ঢাকা রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বিসিএস থেকে প্রাথমিক, হতাশা পেরিয়ে সাফল্যের হাসি

বিসিএস থেকে প্রাথমিক, হতাশা পেরিয়ে সাফল্যের হাসি

সরকারি চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। চূড়ান্ত সুপারিশের তালিকায়ও নাম এসেছে। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের পর এবার বুঝি স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। পরিবারে শুরু হয়েছে আনন্দের প্রস্তুতি। কিন্তু নিয়োগের তালিকা প্রকাশের পর সেই আনন্দই বদলে যায় হতাশায়। মেধাতালিকায় নাম থাকলেও গেজেট বা নিয়োগপত্রে জায়গা হয়নি অনেকের। কেউ মেধাক্রমে প্রথম হয়েও বাদ পড়েছেন, কারও চাকরি আটকে গেছে নিজের বসতভিটা না থাকায়। কেউ আবার অন্য সরকারি চাকরির সুযোগ ছেড়ে শিক্ষক হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত আন্দোলন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের পর তাদের অনেকেই নিয়োগ পেয়েছেন। অনিশ্চয়তার দিন পেরিয়ে এখন তাদের ঘরে ফিরেছে স্বস্তি ও আনন্দ।

সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ এবং ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারে এমন ঘটনা ঘটেছে। দুই নিয়োগেই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর বাদ পড়েছিলেন অনেকে। পরে নতুন প্রজ্ঞাপন ও নিয়োগপত্রে তাদের বড় একটি অংশের নাম আসে। তবে কেন প্রথমে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছিল, আর কীভাবে অল্প সময়ের ব্যবধানে সেই সিদ্ধান্ত বদলে গেল— তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও কাউকে বাদ দেওয়ার মানদণ্ড এবং সিদ্ধান্তের কারণ স্পষ্ট করা জরুরি। এতে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সুযোগ কমবে। নীলফামারীর কৃষক পরিবারের সন্তান মো. সোহেল রানা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থী ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাস বিষয়ে মেধাক্রমে প্রথম হন। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও পরিশ্রমের পর সরকারি কলেজের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। তার সাফল্যে খুশি ছিলেন পরিবারের সদস্যরাও। কিন্তু গত ৩০ সেপ্টেম্বর নিয়োগের গেজেট প্রকাশ হলে দেখা যায়, সেখানে তার নাম নেই।

মেধাতালিকায় প্রথম হয়েও নিয়োগের তালিকা থেকে বাদ পড়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি সোহেল। হতাশা প্রকাশ করে ফেসবুকে লেখেন, ধন্যবাদ বাংলাদেশ, ৪৯তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম হয়েও আমাকে গ্যাজেট থেকে বঞ্চিত করার জন্য।

তার এই পোস্ট ঘিরে শুরু হয় আলোচনা-সামালোচনা। গণমাধ্যমেও উঠে আসে মেধাতালিকায় প্রথম হয়েও নিয়োগ না পাওয়ার ঘটনা। পরে গত ৫ অক্টোবর রাতে বাদ পড়া আরও ৪০ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সেই তালিকায় নাম আসে সোহেলেরও। নিয়োগের পর গণমাধ্যমকে সোহেল বলেন, আমার মায়ের দোয়া ও আপনারা (গণমাধ্যম) যদি সহযোগিতা না করতেন তাহলে আমার এই স্বপ্ন অসম্পূর্ণ হয়ে থাকতো।

সোহেলের মতোই চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছিলেন ঝিনাইদহের মিশন আচার্য। তবে তার ঘটনা আরও অমানবিক। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হলেও নিজের স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় আটকে যায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ।

ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় মায়ের সঙ্গে থাকেন মিশন। ছোটবেলা থেকেই বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত তিনি। মা ময়না আচার্য অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছেন। সেই মিশন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতও হন। কিন্তু তার সঙ্গে নির্বাচিত ১৮২ জনের মধ্যে ১৮০ জন নিয়োগপত্র পেলেও মিশনের নাম ছিল না। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের দফতরে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, স্থায়ী ঠিকানা যাচাইয়ের জটিলতায় তার নিয়োগ আটকে গেছে। জন্মের পর থেকে ঝিনাইদহে বসবাস করলেও নিজেদের কোনো বাড়ি নেই। ২০২২ সালে তার এক মামা দুই শতক জমি লিখে দিয়েছিলেন। চাকরি পেলে সেখানে ঘর তুলে বসবাসের পরিকল্পনা ছিল তার। চাকরি পাওয়ার আশায় এত দিন পরিশ্রম করেও শেষ মুহূর্তে এমন পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে পড়েন মিশন। নিজের বসতভিটা না থাকাই চাকরি না পাওয়ার কারণ হওয়ায় ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে আলোচনা শুরু হয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত