
রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার জনপ্রত্যাশা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে প্রাধান্য দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার) মাহদী আমিন। তিনি জানান, গত এক মাসে জনকল্যাণ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সরকারের গত এক মাসের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার সফলভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে চলেছে। গত এক মাস ধরে সরকারের যে বহুমুখী, কল্যাণমুখী কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়িত হয়ে চলেছে, তা শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার সাফল্য নয়; বরং একটি সমৃদ্ধ, মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার সুদৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকারেরই বহিঃপ্রকাশ।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি দেশের ২১টি প্রধান ব্যবসা ও শিল্প সংগঠনের শীর্ষ নেতা ও গণমাধ্যমের একাংশের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। সেখানে তিনি গ্যাস সরবরাহের সংকট কাটিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যকর নির্দেশনায় তা দ্রুত বাস্তবায়িত হয়েছে। গতকাল থেকেই গ্যাসের দৃশ্যমান উন্নতি দেখা যাচ্ছে এবং সামনের দিনগুলোতেও এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে বিশ্বাস তার।
আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিংস সংস্থার রেটিংয়ে বাংলাদেশকে নেতিবাচক থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মর্যাদা, বৈদেশিক বিনিয়োগ, দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বাণিজ্য এবং সর্বোপরি নারী ও যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যাপক অগ্রযাত্রা সাধিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশে মূল্যস্ফীতিতে ইতিবাচক স্বস্তি ফিরেছে। বিবিএসের হিসাবে, খাদ্যপণ্যের দাম কমায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি গত বছরের চেয়ে এ বছর অনেক কম। মূল্যস্ফীতি কমার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে খাদ্যপণ্যের দাম। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের জোগান গত বছরের তুলনায় ভালো।
বিশেষভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এবং আশপাশের যে কোনো দেশের তুলনায় ডিজেল তেলের দাম বাংলাদেশে কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, যেন জনগণের ওপর চাপ না পড়ে।
সরকারের গত এক মাসের কল্যাণকর উদ্যোগ ও কার্যক্রমকে সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে বলে জানান মাহ্?দী আমিন।
এগুলো হলো ১. তরুণের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন; ২. সব মানুষের সার্বিক কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়ন; ৩. নারীর অগ্রযাত্রা, সর্বজনীন কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষা; ৪. পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীল শিল্পায়ন; ৫. আধুনিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও জনস্বাস্থ্য; ৬. যোগাযোগ অবকাঠামো ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং ৭. প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, জনকূটনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক।