ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

যত দ্রুত সম্ভব দেশকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হবে

বললেন অর্থমন্ত্রী
যত দ্রুত সম্ভব দেশকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হবে

ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে যত দ্রুত সম্ভব দেশকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে মানুষের সেবা প্রাপ্তি সহজ করতে, স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং খরচ ও সময়ের সাশ্রয় করতে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে যত দ্রুত সম্ভব পুরো দেশকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হবে। এই অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় দেশের সাধারণ জনগণ, ব্যবসায়ী, কৃষক ও শ্রমিকসহ প্রতিটি নাগরিককে সম্পৃক্ত করতে হবে।’ গতকাল সোমবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইনোভেশন শোকেসিং ২০২৫-২৬’- প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য হলো সেবা সহজীকরণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। আমরা যে বাজেট প্রণয়ন করেছি, তাতে দেশের প্রতিটি স্তরের মানুষকে-এমনকি সাধারণ কারিগর, শিল্পী ও গায়কদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রযাত্রাকে সফল করতে হলে প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই।’ তিনি বলেন, ‘নাগরিকদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত করতে সরকার বিশাল কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।’

প্রযুক্তি খাতে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার আদান-প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী জানান, তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ এস্তোনিয়ার প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা এবং মডেল যাচাইয়ের জন্য বর্তমানে সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সেখানে অবস্থান করছে। এক মুহূর্ত সময় অপচয় না করে আন্তর্জাতিক সেরা অনুশীলনগুলো দেশের আর্থিক খাতে কাজে লাগানোর নির্দেশ দেন তিনি।

উপস্থিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ইনোভেশন শোকেসিংয়ে যে সব চমৎকার উদ্ভাবন প্রদর্শিত হয়েছে, তা প্রশংসনীয় হলেও চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে আরও ধারাবাহিক উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। তিনি ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের মোট গ্রাহকের কত শতাংশ এই ডিজিটাল সেবা পাচ্ছেন, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গ্রাহকদের পুরোনো অভ্যাস পরিবর্তন করে অনলাইন সেবায় অভ্যস্ত করতে প্রতিটি শাখার কর্মকর্তাদের তৎপর হতে হবে এবং আকর্ষণীয় চিঠির মাধ্যমে গ্রাহকদের ডিজিটাল সেবার সুবিধাগুলো অবহিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ব্যাংক, বীমা কিংবা পুঁজিবাজারসহ সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে উদ্ভাবিত ডিজিটাল সেবাগুলোর কাভারেজ ও আউটরিচ বাড়াতে হবে। জনগণ যেন ঘরে বসে, রিকশায় বা গাড়িতে বসে অনায়াসে সেবা নিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের মূল্যবান সময়, যাতায়াত খরচ ও হয়রানি কমানোর মাধ্যমেই দেশের প্রকৃত প্রডাক্টিভিটি বা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

মন্ত্রী গণমাধ্যমের প্রতি এ ধরনের আয়োজনের খবর জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, এতে সাধারণ মানুষ ডিজিটাল সেবা সম্পর্কে সচেতন হবে এবং দেশ দ্রুত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত