
দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে সরবরাহ কমের অজুহাতে আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ১২ থেকে ১৫ টাকা। ঈদের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে মুড়িকাটা পেঁয়াজের মৌসুম শেষ হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমায় দাম বেড়েছে দাবি বিক্রেতাদের। গতকাল শনিবার হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে প্রতিটি দোকানেই পেঁয়াজের ভালো সরবরাহ লক্ষ্য করা গেছে। এরপরও পেঁয়াজের দাম খানিকটা ঊর্ধ্বমুখী। একসপ্তাহ আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ প্রকারভেদে ২৮ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে হঠাৎ করে দাম বাড়ায় বিক্রি কমেছে।
হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই পেঁয়াজের দাম কিন্তু ৩০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছিল। কিন্তু ঈদ ঘনিয়ে আসতেই পেঁয়াজের বাজার তো অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। একলাফে পেঁয়াজের বাজার ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় উঠে গেছে। রাতারাতি যদি এভাবে দাম বেড়ে যায় তাহলে আমরা কিনবো কীভাবে? আয় রোজগার তো ওইভাবে বাড়ছে না।
হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা শাকিল খান বলেন, মুড়িকাটা পেঁয়াজের মৌসুম শেষ হওয়ার কারণে এই জাতের পেঁয়াজের সরবরাহ একেবারে নেই। নতুন করে হালি জাতের পেঁয়াজ বাজারে এলেও এর সরবরাহ এখনও পুরোদমে হচ্ছে না। ফলে বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। সেই সঙ্গে ঈদকে ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পেঁয়াজের চাহিদা বেড়েছে। এর ফলে মোকামে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমের কারণে দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। আগে যেখানে প্রতি মণ পেঁয়াজ আমরা কিনতাম এক হাজার টাকায়। এখন কিনতে হচ্ছে ১৩০০ থেকে ১০০৬ টাকা মন দরে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর দিনাজপুরের ইনচার্জ বোরহান উদ্দিন বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা নিয়মিতভাবে আমাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বাজার তদারকি করে যাচ্ছি। কেউ যেন অহেতুকভাবে কোনও পণ্যের মজুত বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়াতে না পারেন সেটি দেখা হচ্ছে। তারা কি দামে কোন পণ্য কিনছেন, কি দামে বিক্রি করছেন সেটি দেখা হচ্ছে। কারও বিরুদ্ধে বাড়তি দামে পণ্য বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে জরিমানাসহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।