
'উন্নয়নের মূলধারায় বাংলাদেশ' স্লোগানকে ধারণ করে ২০১০ সালে যাত্রা শুরু করে দৈনিক 'আলোকিত বাংলাদেশ'। শুরু থেকেই দেশ, দেশের মানুষ এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ভাবনাকে সংবাদ ও লেখালেখির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে আসছে পত্রিকাটি। পত্রিকার নামের সঙ্গে যেমন 'বাংলাদেশ' শব্দটি যুক্ত, তেমনি এর স্লোগানেও প্রতিফলিত হয়েছে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা।
দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত 'আলোকিত বাংলাদেশ' শুরু থেকেই সংবাদ পরিবেশনে সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। একটি দায়িত্বশীল সংবাদপত্রের মূল কাজ শুধু সংবাদ পৌঁছে দেওয়া নয়; একই সঙ্গে মানুষের কথা বলা, সমাজের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরা, সম্ভাবনার কথা জানানো এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া। সেই গণমুখী সাংবাদিকতার জায়গায় 'আলোকিত বাংলাদেশ' তার নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছে।
সময় বদলেছে, বদলেছে সংবাদমাধ্যমের ধরন ও পাঠকের সংবাদ গ্রহণের অভ্যাস। ছাপা পত্রিকার পাশাপাশি ডিজিটালমাধ্যম এখন সংবাদ পরিবেশনের বড় ক্ষেত্র। এ পরিবর্তনের মধ্যেও একটি সংবাদপত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি তার বিশ্বাসযোগ্যতা। সত্য, তথ্যনির্ভরতা ও বস্তুনিষ্ঠতার জায়গাটি অটুট রেখেই সময়ের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হয়। 'আলোকিত বাংলাদেশ'-এর সামনের পথচলায় এ মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী হবে— এটাই প্রত্যাশা।
পত্রিকাটির স্বপ্নদ্রষ্টা, প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক কাজী রফিকুল আলম চেয়েছেন, 'আলোকিত বাংলাদেশ'-এর মাধ্যমে সমাজকে আলোকিত করতে, দেশকে আলোকিত করতে। সেই স্বপ্নকে ধারণ করে পত্রিকাটি দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়েছে। এ পথচলায় যাদের শ্রম, মেধা ও ভালোবাসা যুক্ত হয়েছে, তাদের সবার অবদান স্মরণযোগ্য।
বিশেষ করে যারা এ পত্রিকায় কাজ করেছেন— আজ আর আমাদের মাঝে নেই— তাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক কাজী রফিকুল আলমের পর বর্তমানে এ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান। তিনি দায়িত্ব নিয়ে পত্রিকাটির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার নানা উদ্যোগ নিয়েছেন।
সংবাদপত্রের ইতিহাস শুধু প্রকাশিত সংবাদ, শিরোনাম কিংবা পাতার হিসাব দিয়ে তৈরি হয় না; এর পেছনে থাকে অসংখ্য মানুষের শ্রম, নিষ্ঠা ও ভালোবাসা। তাদের অনেকের অবদান হয়তো সময়ের সঙ্গে আড়ালে চলে যায়; কিন্তু প্রতিষ্ঠানের স্মৃতিতে তারা থেকে যান।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে যারা 'আলোকিত বাংলাদেশ'-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং যারা এখনও কাজ করছেন, তাদের সবার প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা। তাদের সম্মিলিত শ্রমেই একটি সংবাদপত্র তার পথচলা অব্যাহত রাখে। আর এ দীর্ঘ পথচলার সঙ্গে আমারও রয়েছে একান্ত ব্যক্তিগত সম্পর্ক। 'আলোকিত বাংলাদেশ' যেদিন যাত্রা শুরু করে, তখন আমারও তারুণ্যের শুরু। পত্রিকাটির শুরু থেকেই আমি এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। জীবনের নানা বাস্তবতায় মাঝে বছর দুয়েক দূরে ছিলাম, পরে আবারও ফিরে এসেছি। ফলে এ পত্রিকার সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুধু পেশাগত নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, সাংবাদিকতা জীবনের অনেক স্মৃতি এবং বলা যায়, আমার তারুণ্যের একটি বড় অংশ।
সংবাদকক্ষের ব্যস্ততা, সহকর্মীদের সঙ্গে কাজের সময়গুলো, নানা প্রতিবেদন ও ফিচার তৈরির অভিজ্ঞতা— সব মিলিয়ে 'আলোকিত বাংলাদেশ' আমার সাংবাদিকতা জীবনের একটি স্মরণীয় অধ্যায়। সময়ের সঙ্গে মানুষ, প্রতিষ্ঠান ও কর্মপরিবেশ বদলায়; কিন্তু কিছু সম্পর্ক থেকে যায়। 'আলোকিত বাংলাদেশ'-এর সঙ্গে আমার সম্পর্কও তেমনই একটি সম্পর্ক।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ সময়ে তাই পত্রিকাটির সঙ্গে যুক্ত বর্তমান ও সাবেক সব সহকর্মীর প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা। যারা নেই, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। আর প্রিয় 'আলোকিত বাংলাদেশ'-এর জন্য প্রত্যাশা— সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে, মানুষের কথা বলে, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা অব্যাহত রেখে ভবিষ্যতেও দেশের মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।