
মিয়ানমারে সামরিক জান্তার অধীনে আয়োজিত হচ্ছে সাধারণ নির্বাচন। দেশের একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে না থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন আয়োজন করে জেনারেল মিন অং হ্লাইং-এর সরকার। ওই নির্বাচনের প্রথম ধাপে সেনা-সমর্থিত রাজনৈতিক দল ইউএসডিপি জয়ী হয়েছে। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের প্রায় ৮৭ শতাংশ আসনে জিতেছে দলটি। গত সোমবার এই তথ্য জানায় মিয়ানমারের গণমাধ্যম ইরাবতি ও বার্তাসংস্থা এএফপি।
অবশেষে প্রায় পাঁচ বছর পর আয়োজিত এই নির্বাচনকে ‘গণতন্ত্রের পথে’ ফিরে আসার উদ্যোগ হিসেবে দেখাতে চাইছে সামরিক জান্তা। কয়েকটি ধাপে এই নির্বাচন সম্পন্ন হবে।
এরইমধ্যে পশ্চিমা কূটনীতিক ও গণতন্ত্রকামীরা এই ভোট নাকচ করেছেন। তারা এর বৈধতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে মত দেন, এটি সামরিক শাসনেরই আরেক রূপ হতে যাচ্ছে। অর্থাৎ, এই নির্বাচন ‘নতুন বোতলে পুরোনো মদ’ ছাড়া আর কিছুই হবে না।
যুক্তি হিসেবে তারা অং সান সু চি’র কারাদণ্ড, তার দল বিলুপ্ত করা, ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে সরকারের দমন-পীড়ন ও ভোটে সেনাবাহিনীর মিত্রদের আধিপত্যের কথা উল্লেখ করেন। ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) প্রত্যক্ষভাবে সেনাবাহিনীর প্রতি তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছে। গত সোমবার প্রকাশিত ফলে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ১০২ আসনের মধ্যে ৮৯টিতে জয়লাভ করে ইউএসডিপি। ২৮ ডিসেম্বর প্রথম ধাপের ভোটে অন্তর্ভুক্ত ১০২ আসনের ৮৯টি জিতে নিয়েছে ইউএসডিপি। বাকি আসনগুলো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রতিনিধিত্বকারী কয়েকটি দল জিতে নেয়। বিশ্লেষক ও গণতন্ত্র নিরীক্ষকরা ইউএসডিপিকে সামরিক বাহিনীর আজ্ঞাবহ দল হিসেবে বিবেচনা করেন। দলটির জ্যেষ্ঠ পদে অসংখ্য সাবেক ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আছেন। ২৫ জানুয়ারি ভোটের তৃতীয় ও সর্বশেষ ধাপের পর চূড়ান্ত ফল পাওয়া যাবে।
তবে ভোটের ফল যাই হোক, নিম্নকক্ষের ২৫ শতাংশ ও মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো সেনাবাহিনীর সদস্যদের জন্য বরাদ্দ থাকবে। সামরিক বাহিনী প্রণীত সংবিধানে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০২০ সালের নির্বাচনে সু চি’র ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) কাছে ভরাডুবি হয় ইউএসডিপি। তবে সামরিক বাহিনী ওই ভোটের ফল মেনে নেয়নি।