ঢাকা বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

রাজধানীতে পাঁচ চীনা নাগরিকসহ আটজন গ্রেপ্তার ৫১ হাজার সিম উদ্ধার

রাজধানীতে পাঁচ চীনা নাগরিকসহ আটজন গ্রেপ্তার ৫১ হাজার সিম উদ্ধার

রাজধানীর বসুন্ধরা ও উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপারেটরের ৫১ হাজার ২৫১টি সিম, ৫১টি মোবাইল ফোন, ২১টি ভিওআইপি গেটওয়ে সামগ্রী উদ্ধার ও পাঁচ চীনা নাগরিকসহ টেলিগ্রাম প্রতারক চক্রের আট সদস্য গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান- ডিবি সাইবার উত্তরের উপ-পুলিশ (ডিসি) কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- চেন লিং ফেং, জেং কং, জেং চাংকিয়াং, ওয়েন জিয়ান কিউ, হুয়াং ঝেং জিয়াং, মো. জাকারিয়া (২৬), নিয়াজ মাসুম (২০) ও কামরুল হাসান ওরফে হাসান জয় (৩৮)।

সংবাদ সম্মেলনে হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার বলেন, গ্রেপ্তারকৃত প্রতারকরা কখনও চাকরি দেওয়ার নামে, কখনও ভালো মুনাফায় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে বা কখনও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সস্তায় সরবরাহের চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতো। তিনি আরও বলেন, ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম অনলাইনে জব সংক্রান্ত প্রতারণা, টেলিগ্রাম গ্রুপের প্রতারণাসহ বিভিন্ন প্রতারণা সংক্রান্তে ডিএমপি, ডিবি সাইবার সাপোর্ট সেন্টার ও ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে রাজধানীতে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতারক চক্রের সন্ধান পায়। এই প্রতারক চক্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগরীর ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক নিয়াজ মাসুম ও কামরুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে অনলাইনে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১৪টি ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, বিভিন্ন অপারেটরের ৫১ হাজার ৬৭টি সিম, চারটি মোবাইল ফোন, দুটি সিপিইউ ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, মামলাটির নিবিড় তদন্তে জানা যায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের আরও অনলাইন প্রতারক চক্র রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল উত্তরা পশ্চিম থানার ৯ নম্বর সেক্টর থেকে পাঁচ জন বিদেশি নাগরিকসহ ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে অনলাইন প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সাতটি অবৈধ ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৪৭টি মোবাইল, বিভিন্ন অপারেটরের আরও ১৮৪ টি সিম ও পাঁচটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। অপরিচিত কারও সঙ্গে বিকাশে অ্যাকাউন্টে কোনোভাবে কোনো লেনদেন না করার অনুরোধ জানিয়ে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, অপরিচিত কারও সঙ্গে বিকাশে লেনদেন বা অন্য কারও অ্যাকাউন্টেও লেনদেন করা যাবে না। অনেকেই বুঝে না বুঝে নিজের অ্যাকাউন্ট অন্যকে ব্যবহার করতে দিচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের আইনি জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। বায়োমেট্রিক বাধ্যতামূলক হওয়ার পরও এতগুলো সিম কীভাবে কালেক্ট করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমরা আশ্চর্য হয়েছি। সবগুলো সিম রেজিস্ট্রার্ড কি না বা কার মাধ্যমে এতগুলা সিম এসেছে তা তদন্তের মধ্যে সবকিছু স্পষ্টভাবে বেরিয়ে আসবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত