প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০৬ মার্চ, ২০২৬
চলছে মাহে রমজানের মাগফেরাতের দশক। মাগফেরাত শব্দের অর্থ ক্ষমা। মহান আল্লাহ ক্ষমাশীল। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল।’ (সুরা হজ : ৬০)। সারা বছরের কৃত অপরাধের মার্জনা লাভের শ্রেষ্ঠ সময় এ মাহে রমজান। আর রোজাদারের ক্ষমা অবশ্যম্ভাবী। সেই মাগফেরাত পেতে করণীয় কি? তার কয়েকটি দিক হলো-
কোরআন তেলাওয়াত করা : আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘রমজান মাসে কোরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য (আদ্যোপান্ত) হেদায়াত এবং এমন সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি সংবলিত, যা সঠিক পথ দেখায়। সত্য ও মিথ্যার মধ্যে চূড়ান্ত ফয়সালাকারী।’ (সুরা বাকারা : ১৮৫)। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রমজান ছাড়া অন্য কোনো রাতে আমি রাসুল (সা.)-কে পূর্ণ কোরআন তেলাওয়াত করতে কিংবা ভোর পর্যন্ত সালাতে কাটিয়ে দিতে অথবা পূর্ণ মাস রোজা পালন করতে দেখিনি।’ (মুসলিম : ১৭৭৩)।
বেশি বেশি জিকির করা : আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা আমাকেই স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব। আর তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও; অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’ (সুরা বাকারা : ১৫২)। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নীরবে বসে আল্লাহর জিকির করে ও তার অশ্রু প্রবাহিত হতে থাকে, আল্লাহ তাকে তাঁর রহমতের ছায়ায় আশ্রয় দান করবেন।’ (বোখারি : ১৪২৩)।
কল্যাণকর কাজ করা : আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় নেক কাজ গোনাহগুলোকে মিটিয়ে দেয়। (সুরা হুদ : ১১৪)। রাসুল (সা.) বলেন, ‘রমজান মাসের প্রত্যেক রাতে একজন ঘোষণাকারী এ বলে আহ্বান করতে থাকে, হে কল্যাণের অনুসন্ধানকারী! তুমি আরও অগ্রসর হও! হে অসৎ কাজের পথিক! তুমি অন্যায় পথে চলা বন্ধ করো।
(তুমি কি জানো?) এ মাসের প্রতি রাতে আল্লাহতায়ালা কত লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন?’ (তিরমিজি : ৬৮৪)।
সবর বা ধৈর্য ধারণ করা : আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যারা ধৈর্য ধারণ করে এবং সৎকাজ করে, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান।’ (সুরা হুদ : ১১)। রাসুল (সা.) বলেন, ‘রমজান হলো সবরের মাস। আর সবরের প্রতিদান হলো জান্নাত।’ (সহিহ ইবনে খোযায়মা : ৩৪১)।
দান-সদকা করা : রাসুল (সা.) স্বভাবগতভাবেই সর্বাধিক দানশীল ছিলেন। রমজান মাস এলে তার দানের পরিমাণ বহুগুণে বেড়ে যেত। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) মানুষের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল ব্যক্তি ছিলেন। রমজান মাসে জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে কল্যাণবহ মুক্ত বায়ুর চেয়েও বেশি দানশীল হয়ে যেতেন। (অর্থাৎ রমজানে তার এ দানশীলতা আরও বেড়ে যেত)।’ (বোখারি : ১৯০২)।
বেশি বেশি নফল ইবাদত করা : কেয়ামতের দিন যখন কোনো বান্দার ফরজ নামাজের হিসেবে ঘাটতি দেখা দেবে, তখন নফল নামাজ দিয়ে সে ঘাটতি পূরণ করা হবে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার নামাজের হিসেব নেওয়া হবে। যদি ফরজ নামাজের হিসেব পূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে ভালো। আর যদি ফরজের হিসেবে ঘাটতি দেখা দেয়, তাহলে মহান আল্লাহ বলবেন, দেখ! আমার বান্দার কোনো নফল আছে কি-না। যদি নফল পাওয়া যায়, তাহলে আল্লাহতায়ালা বলবেন, নফল দিয়ে আমার বান্দার ফরজের ঘাটতি পূরণ করো।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৪২৬)।
দোয়া করা : রমজানে বেশি বেশি দোয়া করতে হবে। আল্লাহর কাছে জান্নাত চাওয়া এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া দরকার। কেননা, রমজান মাসে দোয়া বেশি কবুল হয়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘রমজানে প্রত্যেক মোমিন-মুসলমানের দোয়া কবুল করা হয়।’ (মুসনাদে আহমদ : ৭৪৫০)।
সম্ভব হলে ওমরা করা : সামর্থ্য থাকলে রমজানের যেকোনো দিন ওমরা করা উচিত। এ মাসে একটি ওমরা করলে একটি হজ আদায়ের সমান সওয়াব পাওয়া যায়।
(বোখারি : ১৮৬৩)। রাসুল (সা.) বলেন, ‘রমজান মাসে ওমরা করা আমার সঙ্গে হজ আদায় করার সমতুল্য।’ (বোখারি : ১৮৬৩)।