ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

৫৯২ কোটি টাকায় দুই নতুন কূপ

১০ বছরে ১০০.৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মিলতে পারে

১০ বছরে ১০০.৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মিলতে পারে

তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি নতুন কূপ খননে ৫৯২ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে। তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ নামের কূপ দুটি খনন করা হলে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আশা করছে সরকার। পাশাপাশি পাওয়া যাবে কনডেনসেট। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতা কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 'তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি অনুসন্ধানমূলক ও উন্নয়ন কূপ (তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩) খনন' শীর্ষক প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা আজ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠেয় একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে ৪১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) নিজস্ব তহবিল থেকে ১৭৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা জোগান দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পেট্রোবাংলার কোম্পানি বিজিএফসিএল।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, নতুন দুটি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কূপ দুটি থেকে দৈনিক ১৮ ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়া যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নতুন কূপের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করবে। সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আরও গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে ভূমিকা রাখবে।

১০ বছরে মিলতে পারে ১০০.৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস : প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ কূপ থেকে ১০ বছরে প্রায় ১০০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাস এবং ৬০ হাজার ৪৪৪ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন করা সম্ভব হতে পারে। কোম্পানির বর্তমান উৎপাদনস্থলের মূল্য বা ওয়েলহেড প্রাইস অনুযায়ী, উৎপাদিত গ্যাস ও কনডেনসেটের আনুমানিক মূল্য দাঁড়াবে ৩৩৯ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্যাসের মূল্য ২৮৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং কনডেনসেটের মূল্য ৫৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা। অন্যদিকে, ভোক্তা পর্যায়ের গ্যাসের দাম বিবেচনায় একই সময়ে উৎপাদিত গ্যাসের আনুমানিক মূল্য দাঁড়াবে ৬ হাজার ৫২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০ কূপ খননের লক্ষ্য : দেশে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এরপর ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় স্থলভাগে নতুন গ্যাসকূপ খননের ক্ষেত্রে তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩-কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বিজিএফসিএল বর্তমানে তাদের ছয়টি উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে পাঁচটি থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৮০ থেকে ৪৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে। কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে খনন করা ২৮টি কূপের মধ্যে ২৩টি থেকে দৈনিক প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে। তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে সংগৃহীত ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের তথ্য পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণের জন্য বিজিএফসিএল চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (সিএনপিসি) প্রতিষ্ঠান বিজিপি ইনকর্পোরেটেডকে নিয়োগ করেছিল। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি ওই দুই গ্যাসক্ষেত্রে ১৬টি নতুন কূপ ও সাতটি গভীর কূপ খননের সুপারিশ করে। প্রকল্পের আওতায় বিদেশি ঠিকাদারের মাধ্যমে কূপ দুটি খনন, দেশি ও বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ, গ্যাস সংগ্রহের পাইপলাইন স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজ করা হবে। ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি) ২০২৬ সালে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে।

পরিকল্পনা কমিশনের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলএনজি আমদানি কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি ও শিল্পোন্নয়নে সহায়তা করবে। ২০২৬ সালের ১৮ জুন অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পের ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক প্রস্তাবের ৬৩২ কোটি টাকা থেকে ৪০ কোটি টাকা কমিয়ে ব্যয় ৫৯২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু করতে একনেকের অনুমোদন প্রয়োজন। অনুমোদন পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কূপ দুটি খননের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত