ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বন্যার শঙ্কা, পাহাড়ধস ও জলজটে স্থবির জনপদ

বন্যার শঙ্কা, পাহাড়ধস ও জলজটে স্থবির জনপদ

ভারী বর্ষণে পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা ও বন্যার আশঙ্কায় ক্রমেই বাড়ছে উদ্বেগ। কক্সবাজারে পাহাড়ধসে এরইমধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে। ভারী বর্ষণে রাজধানী থাকা ও চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। নদ-নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। এতে এসব জনপদে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তাসহ দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং ১২ জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের সই করা বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি বিষয়ক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, পর্যবেক্ষণাধীন কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। মোট ১২৭টি পানি সমতল পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টিতে পানি বেড়েছে, ৮৬টিতে কমেছে এবং তিনটিতে অপরিবর্তিত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারী এবং সিলেট ও বরিশাল বিভাগে, পাশাপাশি ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী চার দিন চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এদিকে ভারতের উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দুর্বল হয়ে বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে। এছাড়া চট্টগ্রামের নারায়ণহাটে ১৬৫ মিলিমিটার, কক্সবাজারের টেকনাফে ১৫৮ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১২৯ মিলিমিটার, চট্টগ্রামের রামগড়ে ১০৫ মিলিমিটার, বান্দরবানে ১০২ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জের মহেশখোলায় ১০১ মিলিমিটার, চট্টগ্রামের পাঁচপুকুরিয়ায় ৯৫ মিলিমিটার, বান্দরবানের লামায় ৯৩ মিলিমিটার, ফেনীর পরশুরামে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে ভারতের মেঘালয়ের মাওকিরওয়াতে ১৫৩ মিলিমিটার, আর কে এম সোহরায় ১৪১ মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জিতে ১৩৩ মিলিমিটার এবং দক্ষিণ ত্রিপুরার সাবরামে ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা বাংলাদেশের উজানের নদীগুলোর পানি বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গোমতী, মুহুরি, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিচু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী তিন দিনে দ্রুত বাড়তে পারে। এর মধ্যে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে ধরলা ও দুধকুমার নদী লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার কিছু স্থানে সতর্ক সীমায় পৌঁছাতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি আগামী তিন দিন কমে পরবর্তী দুই দিন বাড়তে পারে। গঙ্গা নদীর পানি আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থেকে পরে বাড়তে পারে। তবে পদ্মা নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন কমতে পারে। সবগুলো প্রধান নদীই এ সময়ে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

ঝুঁকিতে খাগড়াছড়ির সাড়ে ৩ হাজার পরিবার, ২ প্রধান সড়ক তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন : টানা ভারী বর্ষণে একাধিক স্থান তলিয়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার সকাল খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে খাগড়াছড়ির সঙ্গে রাঙ্গামাটির সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দীঘিনালা-রাঙ্গামাটির লংগদু সড়কের মেরুং হেডকোয়ার্টার এলাকা পানিতে ডুবে যাওয়ায় দুপুর থেকে ওই সড়কেও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে আছেন জেলার ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার পরিবার। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই টানা বৃষ্টিতে মহালছড়ি উপজেলার চব্বিশ মাইল, মাইসছড়ি ও কেরেঙ্গেনালা এলাকায় সড়ক হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটি হাঁটু থেকে কোমরপানিতে ডুবে আছে।

স্থানীয়রা জানান, সেচের নালার স্লুইসগেট বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পানি সরতে না পারায় এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে আটকা পড়া বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে পানি ডিঙিয়ে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। মহালছড়ি থেকে খাগড়াছড়ি আসার পথে মাইসছড়ি এলাকায় আটকা পড়েন যাত্রী শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় এখানে এসে আটকে গেছি। এখন পানি কমার অপেক্ষায় আছি।’ দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূতি চাকমা বলেন, ‘আজ দুপুর ১টা পর্যন্ত গত ১৮ ঘণ্টায় এলাকায় ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।’

টানা বৃষ্টির কারণে জেলার চেঙ্গী ও মাইনী নদীসহ বিভিন্ন খাল ও ছড়ার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুপুরের দিকে জেলা সদর, মহালছড়ি ও দীঘিনালার বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় জেলাজুড়ে বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে।

পাহাড়ধসের শঙ্কা : ভারী বর্ষণের ফলে খাগড়াছড়িতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। শহরের কুমিল্লাটিলা এলাকার সড়কে পাহাড়ের মাটি ভেঙে পড়ায় একপাশ দিয়ে কোনোভাবে যান চলাচল করছে। তবে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের ধসের খবর পাওয়া যায়নি। পাহাড়ধসের আতঙ্কে দিন কাটছে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী হাজারো পরিবারের। ডিসি আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘পুরো জেলায় প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার পরিবার পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছেন। এই ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩৫ থেকে ৩৬ হাজার।’ এসব এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে জেলা প্রশাসন থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। বিশেষ করে জেলা শহরের শালবন, মোহাম্মদপুর সবুজবাগ, কুমিল্লা টিলা, কলাবাগান, ন্যান্সীবাজার, মোল্লাপাড়া ও কৈবল্যপিঠ এলাকার পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী শত শত পরিবারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিতে গত কয়েকদিনে জেলার শালবন, খাগড়াপুর, কুমিল্লা টিলা, সবুজবাগ ও ঠাকুরছড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে বসতঘরের ক্ষতি বা প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটেনি। তবে টানা ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এছাড়া রামগড়, লক্ষ্মীছড়ি, দীঘিনালা, মাটিরাঙ্গা, গুইমারা, পানছড়ি, মানিকছড়ি ও মহালছড়ি উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ধসের সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক পরিবার পাহাড় কেটে ঝুঁকিপূর্ণ ঢালের নিচে কিংবা পাহাড়ের খুব কাছাকাছি বসবাস করছেন।

ডিসি আনোয়ার সাদাত আরও বলেন, ‘বন্যা বা পাহাড়ধসসহ যেকোনো দুর্যোগ এড়াতে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এমনকি মাইকিং করে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে অনুরোধ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজন হলে পাহাড়ের পাদদেশে থাকা মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে।’

চট্টগ্রামের অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে বাসিন্দারা : টানা ভারী বর্ষণ এবং সেই সঙ্গে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরের বাসিন্দারা। গত সোমবার সকাল থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস ৩৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। এই বৃষ্টিতে নগরীর মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, বাকলিয়া, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা ও আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমেছে। আবহাওয়া অফিস চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত জারি করেছে এবং পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে।

নগরের জলাবদ্ধ এলাকার জনজীবন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। নিয়মিত গণপরিবহন না থাকায় গতকাল সকালে অফিসগামী যাত্রী এবং স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে দেখা যায়। যাত্রীরা জানান, রিকশাচালকরা এখন অতিরিক্ত ভাড়া চাচ্ছেন। চকবাজারে কথা হলে সরকারি কর্মকর্তা মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, মূল সড়কে একটাও খালি রিকশা নেই। গতকাল সন্ধ্যায় আমাকে হাঁটু সমান পানি ভেঙে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। এখানকার জলাবদ্ধতায় টিকে থাকা এখন ভাগ্যের খেলার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছে জলাবদ্ধ রাস্তা দিয়ে চলাচল শঙ্কার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাতালগঞ্জের বাসিন্দা মো. হাবিব বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেও আমাদের নিচতলায় পানি উঠে যায়। আজ সকালে বাচ্চাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া ছিল চরম কষ্টের বিষয়। পশ্চিম বাকলিয়ার বাসিন্দা ফজলুল হক জানান, কে বি আমান আলী রোড পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় তিনি অফিসে যেতে পারেননি। নগর পরিকল্পনাবিদরা আগেই জলাবদ্ধতার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। কারণ কাঠামোগত ধীরগতি, ‘ত্রুটিপূর্ণ পরিকল্পনা’ এবং সাম্প্রতিক প্রশাসনিক স্থগিতাদেশের কারণে ১৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ের চারটি বড় প্রকল্প এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনার সুস্পষ্ট অভাব এবং যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই না করার কারণে শুরু থেকেই এই মেগা প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা ব্যাহত হয়েছে। চারটি উদ্যোগের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি হলো সিডিএর খাল উন্নয়ন প্রকল্প। ৩৬টি খাল সংস্কারের মাধ্যমে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করতে ২০১৭ সালে এটি শুরু হয়। শুরুতে এর খরচ ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ধরা হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা হয়েছে। একইভাবে কাজ শেষ করার সময়ও বারবার পিছিয়ে এখন ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪তম ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের এই বছরের ৩০ জুনের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে সিডিএ সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত এপ্রিলের শেষ থেকে মাঠপর্যায়ের সব কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। প্রকল্প কর্মকর্তাদের মতে, বৃষ্টির শুরুতে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় সরকারের পক্ষ থেকে মাটির অস্থায়ী বাঁধগুলো অপসারণের নির্দেশের পর এই কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মঈনুদ্দিন বলেন, প্রকল্পের ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে, তবে বাকি কাজ অক্টোবর মাস না আসা পর্যন্ত শুরু করা সম্ভব নয়। এতে চকবাজার, কাতালগঞ্জ ও আগ্রাবাদের মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো এই বর্ষায় অত্যন্ত অরক্ষিত অবস্থায় থাকছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশাল ব্যয়ের উদ্যোগগুলো চট্টগ্রামের অনন্য ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যকে উপেক্ষা করছে। আইইবির (চট্টগ্রাম কেন্দ্র) সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার ব্যাখ্যা করেন, জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানির উচ্চতা পাঁচ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যায়, অথচ অনেক আবাসিক এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র দুই থেকে তিন মিটার উপরে অবস্থিত। তিনি উল্লেখ করেন, এই শহর তার প্রাকৃতিক জলাধার এবং মূল ১০৪টি খালের মধ্যে ৪৭টি হারিয়েছে, যা ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। গতকাল সকালে কিছু এলাকা পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, নালা পরিষ্কারের আগাম পদক্ষেপ এবং মেগা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতির কারণে সামগ্রিক জলাবদ্ধতা ৮০ শতাংশ কমেছে। চট্টগ্রামের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত