ঢাকা বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

৬ মাস চিকিৎসা, ৩৫ অপারেশনের পর ঘরে ফিরল আবিদ

৬ মাস চিকিৎসা, ৩৫ অপারেশনের পর ঘরে ফিরল আবিদ

রাজধানীর উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ৩৫টি অপারেশনের পর দীর্ঘ ৬ মাস চিকিৎসাধীন থেকে অবশেষে বাড়ি ফিরল মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দগ্ধ শিক্ষার্থী আবিদুর রহিম (১২)। সে স্কুলটির পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

গতকাল বুধবার দুপুরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন।

তিনি জানান, আপনারা জানেন আবিদুর রহিম গত বছরের ২১ জুলাই ঘটনার দিন থেকে আমাদের এখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। দীর্ঘ ছয় মাস অর্থাৎ ১৮০ দিন আমাদের এখানে আবিদুর রহিমকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আমাদের এখানে যে ৩৫ জনকে চিকিৎসা দিয়েছি তার মধ্যে রহিম সর্বশেষ। আবিদুরের শরীরের ২২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। ২২ শতাংশ দগ্ধ অনেক কম শোনা যায় কিন্তু তার সঙ্গে যে সমস্যাগুলো ছিল ইনহ?্যালেশন বার্ন ও ফেস পোড়া এবং হাত পোড়া ছিল। ঘটনার সময় সে একদম ক্লাসের সামনের দিকে ছিল।

এত দীর্ঘ সময় তার চিকিৎসার বিষয়ে তিনি জানান, তার অবস্থা ক্রিটিক্যাল ছিল, তাকে পাঁচ দিন আইসিইউতে রাখতে হয়েছিল। এরপর তাকে হাইডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) ৬ দিন রাখা হয়। ১৭২ দিন সে কেবিনে ছিল। দুই হাত পোড়ার কারণে তাকে ফ?্যাসেকটমি অর্থাৎ দুই হাতের চামড়া কেটে দেওয়া হয়েছিল। এইভাবে আমরা তার হাতটি রক্ষা করতে পেরেছি। ৩৫ বার তার শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তার ছোট ছোট অপারেশন করা হয়েছে ২৩ বার এবং চামড়া লাগানো হয়েছে দশবার। ফেসের এবং হাতের ফ্লাক কাভারেজ করতে হয়েছে। যত দীর্ঘদিন সে হাসপাতালের বেডেই ছিল, সূর্যের আলো পায়নি বা বের হতে পারেনি। এজন্য তার শরীরের বিভিন্ন ক্রিটিক্যাল সিচুয়েশন তৈরি হয়েছিল। এখন তার নিয়মিত থেরাপি নিতে হবে সেটা আমরা চেষ্টা করছি যাতে করে তার বাসায় গিয়ে দেওয়া যায়।

তিনি আরও জানান, গতকাল বুধবার আবিদুর রহিম বাড়িতে যাবে। আমাদের এখানে যে ৩৫ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন, তার মধ্যে আবিদ ছিল সর্বশেষ। আজকে আমাদের আনন্দের দিন। আমি সর্বপ্রথম এই চিকিৎসায় যারা সহযোগিতা করেছেন, আমাদের চিকিৎসক, নার্স এবং আমাদের যারা কর্মচারী ছিলেন। আমরা নরমালি ডিউটি করি ৮ ঘণ্টা কিন্তু তখন আমাদের ডিউটির কোনো টাইম ছিল না। কাউকে ডেকে আনতে হয়নি, তারা স্বপ্রণোদিত হয়েই এই চিকিৎসায় যুক্ত হয়েছেন। ছয় মাস একটি হসপিটালে থাকা পরিবারের জন্য অনেক কষ্টকর। তাদের থাকা খাওয়া অনেক সমস্যা হয়। আমরা প্রত্যেকটি পরিবারের কাছ থেকে আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছি। এই চিকিৎসার ব্যয় অনেক। অনেকে আমাদের সরাসরি সহযোগিতা করতে চেয়েছিলেন আর্থিকভাবে, কিন্তু যেহেতু নির্দেশনা ছিল সরকার এই চিকিৎসার ব্যয় বহন করবেন; তাই আমরা সরাসরি কারো কাছ থেকে আর্থিক অনুদান নিতে পারেনি। পরিচালক আরও বলেন, এত বড় একটি ইনসিডেন্টে আমরা সাংবাদিকদেরও সহযোগিতা পেয়েছি, তারা আমাদের বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করে করেননি এবং আমাদের চিকিৎসায় কোনো অভিযোগ করেনি। আমরা চেষ্টা করেছি সাংবাদিকদের সবসময় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য। আমি তাদেরও আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। এতগুলো মানুষের আমরা চিকিৎসা করেছে আমাদেরও যে কিছুটা ব্যত্যয় হয়নি সেটা আমরা বলবো না, আমাদেরও কিছু দোষ ত্রুটি ছিল। অনেকে প্রশ্ন করতে পারে, তাদের জন্য স্পেশাল কিছু ছিল কিনা, সাধারণ রোগীর ক্ষেত্রে সেটা মানা হয়নি; বিষয়টি এমন নয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত