ঢাকা রোববার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ইবোলা : আরও ৩৮ মিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ইবোলা : আরও ৩৮ মিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিকান অব কঙ্গোয় (ডিআরসি) ইবোলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) সতর্ক করে বলেছে, জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এই প্রাদুর্ভাব ২০১৪-২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা সংকটের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। নতুন বরাদ্দের ফলে ইবোলা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অর্থায়নের পরিমাণ ২০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই অর্থ ঠিক কোন কোন খাতে ব্যয় করা হবে তা বিস্তারিত না জানালেও মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা সিডিসির পাশাপাশি ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডার সঙ্গে যৌথভাবে প্রাদুর্ভাবের বিরুদ্ধে ‘দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ’ নিতে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। সিডিসির ইবোলা রেসপন্স ইনসিডেন্ট ম্যানেজার ডক্টর সতীশ পিল্লাই জানান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্যে সিডিসি গত শুক্রবার এই প্রাদুর্ভাবের ওপর তিনটি বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে।

গত ১৭ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ইবোলার ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেইনের ওপর বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর এটিই প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন। রয়টার্স লিখেছে, ইবোলার এই বিশেষ স্ট্রেইনের জন্য এখন পর্যন্ত অনুমোদিত কোনো টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। ডিআর কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এ পর্যন্ত ৪৫২ জন ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ৮২ জন।

মন্ত্রণালয় গত শুক্রবার জানিয়েছে, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৭১ জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং এটি খুব দ্রুত স্থানীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ছে। সিডিসি বলছে, তাদের গাণিতিক মডেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যদি দ্রুত ও শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে ডিআর কঙ্গোয় বুন্দিবুগিও স্ট্রেইনের এই প্রাদুর্ভাব ২০১৪-২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার প্রাদুর্ভাবের সমান বা তার চেয়েও বড় আকার ধারণ করতে পারে। সিডিসির সেন্টার ফর ফোরকাস্টিং অ্যান্ড আউটব্রেক অ্যানালিটিক্সের পরিচালক জেসন আশের বলেন, ‘যেসব মডেলে রোগীদের আইসোলেশন বা আলাদা রাখার ব্যবস্থা সীমিত দেখা গেছে, সেখানে এই প্রাদুর্ভাব ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম রূপ ধারণ করতে পারে।’ পরিস্থিতি সামাল দিতে সিডিসি বর্তমানে ডিআর কঙ্গো কার্যালয়ে ৩০ জন এবং উগান্ডায় প্রায় ১০০ জন কর্মীকে রেখেছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আরও বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়েছে। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, কোনোভাবেই ইবোলা আক্রান্ত কাউকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতি অনুযায়ী, উপসর্গহীন সন্দেহভাজন মার্কিন নাগরিকদের কেনিয়ায় নির্মাণাধীন একটি বিশেষ কেন্দ্রে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে এবং উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে তৃতীয় কোনো দেশে।

এর অংশ হিসেবে ডিআর কঙ্গো, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদান ভ্রমণকারীদের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সিডিসি, যার আওতায় পড়েছেন গ্রিন কার্ডধারীরাও। যে কোনো মূল্যে মার্কিন ভূখণ্ডকে ইবোলামুক্ত রাখার এই কঠোর কৌশলটি পূর্ববর্তী নীতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। যদিও গুরুতর সংক্রামক ব্যাধি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব হাসপাতাল নেটওয়ার্কে ১৩টি বিশেষ চিকিৎসা কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই নীতির তীব্র সমালোচনা করে অসুস্থ মার্কিনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত