ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

মিয়ানমারে ৫ বছরের গৃহযুদ্ধে নিহত ১ লাখ

মিয়ানমারে ৫ বছরের গৃহযুদ্ধে নিহত ১ লাখ

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নোবেলজয়ী অং সান সুচির গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত ও সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে মিয়ানমারে সব পক্ষ মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে। গত বুধবার প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংঘাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা- আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা (একলেড)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত পাঁচ বছর ধরে চলা এই গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১১৪ জন মানুষ সংঘাতজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক, তবে দেশটির বিভিন্ন বিদ্রেহী গোষ্ঠী ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে রয়েছে। এই রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে হতাহতের কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি হিসাব নেই। ফলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে এই সংখ্যাটি নিরূপণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। একলেডের মতে গত বছর বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংঘাতকবলিত দেশের তালিকায় ফিলিস্তিনের পরেই ছিল মিয়ানমার এবং এই যুদ্ধে ১২০০টিরও বেশি ভিন্ন ভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী জড়িত থাকায় একে বিশ্বের সবচেয়ে খণ্ডিত সংঘাত বলা হচ্ছে।

পর্যবেক্ষণ সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক সান মন থান্ত বলেন, ‘এটা মারাত্মক। বেসামরিক মানুষের জন্য খুবই বিপজ্জনক। এই সংঘাত এখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং সংঘাতের গতিপ্রকৃতি সময়ে সময়ে উভয় পক্ষের অনুকূলে পরিবর্তিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের শেষের দিকে শুরু হওয়া কিছু বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সম্মিলিত আক্রমণে তারা অভাবনীয় অগ্রগতি লাভ করে এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন সমর্থন দেওয়ার পর এবং দুটি সবচেয়ে শক্তিশালী জাতিগত সংখ্যালঘু সেনাবাহিনীর সঙ্গে বেইজিং-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর পরিস্থিতি আবার সেনাবাহিনীর পক্ষে চলে গেছে।

এদিকে জাতিসংঘের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই যুদ্ধের কারণে মিয়ানমারের ভেতরে বর্তমানে প্রায় ৩৭ লাখেরও বেশি মানুষ সম্পূর্ণ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই গৃহযুদ্ধের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ দারিদ্র্য ও খাদ্যসংকটে বর্তমানে মিয়ানমারের প্রতি পাঁচজন মানুষের মধ্যে একজন তীব্র খাদ্যসংকটে ভুগছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় শত শত বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে, যার মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে এবং এই হামলায় যুদ্ধবিমান, ড্রোন ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে দেশটির সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে। সাধারণ মানুষ এর বিরুদ্ধে রাস্তায় নামলে জান্তা সরকার কঠোরভাবে তা দমন করে, যা পরবর্তীতে সশস্ত্র বিদ্রোহে রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা শহর ছেড়ে দুর্গম এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে জোট বেঁধে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করে। বর্তমানে মিয়ানমারে ১২০০টিরও বেশি সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত