ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি হবে, সম্মত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি হবে, সম্মত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রথম পর্বের আলোচনা সোমবার শেষ হয়েছে বলে মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন। হরমুজ প্রণালী আবার বন্ধ করে দেওয়ার তেহরানের ঘোষণা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে ফের হামলা শুরু করার হুমকির কারণে একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, জানিয়েছে রয়টার্স। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি করতে একটি রোডম্যাপে সম্মত হয়েছে। চলতি সপ্তাহের বাকি সময় ধরে কাতারি মালিকানাধীন সুইস পর্বত ব্যুরগেনস্টকের রিজোর্টে দুই পক্ষের মধ্যে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে। যৌথ বিবৃতিটি কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পক্ষগুলো লেবাননে লড়াই শেষ করার একটি প্রক্রিয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে ব্যাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে একটি যোগযোগ লাইন চালু করেছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। এতে এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও অন্তত ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে দুপক্ষ সম্মত হয়। গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ওই সমঝোতা স্মারকের শর্তের আলোকে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন। এই আলোচনা সোমবারের প্রথম কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

সামাজিকমাধ্যমে এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, তার দেশ তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির জন্য ছাড়, জব্দকৃত কিছু সম্পদের অবমুক্তি এবং ইরানের জন্য একটি পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা চালু করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা এখনকার মতো শেষ হয়েছে কি না, রয়টার্সের এমন প্রশ্নে হোয়াইট হাউজ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। সুইজারল্যান্ডে আলোচনার বিষয়ে মার্কিন ও ইরানি সূত্রগুলো পৃথক বিবরণ দিয়েছে।

ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম অবগত একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার পর যেখানে আলোচনা হচ্ছিল ইরানি প্রতিনিধি দল সেই ঘরে ফিরতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে কাতারি ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত থাকে। তাসনিমের সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরানিরা জানায় যে পারমাণবিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হলে সমঝোতা স্মারকের অন্য অংশগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে, যার মধ্যে জব্দকৃত সম্পদের অবমুক্তি ও ইরানের তেল রপ্তানিতে মার্কিন বাধা অপসারণ অন্যতম।

এই আলোচনায় যুক্ত এক মার্কিন কূটনীতিক রয়টার্সকে বলেন, ‘ইরানিরা কখনোই চলে যায়নি। এখনো এখানে বৈঠক করছে আর তারা গভীর রাতেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা প্রণালি, লেবানন, পারমাণবিক কর্মসূচি ও সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত বাস্তবায়নসহ অন্য বিষয়গুলো নিয়েও কথা বলেছি।’ লেবাননে লড়াই বন্ধের প্রতিশ্রুতি পালনে যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে, এমন কারণ দেখিয়ে রোববার ইরান জানায়, তারা আবার হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত