ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

‘জুলাই শহিদ দিবসে’ আবু সাঈদকে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল

* দ্রুত রায় কার্যকর চান শহিদ আবু সাঈদের বাবা-মা ও সহযোদ্ধারা * শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত * শেখ হাসিনাকে দেশে এনে ফাঁসি কার্যকরের দাবি নাহিদ ইসলামের * আবু সাঈদরা যুগে যুগে একজনই জন্ম নেন : প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ
‘জুলাই শহিদ দিবসে’ আবু সাঈদকে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে এনে ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুরে শহিদ আবু সাঈদের বাড়িতে তার কবর জিয়ারত শেষে এ কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আবু সাঈদের যে মামলা, সে মামলার আসামি শেখ হাসিনা নিজেও এবং সে রায়ে শেখ হাসিনাকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করব, সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে দেশে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করবে। এ ছাড়া অন্য যে সব মামলা আছে, দ্রুত সময়ে মধ্যে সেগুলোর রায়ের প্রদান করে সাজা কার্যকর করতে হবে।’

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকার জনগণকে শুধু মৌখিক আশ্বাস দিচ্ছে, বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার অন্যতম সংগঠক নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটে জনগণ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে স্পষ্ট রায় দিলেও সরকার তা বাস্তবায়ন না করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তাই জুলাই শহিদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা দিতে হলে মুখের প্রতিশ্রুতি নয়, গণভোটের রায়ের আলোকে রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

নিজেদের আবু সাঈদসহ অন্য জুলাই শহিদদের উত্তরসূরি উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব নতুন, বৈষম্যবিরোধী ও ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা জন্য কাজ করে যাওয়া।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আমাদের তিনটি দাবি ছিল- বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন। আমরা দেখেছি, নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু বিচার ও সংস্কার জনগণ এখনও পায়নি। বিচারে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের রায় আমরা পেয়েছি, কিন্তু সেই রায় এখনও কার্যকর হয়নি। আমাদের আহ্বান থাকবে সরকার, চিফ প্রসিকিউটর ট্রাইবুনাল থেকে এ রায়ের আপিল শুনানি যেন দ্রুত কার্যকর করে।’ সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলে জুলাই সনদকে অক্ষরে অক্ষরের বাস্তবায়ন করবে- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খানের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সরকার যদি ইতিবাচকভাবে ও সত্যিকার অর্থে সংস্কার করতে চায়, আমরা সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করব। সংস্কার, বিচার, ফ্যাসিবাদের বিলুপ্তি, বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ইত্যাদি প্রশ্নে আমরা নিজেদের সরকারবিরোধী হিসেবে দেখি না। আমরা দেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের পক্ষে এক কাতারে দাঁড়াতে প্রস্তুত।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান মোজাহিদসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতা-কর্মীরা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ভোর থেকেই রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে তার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদনে ভিড় করেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।

আবু সাঈদরা যুগে যুগে একজনই জন্ম নেন : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, আবু সাঈদরা প্রতিদিন জন্মগ্রহণ করেন না, যুগে যুগে একজন করে জন্ম নেন। টিয়ারশেল, লাঠিচার্জ উপেক্ষা করে আবু সাঈদ সেদিন বুক চিতিয়ে বলেছিলেন, বুক পেতেছি, গুলি কর। তার সেই সাহসী অবস্থানই বাংলাদেশকে নতুন করে মুক্ত করেছিল।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) স্বাধীনতা স্মারক মাঠে জুলাই শহিদ দিবস ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহিদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, রংপুর অঞ্চল অনেকভাবে বঞ্চিত। আমাদের প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছেন, তিনি এবার আঞ্চলিক সমতার ভিত্তিতে উন্নয়ন করবেন। বর্তমান সরকার এবার শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট দিয়েছে, সেই বাজেটের আলোকে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ রংপুর অঞ্চলের সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষামানের আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আবু সাঈদ মামলার রায় হয়েছে, এ রায় এখনও পূর্ণাঙ্গ কার্যকর হয় নাই। সরকারদলীয় ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আবু সাঈদের খুনের সঙ্গে জড়িতের শাস্তি অচিরে বাস্তবায়ন করতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একযোগে কাজ করব।

তিনি আরও বলেন, বিগত দিনের ফ্যাসিস্টরা বিভিন্ন রূপে ও বিভিন্ন মোড়কে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। একটি বৈষম্যহীন, মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সব রাজনৈতিক দল ও মতের মানুষের ঐক্য প্রয়োজন। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি, তাহলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। আবু সাঈদের রক্ত এবং ২৪-এর শহিদদের আত্মত্যাগ কোনোদিন বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।

‘জুলাই শহিদ দিবসে’ আবু সাঈদকে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল : রংপুরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের স্মরণে কবর জিয়ারত, দোয়া ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আসেন। সকালে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা তার কবর জিয়ারত করে আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষও সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

একই দিন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা। পরে সেখানে আলোচনা সভা হয়।

সভায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘শহিদ আবু সাঈদ শত বাধা, নির্যাতন, কাঁদুনে গ্যাস ও লাঠিপেটার মুখেও পিছিয়ে যাননি। মৃত্যুর ঝুঁকি উপেক্ষা করে তিনি গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তার আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে প্রাণহানির ঘটনায় জড়িত প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়ভিত্তিক বিচার নিশ্চিত করা হবে। বিচার করতে সময় লাগলেও তা হবে ন্যায়সঙ্গত ও দৃষ্টান্তমূলক।’

আলোচনা সভায় আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, তার ছেলের আত্মত্যাগের লক্ষ্য ছিল সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করা এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শওকত আলী, রংপুর বিভাগের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। সেদিন দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাকে গুলি করার একটি ভিডিও সংবাদমাধ্যমে প্রচার হলে ছাত্র-জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এর ধারাবাহিকতায় ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। সেই দিনকে স্মরণ করে প্রতিবছর ১৬ ‘জুলাই শহিদ দিবস’ পালন করা হচ্ছে।

দ্রুত রায় কার্যকর চান শহিদ আবু সাঈদের বাবা-মা ও সহযোদ্ধারা : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকীতে তার বাবা-মা ও সহযোদ্ধারা হত্যাকাণ্ড মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

তারা বলেন, আদালতের রায় দ্রুত বাস্তবায়িত হলে অন্তত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে- এমন সান্ত¡না পাওয়া যাবে। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। পুলিশের সামনে বুক উঁচিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা তার সেই দৃশ্যের ভিডিও ও ছবি দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরে সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে এবং তা ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গত ৯ এপ্রিল রায় ঘোষণা করেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। সেই রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও সহযোদ্ধারা।

শহিদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন ছেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ছেলেটা তো আর ফিরে আসবে না। আজ ওর কথা খুব বেশি মনে পড়ছে। আদালত রায় দিয়েছে, কিন্তু সেই রায় যদি আমার জীবদ্দশায় কার্যকর হতে দেখতাম, তাহলে অন্তত মনে একটু শান্তি পেতাম।’ তিনি মামলার সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করার দাবি জানান।

মা মনোয়ারা বেগমও ছেলেকে হারানোর বেদনা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিদিন বাবার কবরের কাছে যাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকলেও প্রতিদিন ফোন করে খোঁজ নিতো। এখন আর কেউ বলে না- মা, কেমন আছো? সংসারের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল ওর। দেশের জন্য জীবন দিয়েছে। যারা আমার বাবাটাকে হত্যা করেছে, তাদের সবার ফাঁসি চাই।’

আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে বাঁচাতে সর্বপ্রথম এগিয়ে আসা সহযোদ্ধা সিয়াম আহসান আয়ান বলেন, ‘আবু সাঈদ নিজের পরিবার, বাবা-মা কিংবা নিজের জীবনের কথা না ভেবে দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। আদালত যে রায় দিয়েছেন, সেটি দ্রুত কার্যকর হলে দেশের মানুষ ন্যায়বিচারের প্রতিফলন দেখতে পাবে।’

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আবু সাঈদের নেতৃত্বে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দিলে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও গুলি ছোড়ে। সংঘর্ষের মধ্যেও আবু সাঈদ সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন।

একপর্যায়ে পুলিশের সামনে বুক উঁচিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদকে লক্ষ্য করে গুলি করা হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়। দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকীতে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিল, স্মরণসভা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাকে স্মরণ করছেন স্বজন, সহযোদ্ধা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষ। একই সঙ্গে তারা আবু সাঈদ হত্যার বিচার সম্পন্ন করে ঘোষিত রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত