ঢাকা রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ অবৈধ : তুরস্ক

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ অবৈধ : তুরস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘অবৈধভাবে’ ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। গত শুক্রবার তুর্কি সংবাদমাধ্যম এ হাবেরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই সংঘাত প্রতিরোধ করাই ছিল আঙ্কারার প্রধান অগ্রাধিকার।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিদান জানান, তুরস্কের তিনটি মূল লক্ষ্য ছিল, প্রথমত, যুদ্ধ শুরু হতে না দেওয়া; দ্বিতীয়ত, যুদ্ধ যেন ছড়িয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করা এবং তৃতীয়ত, তুরস্ককে এই সংঘাত থেকে দূরে রাখা।

বর্তমানে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে হাকান ফিদান বলেন, যদি উভয় পক্ষের সদিচ্ছা থাকে তবে তাদের একটি সমঝোতায় আনা সম্ভব। তিনি গাজা যুদ্ধের উদাহরণ টেনে বলেন, বিশ্বের প্রত্যাশা হলো এই ‘অন্যায় যুদ্ধ’ যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ হোক এবং এর নেতিবাচক প্রভাবের অবসান ঘটুক।

ফিদান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনা করে বলেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগে বিশ্ব ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সঙ্গে আলোচনায় সফল হতে চায়, তবে ইসরায়েলের ওপরও তাদের প্রভাব খাটাতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করেন যে, পুরো অঞ্চলটি ধাপে ধাপে ইসরায়েলের সাজানো একটি ছকের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তিনি বলেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য নষ্ট করতে ‘বিভেদের বীজ’ বপন করা হচ্ছে। তুরস্কের এক নম্বর লক্ষ্য হলো এই বিভেদ রুখে দেওয়া।

তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত একটি আঞ্চলিক বৈঠকের পরিকল্পনা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ফিদান জানান, বৈঠকটি প্রথমে তুরস্কে হওয়ার কথা থাকলেও পাকিস্তানের প্রতিনিধির ভ্রমণ জটিলতার কারণে এটি এই সপ্তাহান্তেই পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তিনি বলেন, আমাদের পাকিস্তানি ভাইয়ের দেশে অবস্থান করতে হওয়ায় আমরা বৈঠকটি পাকিস্তানে সরিয়ে নিয়েছি।

দীর্ঘস্থায়ী সংকটের ফলে অঞ্চলে একটি বৃহত্তর ‘ইরান-বিরোধী জোট’ গঠন অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেন ফিদান। এ ছাড়া তিনি আঞ্চলিক জাতিগত সমীকরণ, বিশেষ করে কুর্দি জনগোষ্ঠীকে এই যুদ্ধে ‘গুঁটি’ হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, আমাদের কুর্দি ভাই-বোনদের এই খেলায় ব্যবহার করা হোক, এমন পরিস্থিতি আমরা দেখতে চাই না।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত