ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

চিরকুটে যা লিখে গেছেন নজরুলপত্নী মরিয়ম

চিরকুটে যা লিখে গেছেন নজরুলপত্নী মরিয়ম

জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের সময় বেশ কয়েকটি চিরকুট উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। গত রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার ফজলুল করিম বলেন, 'মরিয়ম যে রুমে থাকতো, সে রুম থেকে তার লেখা কিছু চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে।' মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। তাতেও চিরকুট উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে। একটি চিরকুটে লেখা আছে, "শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই— তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই—।" আরেকটিতে লেখা, 'আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবইবা কেমনে, যুদ্ধের শেষ প্রান্তে যেয়ে দেখি তুমিতো ছিলে বিপক্ষের সেনাপতি।' "আমি হেরেছি তুমি জিতেছো, কারণ আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি ধ্বংসের শেষ দাঁড়িয়েও মুখে হাসি রেখেছি। ভেবে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।" আরেকটি চিরকুটে আছে দুটি লেখা। একটিতে আছে, 'সে ছিল অন্য নারীর স্বামী। কাগজে কলমে অধিকার ছিল তার বউ এর—!!! আর আমি ছিলাম বোকা—!!! অন্য কারও স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ—!!!' অপর লেখায় আছে, "কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশির সম্মানের। কারণ ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়— ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!" মামলার এজাহারে বাবা মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেছেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের 'প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়' সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে বাদীর বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম। এজাহারে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা 'শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন' করতেন বলে মরিয়ম তার পরিবারকে বলে গেছেন। এর মধ্যে রোববার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল মোবাইল ফোনে বাদীকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে মরিয়মকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন বাবা মাসুম বিল্লাহ। শেরেবাংলা নগর থানার একাধিক কর্মকর্তা জানান, এ মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তারা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করবেন।

আমি বাইরে মুখ দেখাব কীভাবে, বাবাকে বলেছিলেন নজরুলপত্নী মরিয়ম : সকাল থেকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল মর্গে টিনএজ মেয়ের লাশের জন্য বসেছিলেন মাসুম বিল্লাহ দম্পতি। মেয়েকে সদ্য হারিয়ে বাবা কখনো কাঁদছেন, কখনো শান্ত ভঙ্গিতে কথা বলছেন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে। জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের শ্বশুর মাসুম বিল্লাহ বলেন, 'আমি তো চাই সঠিক তদন্ত, আমি যেন ন্যায় বিচারটা পাই; প্রকৃত দোষী যেন শাস্তি পায়।' আপনার সঙ্গে শেষ কী কথা হয়েছিল, মেয়ে কোনো কষ্টের কথা বলেছিল কি না, জানতে চাইলে এ বাবা বললেন, 'আমার সাথে কথা কম হতো, তবে এমপির সাথে সবসময় কথা হতো, পাশে থাকতো; কথা বলতে গেলে ও কথা বলতো না তো।'

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত