ঢাকা শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

জুলাই শহিদদের রক্তের ঋণে জাতি আবদ্ধ

বললেন জোনায়েদ সাকি
জুলাই শহিদদের রক্তের ঋণে জাতি আবদ্ধ

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের রক্তের ঋণ ধারণ করে তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেছেন, জুলাই শহিদদের রক্তের ঋণে জাতি আজ আবদ্ধ। তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য সরকার, সংসদ নেতা, বিরোধী দল এবং সব সংসদ সদস্যকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলেই শহিদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জোনায়েদ সাকি বলেছেন, দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং নতুন ধাপে একটি গণতান্ত্রিক সংসদীয় ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের রক্তের ঋণ ধারণ করে তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সবাইকে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর স্বপ্ন ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের। কিন্তু তা এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বরং সময়ের পরিক্রমায় মানুষের ভোটাধিকার ও বেঁচে থাকার অধিকার পর্যন্ত হরণ করা হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল।

জোনায়েদ সাকি বলেন, গত ১৭ বছর ধরে দেশে যে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম ছিল তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল, ছাত্র-শ্রমিক, কৃষক, নারীসহ বিভিন্ন সংগঠন সংগ্রাম করেছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের ‘মধ্যরাতের ভোট ডাকাতি’র পর রাজনৈতিক দলগুলো বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলে। তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপিসহ ৩৯টি রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার, মেরামত ও রূপান্তরের জন্য ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে এক দফার ভিত্তিতে সরকার পতন ও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের আন্দোলন শুরু করেছিল। সেই আন্দোলনে বহু নেতাকর্মী গুম, খুন, নির্যাতন ও ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন। সাকি আরও বলেন, বিরোধী দলের অনেক নেতাকর্মীকে গ্রামের ধানক্ষেতে কিংবা কবরস্থানে আশ্রয় নিতে হয়েছে। নিজ নির্বাচনি এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরেও এমন বহু ঘটনার সাক্ষী রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেই সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। এটি শুধু ছাত্রদের আন্দোলন ছিল না, বরং ছাত্র-শ্রমিক, কৃষক, নারীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল। এই আন্দোলনে ছাত্র, শিশু, নারীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই আন্দোলনে শহিদ হয়েছেন আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, রিয়াদসহ অসংখ্য তরুণ। তার নিজের নির্বাচনি এলাকা বাঞ্ছারামপুরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা নয়ন মিয়াও পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এছাড়া আশিক, তুহিন, ইসমাইল ও ইমরানসহ অনেক তরুণ জীবন দিয়েছেন। সাকি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা হলো বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তর করা। এ জন্য জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডসহ সব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, একটি রাষ্ট্রে খেটে খাওয়া মানুষের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হলে প্রকৃত ঐক্য প্রতিষ্ঠা হয় না। ন্যায়বিচার ও মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতের মধ্য দিয়েই জনগণের ঐক্য গড়ে ওঠে, আর সেই ঐক্যের ভিত্তিতেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত