ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বিদেশি জাহাজে জ্বালানি আসছে রাষ্ট্রীয় জাহাজ ভাড়া খাটছে

বিদেশি জাহাজে জ্বালানি আসছে রাষ্ট্রীয় জাহাজ ভাড়া খাটছে

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী তিনটি জাহাজ ভাড়ায় চলছে বিদেশে। আর দেশের জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে বিদেশ থেকে ভাড়া করা জাহাজে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জাহাজের প্রিমিয়াম বেড়েছে কয়েকগুণ। ফলে সাশ্রয় হচ্ছে না বৈদেশিক মুদ্রা। জানা যায়, বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি দেশি জাহাজে আমদানি করা পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ২০১৯ সালে করা হয় 'বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ (স্বার্থরক্ষা) আইন, ২০১৯'। ওই আইন অনুযায়ী আমদানি করা পণ্যের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ দেশি পতাকাবাহী জাহাজে বহন করতে হয়। অথচ আইন থাকলেও খোদ সরকারি প্রতিষ্ঠানে এই আইনের ব্যবহার নেই বলে অভিযোগ বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি)। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটিতে শতভাগ জাহাজই দেশি পতাকাবাহী।

বিএসসি দাবি করছে, আমদানি করা সরকারি খাদ্যপণ্য ও সার বিএসসি পরিবহন করে এলেও নীতিগত জটিলতায় পরিশোধিত জ্বালানি পরিবহন করতে পারছে না তারা। উল্টো নিজেদের মালিকানাধীন দেশি পতাকাবাহী ৩৯ হাজার টনের তিনটি ট্যাংকার জাহাজ বিশ্বের নানান দেশে ভাড়ায় পরিশোধিতসহ তরল জ্বালানি পরিবহন করছে।

বর্তমানে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির পদ্ধতি নিয়ে বিএসসি ও বিপিসির মধ্যে ১৩ বছর ধরে রশি টানাটানি চললেও কোনো সমাধান মিলছে না। এর মধ্যে গত তিন মাসের ব্যবধানে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির প্রিমিয়াম (জাহাজ ভাড়া, ইন্স্যুরেন্সসহ আনুষঙ্গিক খরচ) বেড়ে সাড়ে তিনগুণেরও বেশি হয়েছে।

চীনের ঋণসহায়তায় কেনা হয় তিন ট্যাংকার : ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ১ হাজার ৮৪৩ কোটি ৫৮ টাকা ব্যয়ে জি টু জি ভিত্তিতে চীন থেকে ছয়টি জাহাজ কেনা হয়। পুরো প্রকল্পে চীন সরকারের ১ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা ছিল। এর মধ্যে ২০১৯ সালে ৮৮৫ কোটি টাকায় তিনটি ট্যাংকার আসে। এতে এমটি বাংলার অগ্রদূত ও এমটি বাংলার অগ্রগতি ২৯৬ কোটি ১১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করে এবং এমটি বাংলার অগ্রযাত্রা ২৯২ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার টাকায় কেনা হয়।

জাহাজ তিনটি চীনের তৈরি। এমটি বাংলার অগ্রযাত্রা ২০১৯ সালের ২২ মে, এমটি বাংলার অগ্রগতি ওই বছরের ২৫ জানুয়ারি ও এমটি বাংলার অগ্রদূত ৩ জানুয়ারি বিএসসির বহরে যুক্ত হয়। এমটি বাংলার অগ্রগতি বর্তমানে ভারতের চেন্নাই ও এমটি বাংলার অগ্রদূত ভারতের জয়গড় বন্দরে অবস্থান করছে। আর এমটি বাংলার অগ্রযাত্রা রাশিয়ার সেইন্টস পিটার্সবার্গ বন্দর থেকে ২ অক্টোবর ব্রাজিলের সুয়াপে বন্দরের পথে যাত্রা করেছে। দেশে বছরে জ্বালানির চাহিদা ৭২ লাখ টনের কাছাকাছি। এর মধ্যে ১৫ লাখ টন ক্রুড আমদানি করে দেশে পরিশোধন করা হয়। পাশাপাশি দেশি পাঁচটি বেসরকারি প্ল্যান্ট থেকে কিছু জ্বালানি পাওয়া যায়। অবশিষ্ট পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করতে হয়। পরিশোধিত জ্বালানির মধ্যে ডিজেল, অকটেন, ফার্নেস অয়েল, জেট ফুয়েল, মেরিন ফুয়েল নিজেরাই আমদানি করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে গত তিন মাসের ব্যবধানে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির প্রিমিয়াম বেড়ে সাড়ে তিনগুণেরও বেশি হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত