
চিত্রনায়ক সালমান শাহকে (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত নতুন মামলায় তার সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দের আবেদন করেছে বাদীপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মামলার বাদী আলমগীর কুমকুমের পক্ষে অ্যাডভোকেট ফারুক আহাম্মদ এই আবেদন দাখিল করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটির ওপর আদেশ অপেক্ষমান রেখেছেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ বলেন, ‘মামলার আসামিরা দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে আদালতে অনুপস্থিত থেকে ন্যায়বিচার ব্যাহত করছেন। আসামিদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এজাহারভুক্ত সব আসামির সম্পদ জব্দের প্রার্থনা করছি।’
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা মডেল থানায় নতুন করে এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে গত বছরের ১২ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত পূর্ববর্তী সব তদন্ত প্রতিবেদন বাতিল করে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনায় সালমান শাহর বাবার মূল অভিযোগ এবং এই ঘটনায় জড়িত রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে জনপ্রিয় এই চিত্রনায়কের লাশ উদ্ধার করা হয়। সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সে সময় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন, যা পরে ১৯৯৭ সালে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানানো হয়। বিগত তিন দশকে সিআইডি, বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) একাধিকবার তদন্ত করে বিষয়টিকে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। তবে সালমান শাহর পরিবার শুরু থেকেই এই প্রতিবেদনগুলো প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের দাবি, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পিবিআই-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী নারাজি দেন। নতুন মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এজাহারনামীয় আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন। বর্তমানে আদালত এই মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের দায়িত্ব দিয়েছে রমনা মডেল থানা পুলিশকে। আসামিদের গ্রেপ্তার এবং মামলার জট খুলতে সম্পদ জব্দের এই আবেদনটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।