
সম্প্রতি সারা দেশে গ্যাস সংকটকে আগের সরকারের ‘পাপের ফল’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল, তাই জনগণের কষ্টের দায় স্বীকার করে সরকার সংকট নিরসনে কাজ করছে। ‘তবে সংকট পুরোপুরি নিরসন হতে কমপক্ষে দুই বছর লাগবে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সরকার এগোচ্ছে। সাময়িক যেনো খুব বেশি সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
গ্যাসের সমস্যা নিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলন নিয়ে সাংবাদিকেদের করা প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, মানুষ একটু না মানুষ আসলে যথেষ্ট কষ্ট পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমাদের বক্তব্যটা খুব সহজ। মানুষের কষ্টটা সত্য।
‘কিন্তু এটার জন্য আমাদেরকে দোষ দেওয়াটা সঠিক না। তবে বাংলাদেশ এখন একটা জ্ঞানভিত্তিক সমাজের দিকে পৌঁছেছে বলে আমার বিশ্বাস; যেখানে অহেতুক যদি কাউকে দায় দেওয়া হয় সেটা মানুষ শুনবে বলে মনে হয় না।’
জ্বালানি সংকটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আপনারা খুব ভালোভাবেই জানেন যে, জ্বালানির যে সংকটটা আমরা এখন মুখোমুখি হচ্ছি, এটা দীর্ঘদিনের একটা পুঞ্জীভূত সমস্যা এবং একটা দুর্ঘটনা।’
‘দুর্ঘটনাটা ঠিক হওয়ার প্রায় শেষ, এটা ঠিক হয়ে যাবে। ঠিক হয়ে গেল যেটা হয়, যে আমাদের চাহিদা যে গ্যাসের আছে এই দুটো কারখানা কাজ করলেও আমাদের সরবরাহ তাও প্রায় একশো কোটি ঘনফুট কম থাকে। এটা তো আসলে বছরের পর বছর ধরে হয়েছে। এটার জন্য আমরা খুব দ্রুত স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিয়েছি।’
ভোলার গ্যাস মূল লাইনে নিয়ে আসার জন্য যা যা করা দরকার সরকার সেটার চেষ্টার করছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেছেন, ‘তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কেনার চেষ্টা আছে। মধ্যমেয়াদে আমাদের ওইটার কাজ এরমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
‘কিন্তু প্রত্যেকটার সমস্যা হচ্ছে এটা সময়সাপেক্ষ। আমরা স্থলভাগে গ্যাস খোঁজা শুরু করেছি। আপনারা অনেকে হয়তো জানেন যে, আমাদের স্থলভাগে ৪০ থেকে ৫০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আছে। মোটামুটি একটা ধারণা, মানে এমনি ধারণা না, জরিপের ভিত্তিতে ধারণা।’ দেশে এই মুহূর্তে বছরে ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান।
নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী প্রাথমিক, কারিগরি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভাগীয় পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ূন কবির। এতে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।