ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রোগীর সঙ্গে চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা বলাই অর্ধেক চিকিৎসা

বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রোগীর সঙ্গে চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা বলাই অর্ধেক চিকিৎসা

রোগীদের সঙ্গে আন্তরিক, সম্মানজনক ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘একজন চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা বলা, একজন রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে দিতে পারে। তাই ওষুধের পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে সুন্দর আচরণও নিশ্চিত করতে হবে।’ গতকাল শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢামেক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’- শীর্ষক মতবিনিময় তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের শুধু রোগ নিরাময়ই নয়, এর পাশাপাশি মানবিকতা, নৈতিকতা ও সেবার মানসিকতা নিয়েও কাজ করতে হবে। চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘চিকিৎসকের এই পেশা শুধু একটি চাকরি নয়, এটি মানুষের জীবনের জন্য নিবেদিত একটি মহান সেবা।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, মানুষ যখন সবচেয়ে কঠিন সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন আল্লহর পর সবচেয়ে বেশি ভরসা করে একজন চিকিৎসকের ওপর। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘চিকিৎসকদের মধ্যে মেডিকেল এথিকস ও মোরাল এথিকস আরও শক্তিশালী করতে হবে। রোগীদের ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সম্মান দিয়ে চিকিৎসা দিতে হবে।’ তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের মানবিক আচরণ রোগীর চিকিৎসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী আরও বলেন, করোনা মহামারি, হাম পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক বন্যায় বাংলাদেশের চিকিৎসকরা অসাধারণ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। ছুটি উপেক্ষা করে তারা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন।

চট্টগ্রামে বন্যার সময় গভীর রাতেও চিকিৎসকদের মাঠে কাজ করার বিষয়টি উল্লেখ করে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এটাই চিকিৎসকদের প্রকৃত অবদান এবং এটাই তাদের নৈতিকতা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছেন। চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা হাসপাতাল ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোকে আরও আধুনিক করা হবে। আগামী মাস থেকেই উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে। রাজধানী ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমিয়ে সারাদেশে সমান মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের মানুষ যেমন সেবা পাওয়ার অধিকার রাখে, তেমনি গ্রামের মানুষও সমানভাবে সেই সেবার দাবিদার। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একই মানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবারমান শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, বাংলাদেশের কোনো উপজেলাই এখন আর গ্রাম নয়, সেখানে সব ধরনের আধুনিক নাগরিক সুবিধা পাওয়া যায়। তিনি বলেন, রেফারাল নেটওয়ার্ক কার্যকর করতে চিকিৎসকদের উপজেলা পর্যায়ে যেতে হবে, অন্যথায় ঢাকা মেডিকেলের ওপর থেকে রোগীর অতিরিক্ত চাপ কমানো সম্ভব নয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বিএনপি’র স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন প্রমুখ।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত