ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বন্যা-পাহাড়ধসে ক্ষতির মুখে পূর্বাঞ্চলের মানুষ

বন্যা-পাহাড়ধসে ক্ষতির মুখে পূর্বাঞ্চলের মানুষ

গত কয়েক দিনের টানা রেকর্ডভাঙা বৃষ্টিপাত ও লঘুচাপের প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রাম মহানগরী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়াসহ লোহাগাড়ার লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ পাহাড়ি ঢল ও ভাঙনের কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কক্সবাজারের পরিস্থিতি: বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে কক্সবাজারের চকরিয়া, রামু ও পেকুয়াসহ বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে ফসলের খেত ও মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়ায় চরম অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয়রা।

গতকাল শনিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ চলছে। অনেক এলাকায় এখনও পানি জমে থাকায় প্রকৃত ক্ষতির চিত্র পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। পানি নেমে যাওয়ার পর জরিপ করে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব প্রকাশ করা হবে।

মৎস্য খাতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা বাঁশখালীতে : জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মৎস্য খাতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে বাঁশখালী উপজেলায়। প্রাথমিক হিসাবে, সেখানে ২ হাজার ৫০০টি পুকুর, ৩১০টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জলাশয়ের মাছ ভেসে গিয়ে প্রায় ৪১ কোটি ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সাতকানিয়া। উপজেলাটিতে ৪৬৬ হেক্টর জলাশয়ের মাছ চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ১০ কোটি ৭৬ লাখ টাকার লোকসানের প্রাথমিক হিসাব পাওয়া গেছে। এ ছাড়া লোহাগাড়ায় ১ হাজার ৬২০টি পুকুরে প্রায় ৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, কর্ণফুলীতে ৫৫৭টি পুকুরে ৬ কোটি ৮ লাখ টাকা, চন্দনাইশে ৩৮৩টি পুকুরে ৫ কোটি ৯৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, বোয়ালখালীতে ৭৫৬টি পুকুরে ৪ কোটি ৫১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং পটিয়ায় ১ হাজার ৪৩৫টি পুকুরে ৩ কোটি ৬৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে ফটিকছড়িতে ৫৩৩টি পুকুরে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা, হাটহাজারীতে ১৭০টি পুকুরে ১ কোটি ৯৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা, আনোয়ারায় ১ হাজার ১০০টি পুকুর ও ১০টি চিংড়ি ঘেরে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, সন্দ্বীপে ৪১২টি পুকুরে ১ কোটি ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মিরসরাইয়ে ৯৭টি পুকুরে ৯৮ লাখ টাকা, রাঙ্গুনিয়ায় ২৭০টি পুকুরে ৯৮ লাখ ৭ হাজার টাকা, রাউজানে ৯০টি পুকুরে ৯৩ লাখ টাকা এবং সীতাকুণ্ডে ১০টি পুকুরে ১৫ লাখ ১৪ হাজার টাকার ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম বলেন, ‘এবারের দুর্যোগে চট্টগ্রামের মৎস্য খাত ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। অনেক এলাকায় এখনও পানি পুরোপুরি না নামায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়নি। ফলে চূড়ান্ত হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।’

তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও বীজতলা : কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে চট্টগ্রাম জেলায় ৩০ হাজার ২২ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে ৯ হাজার ৪৩ দশমিক ৫ হেক্টর জমি অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ২ হাজার ৭২১ দশমিক ৬৭ হেক্টর আমন বীজতলার মধ্যে ৯৬০ দশমিক ৬৬ হেক্টর এবং ১৭ হাজার ৮২৮ দশমিক ৬৫ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে ৫ হাজার ৯০৭ হেক্টর জমি ক্ষতির মুখে পড়েছে। সব মিলিয়ে আউশ, আমন বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন সবজির মোট ১৫ হাজার ৯১১ দশমিক ১৬ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলাভিত্তিক হিসাবে আউশ ধান, আমন বীজতলা এবং সবজি মিলিয়ে বাঁশখালী উপজেলায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এখানে মোট ৩ হাজার ৬০৫ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যান্য উপজেলার মধ্যে চন্দনাইশ উপজেলায় মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২ হাজার ৯৭৩ হেক্টর, ফটিকছড়ি উপজেলায় ১ হাজার ৮৪৪ হেক্টর, সাতকানিয়ায় ১ হাজার ৭৪১ হেক্টর, সন্দ্বীপে ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর, সীতাকুণ্ড উপজেলায় ৭১১ হেক্টর, পটিয়ায় ৫১২ হেক্টর, লোহাগাড়ায় ৫১০ হেক্টর, আনোয়ারায় ৫০৪ হেক্টর, মিরসরাইয়ে ৪৮৮ হেক্টর, রাউজানে ৩৫০ হেক্টর, রাঙ্গুনিয়ায় ৩৪০ হেক্টর, কর্ণফুলীতে ২৫১ হেক্টর, বোয়ালখালীতে ১৭৩ দশমিক ৫ হেক্টর এবং হাটহাজারী উপজেলায় ১৪০ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরের পাঁচলাইশ এলাকায় ৮০ হেক্টর জমি, পতেঙ্গা এলাকায় ৩২ দশমিক ৬৬ হেক্টর এবং ডবলমুরিং এলাকায় ৬ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ টিবিএসকে বলেন, ‘অতিবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ এখনো চলমান। অনেক এলাকায় এখনও জলাবদ্ধতা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বর্তমানে যে হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে, তা প্রাথমিক। সব তথ্য সংগ্রহ শেষে ক্ষয়ক্ষতির একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে।’

প্রাথমিক এই হিসাবই ইঙ্গিত দিচ্ছে, চলমান বন্যা চট্টগ্রামের কৃষি ও মৎস্য খাতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কা দিয়েছে। কৃষকের ফসল এবং মাছচাষিদের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতির ওপরও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বন্যা পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে : রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি হয়েই চলেছে। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি চলমান থাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয় কি-না তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, এ মুহূর্তে দেশের ছয়টি জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত চারটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদফতর আগামী আরও কয়েকদিন সারাদেশেই মাঝারি থেকে ভারী বা অতি ভারী টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় এরইমধ্যেই যে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার আরও অবনতি হবে কি-না তা নিয়ে অনেকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলছেন, কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির ক্রমশ উন্নতির আশা করলেও সিলেট, সুনামগঞ্জ ও রংপুর অঞ্চলে বন্যার অবস্থার অবনতি হতে পারে।

দেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এরইমধ্যেই জানানো হয়েছে যে, সারাদেশে ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত কয়েকদিন ধরেই বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় টানা কিংবা থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। নদনদীর পানি বেড়ে অনেক জায়গায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে, ঘটেছে পাহাড়ধসের ঘটনাও।

বন্যার এখন কী অবস্থা : বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানে এখন বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং ভারী বর্ষণের কারণে ফেনী অঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। সাঙ্গু নদী বান্দরবান ও চট্টগ্রামে দোহাজারীতে, হবিগঞ্জে খোয়াই নদী, মৌলভীবাজারে মনু নদী এবং সুনামগঞ্জ ও সিলেটে কুশিয়ারা নদী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আবার আগামী এক থেকে দুই দিনে সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে এবং এসব অঞ্চলসংলগ্ন উজানে ভারতের মেঘালয়, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও এসময়ে সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। তবে এ সময়ে বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার কিছু এলাকায় আবার বন্যা পরিস্থিতির ধীর গতিতে উন্নতি হতে পারে। এছাড়া সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে এবং সুরমা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে বলে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন বলেন, সিলেট অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে এবং আগামী দুই-তিন পরিস্থিতি একই রকম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলাতেও বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়ার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

পাহাড়ি ঢলের শঙ্কা : আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ভারতীয় রাজ্যগুলোতে অতিভারী বৃষ্টিপাত হলে পাহাড়ি ঢলের পানির কারণে বাংলাদেশের সিলেট, ময়মনসিংহ ও উত্তরাঞ্চলের নদনদীতে পানি বেড়ে যেতে পারে এবং এর ফলে নিচু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে কিছু স্থানে সাময়িক প্লাবিত হতে পারে। ‘বৃষ্টি চট্টগ্রামের দিকে কিছুটা কমেছে। তবে ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত হয়তো আরও হবে। বর্ষাকাল চলছে এবং একই সঙ্গে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বৃষ্টি কিছুটা হবে। তবে এতে খারাপ কিছুর আশঙ্কা নেই,’ বলছিলেন আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ।

আবহাওয়া অফিস বৃষ্টিপাতের যে সতর্কতা জারি করেছে সেখানে বলা হয়েছে, ‘সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আজ দুপুর থেকে পরবর্তী চব্বিশ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে’। আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বাংলাদেশের আটটি বিভাগের অধিকাংশ জায়গাতেই মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। তবে সপ্তাহের শেষ দিকে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমে আসতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ ১৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ওদিকে, নদ-নদীগুলোর সবশেষ অবস্থা জানাতে গিয়ে বন্যা সতর্কীরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি কমে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় গঙ্গা নদীর পানি বেড়েছে ও পদ্মার পানি এখনো স্থিতিশীল আছে। তবে গঙ্গা-পদ্মার পানি আগামী দুইদিন স্থিতিশীল থাকলেও এরপর বেড়ে যেতে পারে। উত্তরাঞ্চলে তিস্তা, ধরলা করতোয়া, আত্রাই ও দুধকুমার নদীর পানি বেড়েছে। তিস্তা নদী কয়েকটি পয়েন্টে সতর্কসীমার মধ্যে প্রবাহিত হচ্ছে। এসব নদীর পানিও বাড়তে পারে বলে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা সদর ও এর চারপাশের নদী অববাহিকায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, ধলেশ্বরী ও টঙ্গীখাল নদীর পানি বেড়েছে, যা আগামী তিন দিন বাড়বে। যদিও পানি বাড়লেও এসব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হতে পারে। এদিকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের একটি সেতু ধসে পড়ায় দুই জেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। প্রসঙ্গত, গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশে অধিকাংশ জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কয়েকটি জেলার নিচু এলাকায় আকস্মিক বন্যা হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত