ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার খুলতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া। তবে কর্মী নিয়োগ পদ্ধতির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও ঢাকাকে জানায়নি দেশটি। নতুন ব্যবস্থায় আগের বিতর্কিত পদ্ধতিই ফিরে আসতে পারে বলে মনে করছেন জনশক্তি রপ্তানিকারক ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। এতে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ তৈরি হলে জনপ্রতি খরচ ছয় লাখ টাকা ছাড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, এবার কর্মী নিয়োগে ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকবে। এরমধ্যে বাংলাদেশ যে ৪২৩টি এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়াকে দিয়েছিল, সেখান থেকে দেশটি ২৫টি মূল এজেন্সি বেছে নিয়েছে। এর সঙ্গে থাকবে ৩১২টি সহযোগী এজেন্সি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)।

সূত্র জানায়, গত আগস্টে মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নেপালের জন্যও ২৫টি এজেন্সি এবং ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জন্য ১০টি করে এজেন্সি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে ৩১২টি সহযোগী এজেন্সি কীভাবে কাজ করবে, তারা কীভাবে চাকরির চাহিদাপত্র বা জব অর্ডার প্রক্রিয়া করবে এবং কীভাবে কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠাবে, এসব এখনও স্পষ্ট নয়। বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থাপনার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস) পুরো প্রক্রিয়াটি দেখছে।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর এফডব্লিউসিএমএস কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে কুয়ালালামপুরে একটি কূটনৈতিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে গতকাল পর্যন্ত এর কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া সরকার কী প্রক্রিয়ায় কর্মী নিয়োগ করবে, তা জানালে আমরা তাদের এফডব্লিউসিএমএস বা এর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বেস্টিনেটের ব্যবস্থা পর্যালোচনা করব। মন্ত্রণালয় গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কর্মী নিয়োগের প্রশাসনিক কাজ চলছে। প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে বিস্তারিত জানানো হবে।

নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শঙ্কা: জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সিগুলোর আশঙ্কা, জব অর্ডার বা কাজের চাহিদাপত্র প্রক্রিয়ার জন্য ৩১২টি সহযোগী এজেন্সিকে যদি মূল এজেন্সিগুলোর ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে তাদের কার্যত তেমন কোনো ক্ষমতা থাকবে না। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) কয়েকজন সাবেক নেতা ও সদস্য গতকাল মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, যোগ্য ৩১২টি এজেন্সিকেই সরাসরি নিয়োগ ব্যবস্থায় যুক্ত করতে হবে। প্রত্যেক এজেন্সিকে আলাদা এফডব্লিউসিএমএস আইডি ও পাসওয়ার্ড দিতে হবে। নিজেদের জব অর্ডারের বিপরীতে কর্মী পাঠানোর সুযোগও দিতে হবে। এছাড়া মন্ত্রণালয় অনুমোদিত সব মেডিকেল সেন্টারকে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, অন্য ৩১২টি এজেন্সিকে শুধু লোক দেখানোর জন্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে। আমরা আবারও আগের সেই সিন্ডিকেট ব্যবস্থা দেখতে যাচ্ছি। তার মতে, সরকার চাইলে বোয়েসেলের অধীনে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করতে পারে। এতে এজেন্সিগুলো সরাসরি জব অর্ডার সংগ্রহ করে নির্ধারিত সেবা ফি দিয়ে কর্মী নিয়োগ ও প্রক্রিয়ার কাজ করতে পারবে। মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, এফডব্লিউসিএমএসে বর্তমানে ২৫টি মূল এজেন্সির নাম রয়েছে। প্রত্যেকটা মূল এজেন্সির সঙ্গে ১০টি করে সহযোগী এজেন্সি যুক্ত। এছাড়া আরও ৬২টি সহযোগী এজেন্সি বোয়েসেলের সঙ্গে যুক্ত। মূল এজেন্সি বা বোয়েসেলের অনুমোদন পাওয়ার পর ৩১২টি সহযোগী এজেন্সি কর্মী পাঠাতে পারবে। তবে পুরো ব্যবস্থাটা ঠিক কীভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে মালয়েশিয়া এখনও বিস্তারিত কিছু জানায়নি। এফডব্লিউসিএমএসের কার্যক্রম সম্পর্কে জানেন, এমন একজন জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সির মালিক বলেন, জব অর্ডার প্রক্রিয়ায় এবার পরিবর্তন আসতে পারে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের নিয়োগপর্বে মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের জব অর্ডার মাত্র ১০১টি বাংলাদেশি এজেন্সির কাছে যেত এফডব্লিউসিএমএসের মাধ্যমে। অন্য কোনো লাইসেন্সধারী এজেন্সি জব অর্ডার পেলেও তা ওই ১০১টি এজেন্সির মাধ্যমে প্রক্রিয়া করতে হতো। এই ব্যবস্থা নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব এবং সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ওঠে। পরে ২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া। এবার বাংলাদেশি কর্মী নিতে আগ্রহী মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতারা নিজেদের পছন্দের এজেন্সি বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত