ঢাকা শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে টালবাহানা করা হচ্ছে

বললেন আখতার হোসেন
জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে টালবাহানা করা হচ্ছে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, তারা নতুন সংবিধানের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়েছিল। সকল রাজনৈতিক দল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল নতুন সংবিধান প্রণয়নের দিকে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, কাঙ্ক্ষিত জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বর্তমানে বাস্তবায়নে টালবাহানা করা হচ্ছে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে তিনি এসব কথা বলেন। আখতার হোসেন বলেন, ‘আজ ২৬ মার্চ, আমরা স্মরণ করছি সেই বীর সেনানীদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা বিজয় অর্জন করতে পেরেছিলাম। ২৬ মার্চ আমাদের জন্য বিশেষ দিন- এদিনই স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার ও ন্যায়বিচারের জন্য হয়েছিল। তারপর অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে দেশে বারবার ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার এসেছে, আর মানুষ সেই শোষণ ও অন্যায়কে প্রতিহত করতে জীবন দিয়েছে। ২০২৪ সালের প্রেক্ষাপটে আমরা দেখেছি, স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র, শ্রমিক ও জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমেছে। ১৯৭১ সালের মতোই ২০২৪ সালে আমরা আরেকটি বিজয় অর্জন করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমরা বীর শহীদদের স্মরণ করি এবং তাদের স্বপ্নের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ রক্ষার শপথ নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। সেই শপথের অংশ হিসেবেই জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের জনগণকে গণভোটের মাধ্যমে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। অধিকাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। এখন সেই গণভোটের রায় বাস্তবায়ন জরুরি।’ আখতার হোসেন বলেন, ‘কাঠামোগত সংবিধান দিয়ে পরিপূর্ণ গণতন্ত্র অর্জন সম্ভব নয়। তাই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা বন্ধ করে নতুন সংবিধান বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। আমরা মনে করি, এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা এবং জুলাই আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে তালবাহানা করা হচ্ছে। জনগণ এই প্রতারণা মেনে নেবে না। আজ স্বাধীনতা দিবসে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমরা আহ্বান জানাই-স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করুন, ২০২৪ সালের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করুন এবং গণভোটের রায় কার্যকর করে গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যান।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত