় স্ট্রাকচার নির্মাণ করে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা। তিনি বলেন, নির্মাণাধীন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রেলপথে যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনা, নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ নিশ্চিত করতে প্রধান প্রধান রুটসমূহে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রেলওয়ে সেবাকে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জেলা ও প্রধান শহরগুলোর দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। ক্রমান্বয়ে আন্তঃনগর ট্রেন ও কমিউটার ট্রেনের সংখ্যা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে যথাক্রমে ৩টি ও ১০ টি, ১৫ ও ১৬টি এবং ১০৩টি ও ৮৫টি করে বৃদ্ধির জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
ভোলা-৪ আসনের মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক ও শ্রম কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে দক্ষ মানব সম্পদ উন্নয়ন, নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, অভিবাসন-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মাধ্যমে বাংলাদেশের শ্রমবাজারকে আরও গতিশীল ও টেকসই করে তুলতে আমাদের সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
সরকার দলীয় এমপি শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা ওয়াসা প্রায় ৬৫-৭০ শতাংশ পানি ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে এবং বাকি ৩০-৩৫ শতাংশ ভূ-উপরিস্থ উৎস (যেমন- পদ্মা, মেঘনা এবং শীতলক্ষ্যা নদী) থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম ওয়াসার মাধ্যমে সরবরাহ করা পানির প্রায় ৯২ শতাংশ নদী ও জলাধারের মতো ভূ-উপরিস্থ থেকে সংগ্রহ করা হয়। বাকি ৮ শতাংশ পানি গভীর নলকূপ বা ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে। রাজশাহী ওয়াসার ২ শতাংশ ভূ-উপরিস্থ এবং ভূগর্ভস্থ ৯৮ শতাংশ পানি সরবরাহ। খুলনা ও বরিশাল বিভাগীয় শহরে নদীর পানিতে লবণাক্ততা বড় সমস্যা বিধায়, ভূ-উপরিস্থ পানির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বড় ধরনের ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং বিকল্প জলাধার তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। সিলেট ও ময়মনসিংহে তুলনামূলকভাবে পাহাড় ও নদীবেষ্টিত হওয়ায় এই এলাকাগুলোতে ভূ-উপরিস্থ পানির প্রাপ্যতা বেশি হলেও পানি দূষণ রোধ করে সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিভাগীয় শহরে ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তনে ভূ-উপরিস্থ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ের সেবা কেন্দ্রসমূহে মেডিকেল অফিমার এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সেবাকেন্দ্রসমূহে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৭ হাজার ৮৭০টি অনুমোদিত পদ রয়েছে। যার মধ্যে ১১ হাজার ৫০১টি পদে জনবল আছে এবং ৬ হাজার ৩৫৯টি শূন্য পদ রয়েছে।
গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীতে হজের খরচ কমানোর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। হজ পালনের ব্যয় কমাতে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ২০২৫ সালে হজের সর্বনিম্ন প্যাকেজ ছিল ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা। ২০২৬ সালে হজের খরচ ১১ হাজার ৭৫ টাকা কমানো হয়েছে, যার সুফল হজযাত্রীরা পেয়েছেন। বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও সৌদি পর্বের ঘোষিত ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য ২০২৭ সালের প্যাকেজ মূল্য কমানো বা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।
৫ বছরের মধ্যে কর জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব : কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর জন্য কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াসহ জাতীয় সংসদে একগুচ্ছ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে কর জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে। আর ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। গতকাল বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ মো. আব্দুল্লাহ্ এর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। নির্ধারিত প্রশ্নের জবাব টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ মো. আব্দুল্লাহ্ প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, ২০২৪-২৫ অর্থবছর অনুযায়ী বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৭ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে, যেখানে নেপালে এই হার প্রায় ২৩ দশমিক ১ শতাংশ, যা ছোট অর্থনীতি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের চাইতে অনেক বেশি। বাংলাদেশের এই সমস্যা সমাধানে কোনও পরিকল্পনা নেওয়া হবে কি না? লিখিত জবাবে তারেক রহমান বলেন, দেশে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এরই মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি মিডিয়াম অ্যান্ড লং-টার্ম রেভিনিউ স্ট্র্যাটেজি (এমএলটিআরএস) গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর-জিডিপি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভাগের অ্যান্ড-টু-অ্যান্ড ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। অনলাইন উৎসে কর কর্তন ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় কর ছাড় ও কর অব্যাহতি কমিয়ে রাজস্ব ব্যয় হ্রাস করা হচ্ছে। কর আইন সরলীকরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ ও কর ঝুঁকি নির্ধারণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন শিল্প খাতভিত্তিক গড় সূচক ব্যবহারপূর্বক ঝুঁকি-ভিত্তিক নিরীক্ষা ও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। করদাতার তথ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, করদাতাদের জন্য এআইভিত্তিক অনলাইন সেবা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। কর আইন প্রতিপালনে সচেতনতা বৃদ্ধিকল্পে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ট্যাক্স এক্সপেন্ডিচার পলিসি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক ২০২৬ প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নপূর্বক ট্যাক্স এক্সপেন্ডিচার যথা সম্ভব কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট, মামলা ও বকেয়া, নিলাম, ব্যাংক গ্যারান্টি নগদায়ন, অনিস্পন্ন চালান, ডিফার্ড পেমেন্ট ইত্যাদি খাত হতে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এছাড়া ন্যাশনাল ট্যারিফ পলিসি ২০২৩ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা এবং কাস্টমস স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান ২০২৪–২০২৮ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী লিখিত জবাবে বলেন, আশা করি এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে ৫ বছরের মধ্যে কর জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে। অধিকন্তু ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন- স্ট্রেংথেনিং ডোমেস্টিক রেভিনিউ মোবিলাইজেশন প্রজেক্ট বাস্তবায়ন, কর অব্যাহতি পর্যায়ক্রমে যৌক্তিকীকরণ ইত্যাদি।