
দিনাজপুরে ২ হাজার ৮৬২ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী মরিচের চাষাবাদে চাষিদের ভাগ্য ঘুরছে যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে ভালো ফলন হয়েছে মরিচের। বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে ক্ষেত থেকেই ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন মরিচ। চাষিরা দামও পাচ্ছেন ভালো।
মরিচ চাষাবাদের জন্যে বিখ্যাত দিনাজপুরের বিরল উপজেলা। দৃষ্টিনন্দিত এ মরিচের স্থানীয় নাম ‘বিরলের মরিচ’। এ মরিচ দেখতেই সুন্দর নয়, এর ঝালের খ্যাতিও রয়েছে। এ মরিচ দেখতে চিকন ও লম্বা ধরনের। স্বাদ, রঙ ও সৌন্দর্যে দেশের যেকোনো এলাকার মরিচের মধ্যে এটি অনন্য। প্রায় দেড়শ’ বছর ধরে বিরলের সর্বত্র মরিচের আবাদ হলেও সময়ের বিবর্তনে এ মরিচের চাষ বিলুপ্তপ্রায়। কিন্তু, এ মরিচ নতুনভাবে চাষ করে এবার ঘুরছে অনেক কৃষকের ভাগ্যের চাকা।
মরিচের চাষ ধরে রাখতে জগতপুর, বিষ্ণুপুর, রানীপুকুর, মির্জাপুর, কুকড়িবন ও কামদেবপুরসহ বিরল উপজেলার অসংখ্য কৃষক আবারও নতুন করে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। মরিচ ক্ষেতের পরিচর্যা, মরিচ তোলা ও বিক্রি নিয়েই এখন সময় পার করছেন এসব গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক কৃষক।
এলাকার রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত আদর্শ কৃষক মতিয়ার রহমানের মতে, বৈশাখণ্ডজ্যৈষ্ঠ মাসে জমি থেকে বোরো ধান তোলার পর উঁচু জমিতে শিটি মরিচের চাষ করা হয়। শ্রাবণ মাসে বীজ তৈরির কাজ শুরু হয়। ভাদ্র-আশ্বিন মাসে চারা রোপণ করা হয়। চারা রোপণের দুই মাসের মধ্যে শুরু হয় মরিচ তোলা। নিবিড় পরিচর্যার পর পৌষ মাসের ১৫ দিনের মধ্যে মরিচ তুলতে পারে চাষিরা। প্রতি মৌসুমে ফলন্ত মরিচের খেত থেকে তিনবার মরিচ সংগ্রহ করা যায়। শতক প্রতি এক মণেরও অধিক মরিচ পাওয়া যায়। মাঘ মাসে মরিচ পেকে লাল হয়ে যায়।
রানীপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক আযম জানান, বাপ-দাদাদের আমল থেকে এ এলাকার কৃষকরা মরিচের চাষ করেন। মরিচই এলাকার কৃষকদের প্রধান ফসল। তিনি এ বছর দুই বিঘা জমিতে মরিচের চাষ করেছেন। তিনি আরও জানান, বীজ সংরক্ষণের জন্য খেতের পাকা মরিচ (টোপা) সংরক্ষণ করা হয়। টোপা রোদে শুকিয়ে ড্রামের মধ্যে রেখে বীজ সংরক্ষণ করা হয়। বপনের মৌসুমে প্রতি কেজি বীজ ১০০থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। কামদেপুর গ্রামের মরিচ চাষি মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর আমি দেড় বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। বিঘাপ্রতি চাষ করতে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এরইমধ্যে অর্ধ লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করেছি। আশা করছি, আরও অর্ধ লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারব।’
কৃষক রমজান আলী জানান, সিটি মরিচ চাষে এবার রোগ-বালাই তেমন একটা না হলেও প্রচণ্ড শীতের কারণে গোঁড়া পচা রোগ হয়েছিল। তারপরও ফলন ভালো হয়েছে এবং দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে।
এ বিষয়ে দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আফজাল হোসেন জানান, দিনাজপুর জেলায় ২ হাজার ৮৬২ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে মরিচের রোপণ অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এবার মরিচ উৎপাদন হবে ১৫ হাজার ৯৫৬ টন।