
জাপানে ব্যবসা পরিচালনা ভিসার নতুন ও কঠোর নিয়মের কারণে দেশটিতে বসবাসরত অনেক বিদেশি উদ্যোক্তা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। নতুন শর্ত পূরণ করতে না পারলে তাদের জাপান ছাড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
টোকিওর ওকুবো এলাকায় নেপালি খাবারের একটি ছোট রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন ৩৮ বছর বয়সি নেপালি নাগরিক বুধাথোকি সামঝানা। নিজের পরিশ্রমে গড়ে তোলা ব্যবসা এখন হারানোর শঙ্কায় তিনি। তিনি বলেন, আমি সবসময় জাপান ও নেপালের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আমার সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। জাপানে জনসংখ্যা দ্রুত কমছে এবং বিভিন্ন খাতে শ্রমিক সংকট থাকলেও, দেশটিতে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালের শেষ দিকে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ব্যবসা পরিচালনার ভিসার নিয়ম আরও কঠোর করে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ব্যবসা পরিচালনার ভিসা পেতে ন্যূনতম মূলধনের পরিমাণ ৫০ লাখ ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩ কোটি ইয়েন (প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার মার্কিন ডলার) করা হয়েছে। বুধাথোকি বলেন, এত বড় অঙ্কের মূলধন জোগাড় করা আমাদের মতো ছোট উদ্যোক্তাদের পক্ষে অসম্ভব।
২০১৬ সালে শিক্ষার্থী হিসেবে জাপানে আসেন তিনি। কয়েক বছর সঞ্চয় করে ২০২৩ সালে প্রথম রেস্তোরাঁ চালু করেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তৃতীয় রেস্তোরাঁ খোলার পর ১০ বছর পর নিজের ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে নেপাল থেকে জাপানে নিয়ে আসতে সক্ষম হন। তিনি বলেন, এখন সবচেয়ে বেশি চিন্তা মেয়েকে নিয়ে। সে জাপানের স্কুলে ভর্তি হয়েছে। ভিসা নবায়ন না হলে তার ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটাই ভাবছি।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত আরেক ব্যবসায়ী মনীশ কুমারও একই সমস্যায় পড়েছেন। প্রায় ৩০ বছর ধরে জাপানে বসবাস করলেও সম্প্রতি তাকে জানানো হয়েছে, তার ব্যবসা পরিচালনার ভিসা নবায়ন করা হবে না। ভিসাসংক্রান্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জাপানের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর হয়েছে। এখন কর পরিশোধের রসিদ, সামাজিক বীমার কাগজসহ অতিরিক্ত নথি জমা দিতে হচ্ছে। নতুন নিয়ম বাতিলের দাবিতে এরই মধ্যে ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ একটি অনলাইন আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন।