ঢাকা সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

মুসলিম শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় ভারতে কলেজের লাইসেন্স বাতিল

* এসএমভিডিআইএমই-র প্রথম এমবিবিএস ব্যাচে মোট ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৪ জনই ছিলেন মুসলিম
মুসলিম শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় ভারতে কলেজের লাইসেন্স বাতিল

মুসলিম শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় একটি মেডিকেল কলেজের স্বীকৃতি বাতিলের অভিযোগ উঠেছে ভারতে। ঘটনাটি ঘটেছে জম্মু ও কাশ্মীরের কাটরায় অবস্থিত শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল এক্সেলেন্স (এসএমভিডিআইএমই)-এ। হিন্দুত্ববাদীদের বিক্ষোভের মুখে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির এমবিবিএস কোর্স পরিচালনার অনুমতি বাতিল করেছে ভারতের জাতীয় মেডিকেল কমিশন (এনএমসি)। এ নিয়ে বিতর্কের ঝড় বয়ে যাচ্ছে ভারতজুড়ে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে জানান যায়, এসএমভিডিআইএমই-র প্রথম এমবিবিএস ব্যাচে মোট ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৪ জনই ছিলেন মুসলিম। এটি নিয়ে ‘শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী সংগ্রাম সমিতি’ নামে প্রায় ৬০টি আরএসএস ও বিজেপি-ঘনিষ্ঠ সংগঠন কলেজটির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। তারা মুসলিম শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিলের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করে আসছিল।

এ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো, শিক্ষকসংখ্যা এবং ক্লিনিক্যাল সুবিধায় গুরুতর ঘাটতির কথা উল্লেখ করে এমবিবিএস কোর্স পরিচালনার অনুমতি বাতিল করে মোদী সরকার। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এই সিদ্ধান্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং শীর্ষ প্রশাসনের দায় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। জম্মুতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যদি মেডিকেল কলেজে ঘাটতি থেকে থাকে, তাহলে শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে শুরু করে সবার কাছে জবাব চাইতে হবে। আপনারা একটি মেডিকেল কলেজ খুললেন, কিন্তু এনএমসি পরিদর্শনে তা পাস করতে পারলো না কেন?’

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাকিনা ইতোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের দ্রুত তাদের নিজ নিজ এলাকার নিকটবর্তী সরকারি মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা যায় এবং তাদের পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয়।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানুষ একটি মেডিকেল কলেজ পাওয়ার জন্য লড়াই করে, আর এখানে আমরা যা পেয়েছিলাম, সেটি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য আন্দোলন করা হয়েছে, এটি দুর্ভাগ্যজনক।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত