
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নাদিয়া (১৯) নামের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার রাতে উপজেলার গফরগাঁও ইউনিয়নের হাতিখলা গ্রামে গৃহবধূর স্বামী কাওছার মিয়ার (২৩) বাড়ি থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে কাওছার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পলাতক। নিহত নাদিয়া নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার লংগাইর ইউনিয়নের বাগবাড়ি গ্রামের নাজিম উদ্দিনের মেয়ে। পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত এক বছর পূর্বে হাতিখলা গ্রামের নূর চানের ছেলে কাওসারের সাথে নাদিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।
নিহত মা ময়ফুল বানু বলেন, গত বুধবার দুপুরে নাদিয়া ফোন করে জানায় কিছুক্ষন পর সে আমাদের বাড়িতে আসবে। মেয়ের ফোন পেয়ে আমি রান্নাবান্না করে রাখি। পরে বুধবার রাত ৮টার দিকে মেয়ে জামাই কাওছার মিয়ার এক আত্মীয় তাঁর মুঠোফোনে ফোন করে নাদিয়ার মৃত্যুর খবর দেন।
পরে রাত ৯টা দিকে আমরা নাদিয়ার শ্বশুরবাড়ি গিয়ে লাশ পড়ে থাকতে দেখি। তখন ওই বাড়িতে অসংখ্য মানুষের ভিড় থাকলেও নাদিয়ার স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির কাউকে বাড়িতে পাননি তাঁরা। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। নিহত নাদিয়া তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানান তার মা ময়ফুল বানু। মা ময়ফুলের দাবী তার মেয়ে নাদিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। যদি হত্যা না করবে তাহলে মেয়ে জামাইসহ বাড়ির অন্য সদস্যরাও কেন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেল।
গফরগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) মশিউর রহমান বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য গৃহবধূর লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।