ঢাকা মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

চোখে মারাত্মক সমস্যা ধরা পড়েছে ইমরান খানের

চোখে মারাত্মক সমস্যা ধরা পড়েছে ইমরান খানের

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান একটি গুরুতর চোখের রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। যার নাম সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন (সিআরভিও)। এই রোগ সাধারণত বয়স্কদের মধ্যে দেখা যায় এবং উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মতো সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। চিকিৎসকদের মতে, চোখের রেটিনা থেকে রক্ত বের করে নেওয়া একটি প্রধান শিরা (সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন) রক্ত জমাট বেঁধে বন্ধ হয়ে গেলে এই রোগ হয়। এতে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে রেটিনায় ফোলা, তরল ও রক্ত জমা এবং কখনও চোখের ভেতরে রক্তক্ষরণ হতে পারে। এর ফলে হঠাৎ বা ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে। একজন জ্যেষ্ঠ চক্ষু বিশেষজ্ঞ জানান, সিআরভিও রোগীদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। কারণ কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যে জটিলতা দেখা দিতে পারে।

তিনি বলেন, অনেক সময় এই রোগকে ‘১০০ দিনের গ্লুকোমা’ বলা হয়। এতে চোখে নতুন রক্তনালি তৈরি হয় এবং চোখের চাপ বেড়ে গিয়ে গ্লুকোমার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, এটি শুধু চোখের সমস্যা নয়। এটি শরীরের রক্তনালির রোগের লক্ষণও হতে পারে। তাই রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জরুরি। ইমরান খানের ক্ষেত্রে ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার পর আদিয়ালা কারাগারে তার বিস্তারিত পরীক্ষা করা হয়। সেখানে রেটিনার ছবি ও বিশেষ স্ক্যান করা হয়। পরীক্ষার ফল অনুযায়ী তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর গত সপ্তাহে গভীর রাতে তাকে ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (পিমস) নেওয়া হয়। পিমসে তাকে অ্যান্টি-ভিইজিএফ ইনজেকশন দেওয়া হয়। এই চিকিৎসা রেটিনার ফোলা কমাতে এবং রক্তনালি থেকে তরল বের হওয়া বন্ধ করতে সাহায্য করে। চিকিৎসকেরা জানান, শুরুতে মাসে একবার করে এই ইনজেকশন দিতে হয়। বিশেষজ্ঞ বলেন, রেটিনার অবস্থার ওপর নির্ভর করে তাকে আরও কয়েক মাস মাসিক ইনজেকশন নিতে হতে পারে। এটি এই রোগের সাধারণ চিকিৎসা পদ্ধতি। অনেক ক্ষেত্রে কম খরচের কারণে ‘অ্যাভাস্টিন’ নামের একটি ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ‘আইলিয়া’ ও ‘লুসেনটিস’ নামের অনুমোদিত ওষুধও ব্যবহৃত হয়। তবে হাসপাতালে কোনো ওষুধ দেওয়া হয়েছে, তা জানানো হয়নি।

চিকিৎসকেরা বলেন, ৭৪ বছর বয়সে এই রোগ হওয়া উদ্বেগজনক। কারণ এটি হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের রক্তনালির রোগের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত। তাই রোগীদের শুধু চোখ নয়, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, হৃদস্পন্দন ও রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যাও পরীক্ষা করা হয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত