
ঋণের নামে জনতা ব্যাংক থেকে ১৩৬ কোটি ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩১ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গতকাল রোববার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে বিকেল পৌনে ৪টায় তাকে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে সংস্থাটির উপপরিচালক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ও সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে একটি টিম।
এর আগে দুদকের উপপরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ জয়ানাল আবেদীনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সালমান এফ রহমানের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত।
জানা গেছে, ঢাকা-১ এর মামলা নম্বর-০৩ (তারিখ: ০৩-১১-২০২৫) এর আওতায় সালমান এফ রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭(৩), ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দুদকের তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক পিএলসি, লোকাল অফিস, ঢাকার মাধ্যমে স্কাইনেট অ্যাপারেলস লিমিটেড নামের একটি নবসৃষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে সুবিধাসহ বিপুল অঙ্কের ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের পূর্বে কোনো ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ছিলেন না বলে জানিয়েছে দুদক।
অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, বেক্সিমকো গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ও বিবি এলসির মাধ্যমে কাগুজে আমদানি-রফতানি দেখিয়ে ‘বিল’ তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে ১৫,৫৫,৪৬৫.৯৫ মার্কিন ডলার রফতানি মূল্য দেশে প্রত্যাবাসন না করে মোট ১,৪৭,২৯,৩৪০ মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৩৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও আত্মসাতকৃত অর্থ সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক জজ নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও ভাতিজা আহমেদ শাহরিয়ার রহমানের মালিকানাধীন বলে জানা যায়। তারাও মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
উল্লেখ্য, সালমান এফ রহমান বর্তমানে রামপুরা ও মতিঝিল থানার মোট ১৮টি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন।