
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা- ১১ আসনের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে শোকজ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই অভিযোগে ঢাকা- ৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকেও শোকজ করা হয়েছে। গতকাল রোববার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর স্বাক্ষরিত চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
নাহিদ ইসলামকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি মনোনীত ঢাকা- ১১ আসনের বৈধ প্রার্থী। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ওই আসনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তার বিশাল আকৃতির রঙিন ছবি সংবলিত বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। বিলবোর্ডে ঢাকা- ১১ উল্লেখসহ দেশ সংস্কারের গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে থাকার স্লোগান রয়েছে, যা জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণবিধিমালার পরিপন্থী। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১৮ অনুযায়ী ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহ আগে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচার শুরু করা যাবে না। এ কারণে আগামী ১৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে সব বিলবোর্ড অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে তার বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ১৯ জানুয়ারি সকাল ১১টার মধ্যে নিজে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে পাঠানো পৃথক চিঠিতে বলা হয়েছে, তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি মনোনীত ঢাকা- ৮ আসনের বৈধ প্রার্থী। ওই আসনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তাঁর বিশাল আকৃতির রঙিন ছবি, ঢাকা- ৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী পরিচয় এবং গণভোটে হ্যাঁ বলি—এ ধরনের স্লোগানসংবলিত বিলবোর্ড রিটার্নিং কর্মকর্তার দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যা আচরণবিধির লঙ্ঘন। চিঠিতে একই বিধির উল্লেখ করে ১৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে সব বিলবোর্ড অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে কেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ১৯ জানুয়ারি সকাল ১১টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগে রুমিন ফারহানাকে শোকজ : ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ‘মব’ সৃষ্টি করে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি প্রদান, আক্রমণাত্মক অঙ্গভঙ্গি এবং বিচারিক কাজে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে চিঠি প্রদান করেছেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু বকর সরকার। শনিবার সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের সিভিল জজ ও নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির আশরাফুল ইসলামের কাছে চিঠিটি প্রেরণ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খানের বিরুদ্ধে প্রার্থী রুমিন ফারহানা এবং তার সহযোগীরা একাধিক বেয়াদবিপূর্ণ ও হুমকিমূলক আচরণ করেন। রুমিন ফারহানা বারবার ম্যাজিস্ট্রেটের দিকে আক্রমণাত্মকভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও আঙুল উঁচিয়ে ইংরেজিতে সতর্ক করে বলেন, ‘দিজ ইজ দ্যা লাস্ট টাইম আই ওয়ার্নিং ইউ, আই উইল নট লিসেন টু দিজ।’ বাংলায় তিনি ‘আপনি পারলে থামাই দেন, আজকে ভদ্রতা দেখাচ্ছি, নেক্সট টাইম কিন্তু এই ভদ্রতা করব না’- এমন কথাও বলেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তার সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বলেন, ‘বুইড়া আঙ্গুল দেখায়, আপনারা কিচ্ছু করতে পারেএকপর্যায়ে রুমিন ফারহানা উপস্থিত জনতাকে দেখিয়ে হুমকি দেন এবং জনগণকে ক্ষেপিয়ে মব সৃষ্টি করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘আজকে আমি আঙুল তুলে বলে গেলাম, আমার এই মানুষ, এইখান থেকে বাইর হইতে পারবেন না... মাথায় রাইখেন।’
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জুয়েল মিয়াসহ অন্যান্যরা মারমুখী আচরণ করেন, যা বিচারিক কাজে বাধা এবং কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি প্রদানের শামিল। অভিযোগে আরও উল্লেখ রয়েছে, ইতোমধ্যে গত ১১ জানুয়ারি রুমিন ফারহানার আরেক সমর্থক আশিকুর রহমানকে নির্বাচনি আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। অর্থাৎ, এক সপ্তাহের মধ্যে একই প্রার্থীর পক্ষ থেকে নির্বাচনি বিধি লঙ্ঘনের দ্বিতীয় ঘটনা রেকর্ড করা হয়। প্রশাসনের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। নোটিশে বিষয়টির সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। পরিশেষে উল্লেখ করেন, বিচারিক কাজে বাধা প্রদান ও সরকারি কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়া একটি গুরুতর অপরাধ। নির্বাচনি আচরণ বিধি লঙ্ঘনের পাশাপাশি এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সরাইল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু বকর সরকার বলেন, আদালতের একজন সিভিল জজের কাছে চিঠি প্রদান করেছে। বাকিটা আদালতের বিষয় আদালত দেখবেন।