ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বন্যাদুর্গত সনাতনী সম্প্রদায়ের পাশে মারহামা

বন্যাদুর্গত সনাতনী সম্প্রদায়ের পাশে মারহামা

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দী বিপন্ন মানুষের মাধ্যে জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার নিবন্ধিত অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘মারহামা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’। ১৪ জুলাই (মঙ্গলবার) উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের নতুন পাড়া (হিন্দুপাড়া) এলাকার বন্যাদুর্গত সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রান্তিক ও চরম সংকটে থাকা পরিবারগুলোর মাঝে এ জরুরি খাদ্য ও জীবন রক্ষাকারী রসদসামগ্রী বিতরণ করা হয়। বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এ দুর্গম এলাকার ঘরে ঘরে গিয়ে সংস্থার মাঠপর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবীরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এ ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেন।

দুর্যোগ-পরবর্তী তীব্র খাদ্য সংকট মোকাবেলায় মারহামা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে একটি সুনির্দিষ্ট পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা প্যাকেজ দেওয়া হয়। এ বিশেষ ত্রাণ প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত ছিল- ৩ কেজি চাল (গোল্ডেন কুইন পাইজাম আতপ চাল/নুরজাহান সিদ্ধ চাল), ৫০০ গ্রাম মুড়ি, ১ প্যাকেট (১১০ গ্রাম) চানাচুর, ১ কেজি চিড়া, ২ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল, ৫০০ গ্রাম চিনি, ১ কেজি লবণ এবং ১ কেজি পেয়াজ। দুর্যোগের এ কঠিন মুহূর্তে ঘরে বসে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী হাতে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা।

জরুরি এ মানবিক সাড়াদান কর্মসূচি প্রসঙ্গে মারহামা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মুফতি তানভীর সিরাজ বলেন, ‘মারহামা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের মূল দর্শন হলো- ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত বৈষম্যের ঊর্ধ্বে উঠে আর্তমানবতার সেবা করা। চকরিয়ার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের নতুন পাড়ার সনাতনী সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা যেভাবে আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন, তা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। একজন সামাজিক দায়বদ্ধ ব্যক্তি হিসেবে এ সংকটে তাদের পাশে দাঁড়ানোকে আমাদের পরম দায়িত্ব মনে করেছি।’

তিনি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় মানবিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সরকার নিবন্ধিত সংস্থা হিসেবে আমরা আমাদের সীমিত সামর্থ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও অন্যান্য বন্যাকবলিত পরিবারের তাৎক্ষণিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা করেছি। তবে দুর্যোগের ব্যাপকতা অত্যন্ত বিশাল; যা একক কোনো সংস্থার পক্ষে সামাল দেওয়া অসম্ভব। আমরা সমাজের সর্বস্তরের বিত্তবান, প্রবাসী ও আন্তর্জাতিক মানবিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রতি আকুল আবেদন জানাচ্ছি, আপনারাও এ বানভাসি মানুষের সুরক্ষায় এগিয়ে আসুন। আমাদের সমন্বিত উদ্যোগই পারে চকরিয়ার এ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে।’ সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, চকরিয়ার বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগপর্যন্ত মারহামা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের এ জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ক্রমান্বয়ে অন্যান্য প্লাবিত এলাকাগুলোতে অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত