ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বাংলাদেশে পুশইন বন্ধের আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

বাংলাদেশে পুশইন বন্ধের আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

ভারত থেকে বাংলাভাষীদের, বিশেষ করে মুসলমানদের কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানধাবিকার সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, একদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এসব মানুষকে জোর করে ঠেলে দিচ্ছে, অন্যদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের ঠেকিয়ে দিচ্ছে। ফলে দুই দেশের ‘শূন্যরেখায়’ চরম দুর্ভোগে আটকে আছে বেশ কিছু পরিবার।

বিজিবির তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, গত ১ জুন থেকে শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে পুশইন করার অন্তত ২১টি চেষ্টা নস্যাৎ করেছে তারা। এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, ‘ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিষ্ঠুরভাবে পরিবারগুলোকে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বা সীমান্তে আটকে রাখছে। এক্ষেত্রে ন্যূনতম মানবাধিকারের ধার ধারা হচ্ছে না।’ তিনি ভারত সরকারের প্রতি এই বেআইনি বহিষ্কার বন্ধ এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানান। পাশাপাশি মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের অবসানের দাবি জানান তিনি। এইচআরডব্লিউ ৯ জন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যারা বিএসএফকে রাতে কাঁটাতারের বেড়া কেটে লোকজনকে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করতে দেখেছেন। বিজিবির বাধার মুখে কয়েক দিন শূন্যরেখায় আটকে থাকার পর বেশ কয়েকটি পরিবারকে আবার ভারতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে বিএসএফ।

ভোটার তালিকা থেকে বাদ ও পুশইন : এইচআরডব্লিউ বলেছে, মার্চে অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভারতের নির্বাচন কমিশন একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয়। তারা তড়িঘড়ি করে ৯০ লাখ মানুষের নাম বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে। নাম বাদ পড়া এই লোকজন এখন আটক বা বহিষ্কারের ঝুঁকিতে আছেন। এর আগে ২০১৯ সালে আসামে বৈষম্যমূলকভাবে নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৯ লাখ মানুষ রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়েছিলেন।

ভারত সরকার দাবি করছে, বাংলাদেশিরা অবৈধভাবে সেখানে বাস করছেন এবং তারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চাইলে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে এইচআরডব্লিউর ভাষ্য হলো, স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হলেও জোর করে কাউকে তাড়িয়ে দেওয়া বেআইনি। কাউকে তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও নথিপত্র কেড়ে নিয়ে বের করে দেওয়া যায় না।

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের আটককেন্দ্রগুলোতে শত শত মানুষকে ধরে এনে রাখা হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই মুসলিম। এইচআরডব্লিউ বলছে, ধর্ম পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত না করার আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ভারতের রয়েছে। কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া শিশুসহ পরিবারগুলোকে খাবার, পানীয় এবং চিকিৎসাসেবা ছাড়া খোলা মাঠে ফেলে রাখা চরম নিষ্ঠুরতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন। মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, ‘জাতীয়তা যা-ই হোক না কেন, সশস্ত্র সীমান্তরক্ষীদের মাঝখানে খোলা মাঠে কাউকে রাত কাটাতে বাধ্য করা উচিত নয়। ভারতকে এই অমানবিক কাজ বন্ধ করতে হবে।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত