
সদ্য বিদায়ী এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ শতাংশের বেশি বৃষ্টি হয়েছে দেশে। আট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে বরিশাল বিভাগে। এই বৃষ্টির কারণে এপ্রিল মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থেকেছে। মাসে এক দিন মাত্র সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছিল। আর সর্বনিম্ন ছিল ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া মে মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। এ প্রতিবেদনে মে মাসের সম্ভাব্য আবহাওয়া পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়েছে।
দেশের সবচেয়ে উষ্ণ মাস এপ্রিল। এ মাসে গড় তাপমাত্রা থাকে ৩৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে গত এপ্রিল মাস সর্বোচ্চ ও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিক থেকে যথাক্রমে শূন্য দশমিক ৬ ডিগ্রি এবং শূন্য দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থেকেছে।
চলতি বছর গরমের মৌসুম শুরুর দিকেই আবহাওয়া অধিদপ্তর পূর্বাভাস দিয়েছিল, অন্তত এপ্রিলে গরম তত তীব্র হবে না। দেখা গেছে, ২২ এপ্রিল শুধু এক দিন রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০২৪ সালে পুরো এপ্রিল মাস তাপপ্রবাহ ছিল। তবে সদ্য বিদায়ী এপ্রিলে বিচ্ছিন্নভাবে তাপপ্রবাহ থেকেছে বিভিন্ন স্থানে। এবং তা টানা থাকেনি। মাসের শুরুতে তাপপ্রবাহ শুরু হলেই দুই দিনের মধ্যেই তা কমে যায়। তারপর বৃষ্টি শুরু হয় প্রথম সপ্তাহেই। দ্বিতীয় সপ্তাহের পর আবার তাপপ্রবাহ শুরু হলে তা টেকে সাত দিনের মতো। তাও দেশের সর্বত্র তা থাকেনি। সর্বোচ্চ ২২টি জেলায় তাপপ্রবাহ ছিল। মাসের শেষ দিকে আবার বৃষ্টি শুরু হয়। এখন এই মে মাসের তিন দিন চলে গেলেও সেই বৃষ্টির রেশ রয়ে গেছে।
কোনো এলাকার তাপমাত্রা যদি ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তবে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ ও ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলে তাকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বলে। তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি থাকলে তাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। এর বেশি হলে তা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়।
এপ্রিল মাসে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে বরিশাল বিভাগে। ওই বিভাগে ১৬৯ শতাংশের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। তবে রাজশাহী বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য কম বৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা বিভাগে প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এই পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মে মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। এ মাসে এক থেকে দুটি লঘুচাপ এবং সেখান থেকে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ও হতে পারে।