
মেয়েকে হারানোর শোক বুকে নিয়ে ন্যায়বিচারের আশায় এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ছুটছেন হামিদুল ইসলাম। তভর অভিযোগ, মেয়ে ঝর্ণা আক্তারকে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও তিনি সন্তুষ্ট নন। এ অবস্থায় মেয়ের হত্যার বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ (আইজিপি) বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি। গতকাল শনিবার সকালে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা এলাকার আনসার রোডে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন হামিদুল ইসলাম ও তভর পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
পরিবারের অভিযোগ, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা গ্রামের জংলাপাড়া এলাকার মাসুদ মিয়ার বাড়ি থেকে ঝর্ণা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামী অপু মিয়া প্রতিবেশীকে ফোন করে লাশ উদ্ধারের কথা জানান বলে অভিযোগ রয়েছে। নিহতের বাবা হামিদুল ইসলাম জানান, প্রায় দুই বছর আগে পরিবারের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অপু মিয়াকে বিয়ে করেন ঝর্ণা। বিয়ের পর পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ির আশপাশের এলাকায় ভাড়া থাকতেন তিনি। অপু তাকওয়া পরিবহনের মিনিবাস চালক হিসেবে কাজ করতেন বলে জানতেন হামিদুল। অভিযুক্ত অপু মিয়া কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার দড়িছড়িয়াকোনা গ্রামের হযরত আলীর ছেলে। ঝর্ণা হত্যার ঘটনায় বাবা হামিদুল ইসলাম বাদী হয়ে শ্রীপুর মডেল থানায় গত ১১ এপ্রিল মামলা দায়ের করেন।
হামিদুল ইসলামের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও আসামিদের গ্রেপ্তার এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে তিনি দৃশ্যমান কোনো সন্তোষজনক পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছেন না। মেয়েকে হারানোর শোকের পাশাপাশি বিচার না পাওয়ার অনিশ্চয়তা তভকে আরও হতাশ করে তুলেছে। এ কারণে তিনি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি জানানো হলেও তাঁরা প্রত্যাশিত সাড়া পাননি। হামিদুল ইসলাম বলেন, তিনি কোনো বিশেষ সুবিধা চান না; চান শুধু মেয়ের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার। তাঁর দাবি, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং মামলার তদন্তে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।