
পেরুর ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে গত মঙ্গলবার শপথ নিয়েছেন কেইকো ফুজিমোরি। তিনি ২০২৬-২০৩১ সাল পর্যন্ত পেরুর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ৫১ বছর বয়সি এই রক্ষণশীল নেতা কঠোর নিরাপত্তা নীতি ঘোষণা করেছেন।
লিমার আইনসভা ভবনের সামনে দেওয়া অভিষেক ভাষণ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ফুজিমোরি। এই ভাষণে সংগঠিত অপরাধ, মাদক পাচার এবং অবৈধ খনন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, যেসব অঞ্চলে সংগঠিত অপরাধ চক্র রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করে দিয়েছে সেখানে জরুরি অবস্থার সময় জনশৃঙ্খলা রক্ষার নেতৃত্ব সাময়িকভাবে সশস্ত্র বাহিনীর হাতে থাকবে। এ কাজে জাতীয় পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করা হবে।
তিনি বলেন, সংবিধান সরকারকে যে ক্ষমতা দিয়েছে তা ব্যবহার করে অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পুলিশকে আরও শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক সমর্থন পুনর্বহাল, আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং বাহিনীর ক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ফুজিমোরি।
অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি মোকাবিলায় জাতীয় ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১১৩০ সোল (৩৩২ ডলার) থেকে বাড়িয়ে ১৩০০ সোল (৩৮২ ডলার) করার ঘোষণা দেন ফুজিমোরি। এই মজুরি নির্ধারণে আগের তুলনায় তা প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে তিনি পেরুর মুক্তবাজারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতি বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে, শপথ অনুষ্ঠান রাজনৈতিক উত্তেজনায়ও দেখা গেছে। ফুজিমোরির ভাষণ শুরুর ঠিক আগে বিরোধী জোটের কয়েকজন আইনপ্রণেতা কালো পোশাক ও শোকের ফিতা পরে সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
আইনপ্রণেতারা ‘ভুক্তভোগীদের জন্য বিচার চাই’ স্লোগান দেন এবং ফুজিমোরির বাবা, সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির (১৯৯০-২০০০) শাসনামলে নিহত ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শন করেন। এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত আলবার্তো ফুজিমোরি কারাভোগ করেছিলেন।
শপথ অনুষ্ঠানে স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই, ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া, বলিভিয়ার রদ্রিগো পাজ এবং চিলির হোসে আন্তোনিও কাস্তসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে ফুজিমোরি ও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকে অর্থনীতি, নিরাপত্তা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ফুজিমোরির ক্ষমতায় আসা লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থি রাজনীতির ক্রমবর্ধমান উত্থানেরই প্রতিফলন। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বাড়তে থাকা অপরাধের কারণে অঞ্চলের অনেক ভোটারই এখন রক্ষণশীল নেতৃত্বের দিকে ঝুঁকছেন।