
কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হককে 'বন্দুকযুদ্ধের' নামে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ না থাকায় প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেিতে আগামী রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) শুনানির নতুন দিন ঠিক করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। বেঞ্চের অপর সদস্য হলেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম ও সহিদুল ইসলাম সরদার।
প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন বলেন, আজ মামলাটির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ না থাকায় তা পিছিয়ে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই দিন এ বিষয়ে শুনানি হবে।
শুনানির সময় এ মামলায় গ্রেফতার চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন— কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক কর্নেল (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে) আনোয়ার লতিফ খান।
মামলায় মতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বাকি সাত আসামি পলাতক রয়েছেন। পলাতক অন্য আসামিরা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।
এর আগে গত ২৫ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ সাত আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেয় আদালত। কিন্তু ৭ সেপ্টেম্বর মামলার নির্ধারিত হাজিরার দিনে তারা আত্মসমর্পণ না করায় পলাতক আসামিদের পে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তারও আগে গত ২৬ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় আদালত।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে টেকনাফের কিরণতলীর হোটেল নেটংয়ের সামনের সড়ক থেকে টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। পরে রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে নোয়াখালিয়া পাড়ায় র্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তিনি।
এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আটক, অপহরণ, বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে হত্যা, অপরাধে সংশ্লিষ্টতা, প্ররোচনা, সহায়তা ও হত্যার নির্দেশ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।