প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, 'যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেখানে মহামারি আকারে প্লেগ রোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তা ছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা পূর্বেকার লোকদের মাঝে কখনও দেখা যায়নি।' (সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪০১৯)।
দুর্যোগ আল্লাহর পরীক্ষা : মহান আল্লাহ মাঝে মাঝে বান্দাকে ভয়, মসিবত ও বিপদ দিয়ে পরীক্ষা করেন। এরশাদ হচ্ছে, 'কিছু ভয়, ক্ষুধা, জানমাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা করবো। তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।' (সুরা বাকারা : ১৫৫)।
দুর্যোগে ধৈর্য ধারণ করা : দুর্যোগে হা-হুতাশ না করা চাই। ধৈর্য ধরে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা করা উচিত। কারণ আল্লাহর অনুগ্রহ ছাড়া কেউ বিপদ থেকে উদ্ধার হতে পারে না। এরশাদ হচ্ছে, 'যারা আল্লাহর নিদর্শন ও তাঁর সাক্ষাৎ অস্বীকার করে, তারাই আমার অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়। তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।' (সুরা আনকাবুত : ২৩)।
ধৈর্য ধরা মোমিনের বৈশিষ্ট্য : রাসুল (সা.) বলেন, 'মোমিনের অবস্থা বিস্ময়কর। সকল কাজই তার জন্য কল্যাণকর। মোমিন ছাড়া অন্য কেউ এ বৈশিষ্ট্য লাভ করতে পারে না। তারা সুখ-শান্তি লাভ করলে শোকরগোজার করে, অসচ্ছলতা বা দুঃখ-মসিবতে আক্রান্ত হলে ধৈর্য ধারণ করে। প্রত্যেকটাই তার জন্য কল্যাণকর।' (মুসলিম : ৭৩৯০)।
আল্লাহর সাহায্য চাওয়া : দুর্যোগে অশ্লীলতা ত্যাগ করা, কোরআন তেলাওয়াত করা, সব সময় পবিত্র-পরিচ্ছন্ন থাকা ও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে পরিত্রাণের প্রার্থনা করা চাই। এরশাদ হচ্ছে, 'তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও।' (সুরা বাকারা : ৪৫)।
বেশি বেশি সদকা করা : দুর্যোগে খুব বেশি সদকা করা চাই। সদকার মাধ্যমে দুর্যোগ কেটে যায়, জীবনে বরকত হয়, অপমৃত্যু কমে ও অহংকার থেকে মুক্ত থাকা যায়। (আত তারগিব ওয়াত তারহিব : ২/৬৫)।
নিয়মিত দোয়া পাঠ করা : দুর্যোগে রাসুল (সা.) পড়তেন, 'আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনুনি, ওয়াল জুযামি, ওয়া মিন সায়্যিইল আসকাম।' (অর্থ : হে আল্লাহ! আমি শ্বেতরোগ, পাগলামি, কুষ্ঠরোগ ও দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তির জন্য তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি)। (সুনানে আবি দাউদ : ১৫৫৪)।
লেখক : সিনিয়র শিক্ষক, জামিয়াতুন নূর আল কাসেমিয়া, উত্তরা, ঢাকা